রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি হেফাজতের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দ্রুত অপসারণ দাবি করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাও দাবি জানিয়েছে দলটি। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে এই দাবি জানান।

সংগঠনের যুগ্ম-মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা বলেন, ‌‘বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সাবেক অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর কথিত পদত্যাগপত্রের প্রাপ্তির কথা আগে রাষ্ট্রীয় ভাষণে দেশবাসীর সামনে স্বীকার করলেও সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অস্বীকার করে তিনি স্ববিরোধিতা এবং একইসাথে শপথ ভঙ্গ করেছেন। আমরা ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিশ্বস্ত এই রাষ্ট্রপতিকে জুলাই বিপ্লবের শত্রু মনে করি এবং তার দ্রুত অপসারণ দাবি করছি। জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে যারাই গাদ্দারি করবে, তারাই গণশত্রু হিসেবে প্রত্যাখ্যাত হবে।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নেতারা বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের বানানো জাতীয় দিবস ৭ মার্চ ও ১৫ অগাস্ট বাতিল করায় অন্তর্বর্তী সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। রক্তাক্ত জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পিতা একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করেন। তার বানানো রক্ষীবাহিনী নামক সন্ত্রাসী সংগঠনকে লেলিয়ে দিয়ে হাজার হাজার আলেম ওলামা ও বিরোধী নেতাকর্মী হত্যা করেন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালান ’

‘স্বাধীন বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ভোটডাকাতির নির্বাচনের নজির তৈরি করেন বাকশালী স্বৈরাচারী মুজিব। তার দলীয় লোকজনের সীমাহীন লুটপাটের ফলে চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হয়। সেই দুর্ভিক্ষে অনাহারে মারা যায় দেশের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।’

বাকশাল কায়েমের পর চারটি পত্রিকা বাদে আর সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ ঘোষণার কথা মনে করিয়ে দিয়ে হেফাজতের দুই শীর্ষ নেতা বিবৃতিতে বলেন, ‘মুজিব ফ্যাসিবাদী রাজত্বকে আরো নিরঙ্কুশ করতে সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় বাকশাল গঠন করেন। এভাবে লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বপ্নের ঘাতকে পরিণত হন ফ্যাসিস্ট মুজিব।’

‘মুজিবের বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তরের শাসনকাল চেপে রাখা হয়েছিল তারই অনুগামী স্বৈরাচারী কন্যা শেখ হাসিনার শাসনামলে। পিতার কুকীর্তি ঢাকতে একদল চাটুকার প্রগতিশীল সম্পাদক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী লালন-পালন করতেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা। নিজের পিতাকে জাতির পিতা বলে চাপিয়ে দেন।’

হেফাজতের নেতারা বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনা পিলখানা ও শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে গত জুলাই-আগস্টেও একের পর এক গণহত্যা চালান। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তিনি অবশেষে ভারতে পালিয়ে যান। বিডিআর হত্যা, ৫ মে শাপলা ও ২০২১ এবং ২০২৪ এর ছাত্র জনতার গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগসহ তার অঙ্গসঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোরাল আহ্বান জানাচ্ছি।’

তাদের এখনো নিষিদ্ধ না করায় ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ একের পর এক প্রতিবিপ্লবের ষড়যন্ত্র’ করার সুযোগ পাচ্ছে মন্তব্য করে হেফাজতে ইসলামের নেতারা বলছেন, ‘ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে আরো সংহত করে সফল করতে হলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো বিকল্প নেই।’

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করব— রয়টার্সকে শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ফেরার পর আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তারপরও আমাকে ফিরতে হবে। আমার দলের নেতাকর্মীরা ভয়াবহ দমন-পীড়নের শিকার। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই সেটা আমার নিজের মাটিতে আসুক— যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন, যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।’

২ দিন আগে

কোনোভাবেই আমি প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

শাহে আলম আরও বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় তারেক রহমান বড় হয়েছেন পড়াশোনা করেছে ঢাকা শহরে। আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা বগুড়া এবং শিবগঞ্জে। উনার সঙ্গে আমার রাজনৈতিকভাবে সাক্ষাতই হয়েছে ৯৩-৯৪ সালে, আমি ছাত্রদলের সেক্রেটারি হওয়ার পরে... যখন উনি বগুড়া যাওয়া আসা শুরু করেন।’

৩ দিন আগে

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে: রাশেদ

রাশেদ খানের ভাষ্য, মীর শাহে আলমকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরে তার সমালোচনার আড়ালে মূলত প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

৩ দিন আগে

জামায়াত-এনসিপিকে হারানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল ইন্টেরিমও— অভিযোগ শফিকুরের

শফিকুর রহমান বলেন, “ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের পরিচয় ছিল নিরপেক্ষ, দল নিরপেক্ষ। তারাও এই ষড়যন্ত্রে শরিক ছিল। এটা তারাই স্বীকার করেছে যে, ষড়যন্ত্র করে ১১ দলকে হারানো হয়েছে।”

৪ দিন আগে