
আবদুল গাফফার রনি

গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাই কি সেরা নাকি সমাজতান্ত্রিক?
কে সেরা, সে বিচারে ভার আমাকে কেউ দেয়নি। আমি বিচার করতেও যাব না। আমি শুধু দেখতে চাই, দেখাতে চাই গণতন্ত্রের গলদটা কোথায়।
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র জনগণই ক্ষমতার উৎস। সেটা আজকাল কেউ মানে বলে মনে হয় না। সে বাংলাদেশেই হোক বা যুক্তরাষ্ট্র—ক্ষমতাসীন নেতাদের সবাই নিজেদের সর্বেসর্বা মনে করে। গণতন্ত্রের অন্যতম পুরোধা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় বলেছিলেন, ‘গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল।’
এর সরল অর্থ হলো, গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের অংশগ্রহণে গঠিত, জনগণের দ্বারা পরিচালিত এবং জনগণের জন্য কাজ করবে। অর্থাৎ এটা এমন এক সরকার, যেখানে জনগণই সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠে।
কথাটা সত্য, কিন্তু গণতন্ত্রের বেশ কিছু প্যারাডক্স আছে। যেগুলো এর মূল বক্তব্যকেই খারিজ করে দেয়।
গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো, জনগণের ইচ্ছায় এখানে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্টিত হয় একটা রাজনৈতিক দল। তাঁরা সরকার গঠন করেন। ক্ষমতায় কারা বসবেন সে ভার ছেড়ে দেওয়া হয় জনগণের ওপরে। জনগণ যাঁকে নির্বাচিত করবেন তিনিই হবেন শাসক। কথা হলো জনগণের সবাই কেন একমত হবে একজনের ব্যাপারেই?
এজন্যই তো ভোটের ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় দেশের যেকোনো আঠারো বছরের বেশি বয়সী নাগরিক যেমন ভোট দিতে পারেন, তেমনি ভোটাধিকার প্রাপ্ত যেকোনো নাগরিক দাঁড়াতে পারেন নির্বাচনে।
ধরা যাক, ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন মতি মিয়া আর সুভাষ কর্মকার।
মতি মিয়া পণ্ডিত মানুষ, অসাধারণ বক্তা। সুভাষ লেখাপড়া কম জানেন, বক্তব্যের বুলি আউড়াতেও তিনি পারদর্শী নন। তিনি সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি।
নির্বচনী প্রচারে মতি মিয়া নিজের জ্ঞানভাণ্ডার উন্মুক্ত করে বক্তৃতা দিলেন। জনগণের অধিকারের কথা বললেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সবার অধিকার সমান। সেই ব্যাপারটার প্রতিও জোর দিতে ভুললেন না। চারপাশে ধন্য ধন্য রব উঠল। স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে চলল মতি মিয়ার পক্ষে নীর্বচনী হাওয়া।
অন্যদিকে সুভাষ বেশি কিছু বোঝেন না, জানেন না কথার মারপ্যাঁচও। তার বক্তৃতাও হলো সাদামাটা। তারওপর আবার সংখ্যালঘু গোষ্ঠী থেকে আসা মানুষ তিনি। তাঁর নির্বাচনী সভায় এক শ লোকও জড়ো হয় না। যারা আসে, এদের বেশিরভাগই সংখ্যালঘু, বাকি যারা আসে, তারা কেবল স্রেফ তামাশা দেখার জন্যই আসে। আবার গাঁয়ের সব সংখ্যালঘুই যে সুভাষের পক্ষে আছে, তেমনটা নয়—চার ভাগের ১ ভাগ সংখ্যালঘু ভিড়েছে মতি মিয়ার দলে। এসব সংখ্যালঘুরা বুদ্ধিমান। তারা জানে, যত চেষ্টাই করুক সুভাষের পক্ষে এ লড়াই জেতা সম্ভব নয়।
যথারীতি নিবর্চান হলো, ভরাডুবি হলো সুভাষ কর্মকারের। মতি মিয়ার জয়জয়কার। চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসলেন মতি মিয়া। ভালোই চলছিল। সাধারণ মানুষের একাংশ অর্থাৎ বৃহত্তর অংশ খুশি। কিন্তু সমস্যা হলো সংখ্যালঘুদের নিয়ে।
