জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প, আলোচনায় ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধ

ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধকে সামনে রেখে মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে চার মহাদেশের নেতাদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্য এবং সাড়ে চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে তার দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচিতে থাকছে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও দলীয় বৈঠক।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিনের শুরুতেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প। এরপর দ্বিপক্ষীয় ও দলীয় বৈঠক মিলিয়ে অন্তত ১১ জন বিশ্বনেতার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষণে কী বিষয় গুরুত্ব পাবে, তা এখনো জানা যায়নি। তবে গত বছর জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তিনি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। জলবায়ু নীতি ও ব্যাপক অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, এসব নীতির কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ‘নরকের দিকে যাচ্ছে’।
দিনের পরের অংশে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন এবং উপসাগরীয় দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান, বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প।
সন্ধ্যায় নেতাদের জন্য আয়োজিত এক সংবর্ধনায় আরও কয়েক ডজন নেতার সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য তার সাক্ষাৎ হতে পারে। এর আগে সোমবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে আরও বৈঠক যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
রয়টার্স লিখেছে, বিদেশি নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের এই দীর্ঘ বৈঠকসূচি তার দ্বিতীয় মেয়াদে পররাষ্ট্রনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরছে। এ মেয়াদে তিনি একাধিক যুদ্ধে জড়িয়েছেন, দীর্ঘদিনের মিত্রতার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, মিত্র দেশগুলোকে সামরিক আগ্রাসনের হুমকি দিয়েছেন এবং এক ডজনেরও বেশি সংঘাতের অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছেন। এসব উদ্যোগে সাফল্যের মাত্রা অবশ্য একরকম ছিল না।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এর মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধ বিশ্ব জুড়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে এবং নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া রিপাবলিকানদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
সোমবার প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমে ৩২ শতাংশে নেমেছে, যা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সর্বনিম্ন। জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে তার দলের সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ার মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রয়টার্স লিখেছে, ট্রাম্পের বৈঠকগুলোর একটি হবে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাত পক্ষের বৈঠক। এসব নেতার অনেকেই হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ইরান-সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠী ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রথম বৈঠকের দিকে তার রাজনৈতিক মিত্র ও বিরোধীরাও ঘনিষ্ঠ নজর রাখবেন। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা রয়েছে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থনে রদ্রিগেজ ক্ষমতায় ওঠেন।
ট্রাম্পের মিত্ররা বলছেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে মার্কিন বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করতে রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ডেমোক্র্যাট ও কয়েকজন রিপাবলিকান বলছেন, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে নতুন নির্বাচন আয়োজনের জন্য চাপ দিতে ট্রাম্প প্রশাসন যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি।
ডেনমার্ক ও দেশটির স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প একটি চুক্তিতে সই করবেন। এই চুক্তির লক্ষ্য গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিপক্ষগুলোর সামরিক উপস্থিতি সীমিত করা।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগের মন্তব্যের অবসান ঘটবে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে তিনি শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে পারেন।


















