১০ এপ্রিলের মধ্যে বিএনপি ‘হুঁশ না ফিরলে’ আন্দোলন: এনসিপি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
রোববার দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপি। ছবি: এনসিপির ফেসবুক পেজ

ক্ষমতাসীন বিএনপির মধ্যে ‘স্বৈরাচারের লক্ষণ’ ফুটে উঠছে বলে মনে করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, গণভোটের রায় মেনে না নিলে তারা বিএনপি সরকারকে ‘অবৈধ সরকার’ আখ্যা দেবেন। পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

আসিফ বলেন, সামনের দিনে আমাদের বড় পরিসরে আন্দোলনে নামতে হতে পারে। সেটা কারও জন্যই ভালো হবে না। ওভারঅল বাংলাদেশের জন্যও ক্ষতির কারণ হবে। তাই আমরা আপনাদের আহ্বান জানাই, আপনারা হুঁশে ফিরে আসুন। তা না হলে জনগণের কাছে ফিরে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর উপায় নেই।

রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকার নিয়ে এনসিপির এমন অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। এ সময় এনসিপির মুখপাত্র বিএনপির মধ্যে ‘স্বৈরাচারের সব লক্ষণ’ দেখতে পাচ্ছেন উল্লেখ করে বলেন, ১০ এপ্রিলের মধ্যে বিএনপি ‘হুঁশ না ফিরলে’ তারা জনগণকে নিয়ে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

এনসিপির এমন অবস্থানের নেপথ্যে কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ। নিয়ম বলছে, এসব অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করে পাস করা না হলে সেগুলো বাতিল হয়ে যবে। সংসদ অধিবেশন বসার পর সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ে ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

ওই কমিটির সুপারিশে চারটি অধ্যাদেশ বাতিল ও ১৬টি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ এখনই আইনে পরিণত হচ্ছে না। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশসহ গুম, দুদক ও গণভোট অধ্যাদেশ।

বিএনপি সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করছে না অভিযোগ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন আলোচনায় জিয়াউর রহমানের সময়কার গণভোটের সঙ্গে এবারের গণভোটকে তুলনা করা হয়। কিন্তু সেই গণভোটের সঙ্গে এটার পার্থক্য রয়েছে। জিয়াউর রহমানের সময় মূলত গণভোটের মাধ্যমে লেজিটিমিসি নিয়ে বিভিন্ন প্রসেসের মাধ্যমে এজেন্সিকে ব্যবহার করে একটা কিংস পার্টি তৈরির জন্যই মূলত ওই প্রক্রিয়াটা করা হয়েছিল। আর এবারের গণভোটটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে।

সরকারের উদ্দেশে এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, সংস্কারের পক্ষে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করেছে। এই ভোটের রায় যদি আপনারা না মানেন, তাহলে আমরা সেদিন থেকেই এই সরকারকে ‘অবৈধ সরকার’ বলা শুরু করব এবং আমরা এটার জন্য সময় নেব না। আপনারা যেমন আমাদের সব অর্জন ধুলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছেন না, আমরাও তেমন সময় নেব না।

বিএনপি নেতাদের ‘সংবিধানপ্রীতি’রও সমালোচনা করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। বলেন, আমরা বারবার তাদের সংবিধানের কথা বলতে শুনি। সারাক্ষণ সংবিধান সংবিধান শুনতে শুনতে মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ এখন বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতেও সংবিধানকে টেনে আনছে। এরপর আমরা দেখলাম, প্রশাসক নিয়োগ করে তারা সংবিধানের লঙ্ঘন করলেন। সংবিধানে বলা আছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যেকোনো সময় অপসারণের ক্ষমতা সরকারের নির্বাহী বিভাগের কাছে রেখে দেওয়া হচ্ছে, যেন বিরোধী দলের যে কেউ নির্বাচিত হলে তাকে যেকোনো সময় অপসারণ করা যায়। অথবা অপসারণের ভয় দেখিয়ে তাকে সরকারের অনুগত করা যায়। এটা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত হুমকি ও এটা সুস্পষ্ট সংবিধানের লঙ্ঘন।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসানোর সমালোচনা করে আসিফ বলেন, বিগত সরকারের সময় আমরা ফ্যাসিবাদ দেখেছি, এখন স্বৈরাচারের সব লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। এই যে প্রশাসক বসানো, এগুলো স্বৈরাচারের খুব পরিচিত প্রক্রিয়া। এর মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের জন্ম হয়।

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি, আমরা আপনাদের সহায়তা করতে চাই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য। বিরোধী জোটের কোনো চিন্তাই ছিল না এত দ্রুত রাজপথে নামার। আমরা চিন্তা করছিলাম স্থানীয় নির্বাচনের দিকে ফোকাস করব। কিন্তু যে পরিস্থিতিতে আপনারা আমাদের ফেলেছেন, আমাদের এমপিরা কথা বলতে পারছেন না। কথা বললেও তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে রাজপথে নামা ছাড়া আর উপায় নেই।

এনসিপির দাবি তুলে ধরে দলটির মুখপাত্র বলেন, আমাদের দাবি, স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশসহ যে অধ্যাদেশগুলো সেই সময়ের প্রয়োজনে করা হয়েছিল, সেগুলোকে বাতিল করতে হবে এবং বাকিগুলো আইনে পরিণত করতে হবে। আমরা আপনাদের সদিচ্ছার বহির্প্রকাশ দেখতে চাই।

এর আগে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, আসিফ মাহমুদরা যখন সরকারে ছিল তখন তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু অধ্যাদেশ করেছিল। এখন বিএনপি সেগুলো আইনে পরিণত করতে চায়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কলমের এক খোঁচায় নির্বাহী আদেশে বাতিল করার ক্ষমতা নিজেদের কাছে নিতে চায়। অর্থাৎ তারা দেশকে পাকিস্তান আমলের আইয়ুব খানের সময়কার ‘বেসিক ডেমোক্রেসি’র জামানায় ফিরিয়ে নিতে চায়।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসানো ও নির্বাহী জনপ্রতিনিধিদের বাতিল করার ক্ষমতা হাতে রাখার বিধান বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেন সারোয়ার তুষার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে ‘দলীয়করণ’ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদ থেকে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করার মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গণভোটের রায়কেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় বলে অভিযোগ করেন তুষার। তিনি বলেন, এগুলো বাতিল করার মধ্য দিয়ে তারা মূলত বাংলাদেশকে একটি সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। উই আর পাসিং ডার্ক ডেইজ ইন আওয়ার ডেমোক্রেটিক হিস্ট্রি।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন— জবাবে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।

৪ দিন আগে

‘জিয়াউর রহমান আর ১০ বছর বাঁচলে বাংলাদেশ অনন্য দেশ হতো’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না

৬ দিন আগে

সরকার স্বস্তি দিতে চায়, বিরোধীদল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাজেটের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে চাইলেও বিরোধীদল তা মানছে না; তবে ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

৭ দিন আগে

প্রস্তাবিত বাজেট কথার ফুলঝুরি, রাজনৈতিক চমকবাজি: জাসদ

প্রস্তাবিত এ বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলটি বলছে, বজেটের আকার বড় দেখানোর জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এই বিশালাকৃতির বাজেট অবাস্তব এবং কোনোভাবেই অর্জনযোগ্য নয়।

৯ দিন আগে