গণভোটের রায়কে অপমান করেছে বিএনপি, প্রতিশোধ নিতে নেমেছি: জামায়াত আমির

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
শনিবার সকালে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পৌঁছালে সেখানে পথসভায় বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ছবি: জামায়াতের ফেসবুক পেজ
শনিবার সকালে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পৌঁছালে সেখানে পথসভায় বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ছবি: জামায়াতের ফেসবুক পেজ

গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার জনগণের সেই রায়কে অগ্রাহ্য করে তাদের অপমান করেছে। আর সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।

লংমার্চের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনাদের দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। কোনো দলীয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে ঘোষিত আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় রূপ নিতে পারে।

রংপুর অভিমুখী এই কর্মসূচির বিভিন্ন দাবির কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, ‘শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের উদ্দেশে আমাদের লংমার্চ শুরু হয়েছে। আমাদের লংমার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, রাস্তাঘাট ও হাটবাজারসহ সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার দাবিতে। আমাদের এই লংমার্চ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে। আমাদের এই লংমার্চ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আমাদের এই লংমার্চ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের দাবিতে।’

এরপর গণভোটের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা গণভোটে হ্যাঁ বলেছিলেন ৭০ ভাগ মানুষ। সরকার আপনাদের গণভোটকে অগ্রাহ্য করে আপনাদের অপমান করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা নেমেছি। জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন ইনশাআল্লাহ এই বাংলার মাটিতে হবে। ওই বিএনপিই করতে বাধ্য হবে। পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে।’

গাজীপুরের এই পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ। কর্মসূচির উদ্বোধনী সমাবেশে শফিকুর রহমান সরকারকে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

সেখানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বিরোধী দলের আট দফা দাবি এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি ‘খুবই ভয়াবহ’ হয়ে উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দাবি পূরণে ব্যর্থ হলে কোনো ধরনের চোখরাঙানি কাজে আসবে না এবং বিরোধী দল কোনো কিছুতেই পরোয়া করবে না বলেও জানান বিরোধী দলীয় নেতা।

চট্টগ্রামমুখী আগের লংমার্চের প্রসঙ্গও আসে তার বক্তব্যে। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, চট্টগ্রামমুখী লংমার্চ সফল হওয়ায় অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। এর কিছু লক্ষণ দুই দিন ধরে রাজধানীতে দেখা যাচ্ছে। তারা যেন হতাশ হয়ে মাথা গরম না করে জনতার দাবি মেনে নেয়।

উদ্বোধনী সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম এবং দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এতে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন। পাশাপাশি জুলাই গণহত্যার বিচার, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকটের সমাধান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধের দাবিও রয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও জানানো হয়েছে।

১১ দলীয় ঐক্যের এটি দ্বিতীয় বড় লংমার্চ। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জোটের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সামনে খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া, সিলেট ও ঢাকায় আরও কর্মসূচি আয়োজনের কথা রয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement