রাউজানে সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত, গিয়াস কাদেরের সব পদ স্থগিত

চট্টগ্রাম ব্যুরো
মঙ্গলবার রাউজানে সংঘর্ষের সময় গোলাম আকবর খন্দকারের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ইনসেটে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। ছবি: রাজনীতি ডটকম

দলের দুই কেন্দ্রীয় নেতার অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দলীয় সব পদ স্থগিত করা হয়েছে। দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে স্থানীয় আরও কয়েকজন নেতাকে।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীর সই করা আলাদা দুই বিজ্ঞপ্তিতে দলের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার এবং দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গোলাম আকবর খোন্দকারসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গোলাম আকবরের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

এ ঘটনার পর রুহুল কবির রিজভীর সই করা চিঠিতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে চিঠিতে কমিটি বিলুপ্ত করার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। শিগগিরই আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে।

এর আগে ২০২২ সালের ২০ জুলাই গোলাম আকবর খোন্দকারকে আহ্বায়ক করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির ৪৪ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

এদিকে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দলীয় পদ-পদবি স্থগিতের চিঠিতে তার বিরুদ্ধে কয়েকমাস ধরে নিজ এলাকায় দলের ভেতরে হানাহানি ও সংঘাতে মদত দেওয়ার সুস্পষ্ট অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে গিয়াস কাদেরের উদ্দেশে বলা হয়, আপনাকে বারবার দল থেকে সতর্ক করার পরও আপনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। সুতরাং দলের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী আপনার প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হলো।

CTG-Raujan-BNP-Clash-01-Photo-30-07-2025

মঙ্গলবার বিকেলে রাউজানে স্থানীয় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ছবি: রাজনীতি ডটকম

রাতে রুহুল কবির রিজভীরই সই করা তৃতীয় আরেক চিঠিতে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের পাঁচ নেতাকে দলের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও দলের ভেতরে সংঘাত ও হানাহানি তৈরি করে দলীয় শৃঙ্খলা চরমভাবে লঙ্ঘন করার সুস্পষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত এই পাঁচ নেতা হলেন— চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, বারৈয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম মিয়াজী, যুবদল নেতা সিরাজুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে রাউজান পৌরসভা সদরের সুলতানপুরে গোলাম আকবর খোন্দকার চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও রাউজান উপজেলার সাবেক সভাপতি প্রয়াত মহিউদ্দিন আহমেদের কবর জেয়ারতের জন্য নেতাকর্মীদের নিয়ে যাচ্ছিলেন। একই সময়ে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা পৌর সদরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করে। পৌরসভার ছত্তারহাট এলাকায় দুপক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সংসদে ‘যৌক্তিক’ বিরোধী দল হতে চায় জামায়াত

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ তাদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠিয়েছে। তাই তারা যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করবেন।

৫ দিন আগে

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’, প্রতিহতের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’ উল্লেখ করে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আমরা সবসময় সবকিছু সোজা পথে পাই না। আজকে আবার বিভিন্নভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা বিভিন্নভাবে সমস্যা তৈরি করছেন, আইনশৃঙ্খলা পর

৬ দিন আগে

বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন— জবাবে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।

৬ দিন আগে

‘জিয়াউর রহমান আর ১০ বছর বাঁচলে বাংলাদেশ অনন্য দেশ হতো’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না

৮ দিন আগে