তারা এখন কোণঠাসা। তারা আগে গ্রামে পুজোর সময় মেলা করত, এবার সেটা বন্ধ করতে হলো। কারণ কিছু লোকের আপত্তি। তাদের সমাজে এসব চলবে না। মেলার মাঠে নাকি নোংরামি হয়। তাছাড়া পুজোর সময় ঢাক ঢোল বাজে—এতে অন্যদের অসুবিধা হয়। অথচ যুগযুগ ধরে সংখ্যালঘুরা তাঁদের এই উৎসব পালন করছে। সুভাষ ব্যাপারটা গিয়ে মতি মিয়াকে বলেন। মতি মিয়া আশ্বাস দেন—সুরাহা একটা হবেই।
কিন্তু সুরাহা করতে পারলেন না। কারণ, তার পক্ষের জনগণ বাগড়া দিচ্ছেন। বলছেন তাঁদের সমস্যা হয়। বিশেষ করে মন্দিরের আশপাশে যাদের বাড়ি, তাঁদের জন্য পুজোর সময়টা নাকি খুব খারাপ যায়। ভিড়ের ঠেলায় বাড়িতে ঢোকা যায় না রাস্তায়। বাড়ির মেয়েদের মেলার দর্শনার্থীরা টিজ করে। কেউ কেউ বাড়িতে চুপিসারে ঢুকে এটা-ওটা চুরি করে পালায়।
আরেক প্রতিবেশী জানায়, তার বাড়ির বাচ্চারা মন্দিরের ঢোলের আওয়াজে ঘুমাতে পারেন না। সুতরাং এবার পুজো-মেলা দুটোই বন্ধ করতে হবে।
বেশ ভাবনায় পড়ে গেলেন মতি মিয়া। তিনি গণতন্ত্র মেনে চলা নীতিবান মানুষ। কোনো গোষ্ঠীর সামাজিক ও ধর্মীয় আচার-উৎসব করা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।
মতি মিয়া সময় চাইলেন। কিন্তু বেশি দেরি করাও চলবে না, কারণ পুজোর বেশি দেরি নেই।
একদিন সভা বসল মতিমিয়ার কাউন্সিলে, প্রতিটা পরিবার থেকে একজন করে লোক অংশ নিলেন সেই সভায়। এনারা সবাই যার যার পরিবারের কর্তা।
সভায় অনেক বাকবিতণ্ডা হলো, শেষমেষ সমাধানের জন্য মতি মিয়া ভোটের ব্যবস্থা করলেন। মোট ৯৬০ পরিবারের ৯৬০ জন লোক উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে সংখ্যালঘুর সংখ্যা মাত্র ৪৫ জন। সুতরাং ভোটে সংখ্যাগুরারই জিতবেন, সেটাই স্বাভাবিক।
হলোও তাই। কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ হলো গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের নিয়মানুযায়ী ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকারে বসে জনগণের জন্য কাজ করবেন। সুতরাং, সংগরিষ্ঠের ভোট যিনি পাবেন তিনিই তো জয়ী। আর জয়ী প্রতিনিধিরাই জনগণের জন্য আইন প্রণয়ন করবেন, রক্ষা করবেন জনগণের স্বার্থ। জনগণের জন্য যেসব আইন প্রণয়ন করবেন, সেগুলোও সংখ্যাগরিষ্ঠে প্রতিনিধির মতামতের ভিত্তিতে প্রণয়ন করতে হবে।
অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা গণতান্ত্রিক সিস্টেমের মূল চালিকাশক্তি? কিন্তু মূলমন্ত্রও কি তাই?
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্রগুলির অন্যতম হলো, প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যদি সংখ্যালঘুর মৌলিক অধিকার দিতে রাজি না হন। তাদের অধিকারের জন্য আইন প্রণয়ন করতে গিয়ে সংগরিষ্ঠ প্রতিনিধির সম্মতি যদি না মেলে? এর সমাধান গণতন্ত্রে কোথায়?
সমাধান নেই। কারণ এটা একটা প্যারাডক্স, বিশ্ব যেটা ডেমোক্রেসি প্যারাডক্স নামে পরিচিত।
প্যারাডক্স—তার কারণ—গণতন্ত্র বলছে সংখ্যালঘুর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করছে, অথচ সেই অধিকারের ভার ছেড়ে দিতে হচ্ছে সংখ্যাগুরুর হাতে। এই লুপহোল থেকে আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ এমনকী পৃথিবী যে বেরুতে পারেনি বা সহসাই পারছে না—তার কু-প্রভাব বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমান।
এজন্য বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা, পাহাড়ীরা, ভিন্নমতাবলম্বীরা সমান অধিকার পান না, ভারতে মুসলিম বা শিখেরা নির্যাতিত হন, যুক্তরাষ্ট্রে এখনো কালোদের অধিকার নিশ্চিত হয়নি।

গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাই কি সেরা নাকি সমাজতান্ত্রিক?
