খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০১: ৫৫
খালেদা জিয়া [১৫ আগস্ট ১৯৪৫ - ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫]

বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৫ আগস্ট)। গণআন্দোলনে সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয় পেয়ে সরকার গঠন করলে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরে আরও দুবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’র তকমা পাওয়া খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। ওই দিন ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

পরদিন ৩১ ডিসেম্বর দেশের ইতিহাসের অন্যতম জনাকীর্ণ জানাজায় খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানায় আপামর জনতা। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা আয়োজন করা হলেও সে দিন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পেরিয়ে একদিকে শ্যামলী, একদিকে শুক্রাবাদ, আরেক দিকে কারওয়ান বাজার পেরিয়ে মগবাজার, অন্য একদিকে মহাখালী পেরিয়ে যায় জানাজায় অংশ নিতে জড়ো হওয়া মানুষের সারি।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অন্যতম নেতৃত্বস্থানীয় ছিলেন খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত
এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অন্যতম নেতৃত্বস্থানীয় ছিলেন খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঢাকাসহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ দিন সকাল ১১টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হবে। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন। ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট, দিনাজপুর জেলায় ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে। তাদের আদি বাড়ি ফেনীতে। দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়ালেখা করেন তিনি। ১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় তার।

খালেদা জিয়ার জানাজায় জনতার ঢল। ছবি: সংগৃহীত
খালেদা জিয়ার জানাজায় জনতার ঢল। ছবি: সংগৃহীত

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর খালেদা জিয়া ফার্স্টলেডি হিসেবে তার সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন। ওই সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ও নেদারল্যান্ডসের রানি জুলিয়ানাসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তার।

১৯৮১ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালের মার্চে ভাইস-চেয়ারম্যান ও ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন তিনি।

খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিতে একটি অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতেই বিজয়ী হন।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

নিত্যপণ্যের দাম না কমালে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না: নাহিদ ইসলাম

এসময়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আপস করে নয়াদিল্লি সফর করলে জনগণ বুঝে নেবে তারেক রহমান খালেদা জিয়া ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করেন না।’

৭ ঘণ্টা আগে

আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।

১৩ ঘণ্টা আগে

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ আগস্ট ‘গণতন্ত্রের মা’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

১৩ ঘণ্টা আগে

প্রত্যর্পণ ইস্যু অমীমাংসিত রেখেই কি এগোবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক?

অর্থাৎ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যু প্রত্যর্পণকে আলাদা রেখে বাকি ক্ষেত্রগুলোতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার একটি সতর্ক কৌশল— এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নতুন কূটনৈতিক গতিপথের এটিই সবচেয়ে স্পষ্ট চিহ্ন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

১৭ ঘণ্টা আগে