কে সেরা, সে বিচারে ভার আমাকে কেউ দেয়নি। আমি বিচার করতেও যাব না। আমি শুধু দেখতে চাই, দেখাতে চাই গণতন্ত্রের গলদটা কোথায়।
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র জনগণই ক্ষমতার উৎস। সেটা আজকাল কেউ মানে বলে মনে হয় না। সে বাংলাদেশেই হোক বা যুক্তরাষ্ট্র—ক্ষমতাসীন নেতাদের সবাই নিজেদের সর্বেসর্বা মনে করে। গণতন্ত্রের অন্যতম পুরোধা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় বলেছিলেন, ‘গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল।’
এর সরল অর্থ হলো, গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের অংশগ্রহণে গঠিত, জনগণের দ্বারা পরিচালিত এবং জনগণের জন্য কাজ করবে। অর্থাৎ এটা এমন এক সরকার, যেখানে জনগণই সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠে।
কথাটা সত্য, কিন্তু গণতন্ত্রের বেশ কিছু প্যারাডক্স আছে। যেগুলো এর মূল বক্তব্যকেই খারিজ করে দেয়।
গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো, জনগণের ইচ্ছায় এখানে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্টিত হয় একটা রাজনৈতিক দল। তাঁরা সরকার গঠন করেন। ক্ষমতায় কারা বসবেন সে ভার ছেড়ে দেওয়া হয় জনগণের ওপরে। জনগণ যাঁকে নির্বাচিত করবেন তিনিই হবেন শাসক। কথা হলো জনগণের সবাই কেন একমত হবে একজনের ব্যাপারেই?
এজন্যই তো ভোটের ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় দেশের যেকোনো আঠারো বছরের বেশি বয়সী নাগরিক যেমন ভোট দিতে পারেন, তেমনি ভোটাধিকার প্রাপ্ত যেকোনো নাগরিক দাঁড়াতে পারেন নির্বাচনে।
ধরা যাক, ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন মতি মিয়া আর সুভাষ কর্মকার।
মতি মিয়া পণ্ডিত মানুষ, অসাধারণ বক্তা। সুভাষ লেখাপড়া কম জানেন, বক্তব্যের বুলি আউড়াতেও তিনি পারদর্শী নন। তিনি সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি।
নির্বচনী প্রচারে মতি মিয়া নিজের জ্ঞানভাণ্ডার উন্মুক্ত করে বক্তৃতা দিলেন। জনগণের অধিকারের কথা বললেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সবার অধিকার সমান। সেই ব্যাপারটার প্রতিও জোর দিতে ভুললেন না। চারপাশে ধন্য ধন্য রব উঠল। স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে চলল মতি মিয়ার পক্ষে নীর্বচনী হাওয়া।
অন্যদিকে সুভাষ বেশি কিছু বোঝেন না, জানেন না কথার মারপ্যাঁচও। তার বক্তৃতাও হলো সাদামাটা। তারওপর আবার সংখ্যালঘু গোষ্ঠী থেকে আসা মানুষ তিনি। তাঁর নির্বাচনী সভায় এক শ লোকও জড়ো হয় না। যারা আসে, এদের বেশিরভাগই সংখ্যালঘু, বাকি যারা আসে, তারা কেবল স্রেফ তামাশা দেখার জন্যই আসে। আবার গাঁয়ের সব সংখ্যালঘুই যে সুভাষের পক্ষে আছে, তেমনটা নয়—চার ভাগের ১ ভাগ সংখ্যালঘু ভিড়েছে মতি মিয়ার দলে। এসব সংখ্যালঘুরা বুদ্ধিমান। তারা জানে, যত চেষ্টাই করুক সুভাষের পক্ষে এ লড়াই জেতা সম্ভব নয়।
যথারীতি নিবর্চান হলো, ভরাডুবি হলো সুভাষ কর্মকারের। মতি মিয়ার জয়জয়কার। চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসলেন মতি মিয়া। ভালোই চলছিল। সাধারণ মানুষের একাংশ অর্থাৎ বৃহত্তর অংশ খুশি। কিন্তু সমস্যা হলো সংখ্যালঘুদের নিয়ে।
তারা এখন কোণঠাসা। তারা আগে গ্রামে পুজোর সময় মেলা করত, এবার সেটা বন্ধ করতে হলো। কারণ কিছু লোকের আপত্তি। তাদের সমাজে এসব চলবে না। মেলার মাঠে নাকি নোংরামি হয়। তাছাড়া পুজোর সময় ঢাক ঢোল বাজে—এতে অন্যদের অসুবিধা হয়। অথচ যুগযুগ ধরে সংখ্যালঘুরা তাঁদের এই উৎসব পালন করছে। সুভাষ ব্যাপারটা গিয়ে মতি মিয়াকে বলেন। মতি মিয়া আশ্বাস দেন—সুরাহা একটা হবেই।
কিন্তু সুরাহা করতে পারলেন না। কারণ, তার পক্ষের জনগণ বাগড়া দিচ্ছেন। বলছেন তাঁদের সমস্যা হয়। বিশেষ করে মন্দিরের আশপাশে যাদের বাড়ি, তাঁদের জন্য পুজোর সময়টা নাকি খুব খারাপ যায়। ভিড়ের ঠেলায় বাড়িতে ঢোকা যায় না রাস্তায়। বাড়ির মেয়েদের মেলার দর্শনার্থীরা টিজ করে। কেউ কেউ বাড়িতে চুপিসারে ঢুকে এটা-ওটা চুরি করে পালায়।
আরেক প্রতিবেশী জানায়, তার বাড়ির বাচ্চারা মন্দিরের ঢোলের আওয়াজে ঘুমাতে পারেন না। সুতরাং এবার পুজো-মেলা দুটোই বন্ধ করতে হবে।
বেশ ভাবনায় পড়ে গেলেন মতি মিয়া। তিনি গণতন্ত্র মেনে চলা নীতিবান মানুষ। কোনো গোষ্ঠীর সামাজিক ও ধর্মীয় আচার-উৎসব করা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।
মতি মিয়া সময় চাইলেন। কিন্তু বেশি দেরি করাও চলবে না, কারণ পুজোর বেশি দেরি নেই।
একদিন সভা বসল মতিমিয়ার কাউন্সিলে, প্রতিটা পরিবার থেকে একজন করে লোক অংশ নিলেন সেই সভায়। এনারা সবাই যার যার পরিবারের কর্তা।
সভায় অনেক বাকবিতণ্ডা হলো, শেষমেষ সমাধানের জন্য মতি মিয়া ভোটের ব্যবস্থা করলেন। মোট ৯৬০ পরিবারের ৯৬০ জন লোক উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে সংখ্যালঘুর সংখ্যা মাত্র ৪৫ জন। সুতরাং ভোটে সংখ্যাগুরারই জিতবেন, সেটাই স্বাভাবিক।
হলোও তাই। কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ হলো গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের নিয়মানুযায়ী ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকারে বসে জনগণের জন্য কাজ করবেন। সুতরাং, সংগরিষ্ঠের ভোট যিনি পাবেন তিনিই তো জয়ী। আর জয়ী প্রতিনিধিরাই জনগণের জন্য আইন প্রণয়ন করবেন, রক্ষা করবেন জনগণের স্বার্থ। জনগণের জন্য যেসব আইন প্রণয়ন করবেন, সেগুলোও সংখ্যাগরিষ্ঠে প্রতিনিধির মতামতের ভিত্তিতে প্রণয়ন করতে হবে।
অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা গণতান্ত্রিক সিস্টেমের মূল চালিকাশক্তি? কিন্তু মূলমন্ত্রও কি তাই?
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্রগুলির অন্যতম হলো, প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যদি সংখ্যালঘুর মৌলিক অধিকার দিতে রাজি না হন। তাদের অধিকারের জন্য আইন প্রণয়ন করতে গিয়ে সংগরিষ্ঠ প্রতিনিধির সম্মতি যদি না মেলে? এর সমাধান গণতন্ত্রে কোথায়?
সমাধান নেই। কারণ এটা একটা প্যারাডক্স, বিশ্ব যেটা ডেমোক্রেসি প্যারাডক্স নামে পরিচিত।
প্যারাডক্স—তার কারণ—গণতন্ত্র বলছে সংখ্যালঘুর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করছে, অথচ সেই অধিকারের ভার ছেড়ে দিতে হচ্ছে সংখ্যাগুরুর হাতে। এই লুপহোল থেকে আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ এমনকী পৃথিবী যে বেরুতে পারেনি বা সহসাই পারছে না—তার কু-প্রভাব বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমান।
এজন্য বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা, পাহাড়ীরা, ভিন্নমতাবলম্বীরা সমান অধিকার পান না, ভারতে মুসলিম বা শিখেরা নির্যাতিত হন, যুক্তরাষ্ট্রে এখনো কালোদের অধিকার নিশ্চিত হয়নি।

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’ উল্লেখ করে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আমরা সবসময় সবকিছু সোজা পথে পাই না। আজকে আবার বিভিন্নভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা বিভিন্নভাবে সমস্যা তৈরি করছেন, আইনশৃঙ্খলা পর
৫ দিন আগে
সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।
৫ দিন আগে
বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না
৭ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাজেটের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে চাইলেও বিরোধীদল তা মানছে না; তবে ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
৮ দিন আগে