আ.লীগ নেতার গাড়িতে নাসীরুদ্দীন পাওয়ারীর লংমার্চ: রাশেদ খাঁন

১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত লংমার্চ কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যে গাড়ি নিয়ে অংশ নিয়েছেন, সেটি রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের একজন নেতার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
লংমার্চে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ব্যবহার করা গাড়ির ছবির পাশাপাশি মূল মালিকের সঙ্গে গাড়ির ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন রাশেদ। প্রশ্ন তুলেছেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এ ঘটনা আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পদ দখলের নমুনা কি না। এ কারণেই লংমার্চে আওয়ামী লীগবিরোধী কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি বলেও যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করেছেন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে বিষয়টি তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। সেখানে তার দেওয়া তথ্য বলছে, গাড়িটি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের একজন নেতার।
পোস্টের সঙ্গে রাশেদ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন। একটি ছবিতে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে পাশাপাশি দেখা যায় মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়াকে। আরেকটি ছবিতে একটি প্রাডো গাড়িতে দেখা যায় মনিরুলকে, যেখানে তার পরিচয় বলা হয়েছে মাদারীপুর বণিক সমিতি ও মাদারীপুর সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান।
মনিরুলকে কালের রঙের যে প্রাডো গাড়িতে দেখা গেছে তার নম্বরপ্লেটে দেখা গেছে ‘ঢাকা মেট্রো ঘ ১৭-২৭৪৮’ নম্বর। পরে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লংমার্চে যে গাড়ি ব্যবহার করেছেন, তার নম্বরও দেখা গেছে একই।
এমন একটি বিলাসবহুল গাড়িতে করে নাসীরুদ্দীনের লংমার্চে অংশগ্রহণ নিয়ে শনিবারই প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে নাসীর বলেছিলেন, ‘লংমার্চে কীভাবে যাব— এ নিয়ে গতকাল (শুক্রবার) রাতে অনেকেই ফোন করে বলেছেন, আপনার তো গাড়ি নেই, কীভাবে যাবেন? তখন এক শুভাকাঙ্ক্ষী জানিয়েছেন, তিনি আমার জন্য গাড়ি নিয়ে আসছেন। আমি তাকে বলেছি, গাড়ি নিয়ে চলে আসেন।’
তবে গাড়িটি কে দিয়েছেন, তা জানাতে চাননি নাসীরুদ্দীন। তিনি বলেন, ‘কে দিয়েছেন, সেটা বলা যাবে না। তাহলে তার গাড়ি ভেঙে দিতে পারে। ইনশাআল্লাহ, সবাই দোয়া করবেন, যাতে ভালো একটা গাড়ি কিনতে পারি।’
নাসীরুদ্দীনের ব্যবহার করা এ গাড়ি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ লিখেছেন, ‘মন্ত্রীপাড়ায় নাহিদ ইসলামের বাড়িতে আলোচনার সময় নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী সবসময় বলত, আওয়ামী লীগের বাড়িঘর, ধনসম্পদ দখল করতে হবে। তার কিছুটা নমুনা পাওয়া গেল!’
রাশেদ লিখেছেন, “গতকাল আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়ি করে ‘লং ড্রাইভ’ করেছে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী। আওয়ামী লীগ নেতাকে নিরাপত্তা দেওয়ার কারণে গাড়িটি উপহার দিয়েছে, নাকি আওয়ামী লীগের সম্পদ দখলের খায়েশ থেকে গাড়িটি দখল করেছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।”
নাসীরুদ্দীনের আওয়ামী লীগ নেতার গাড়ি ব্যবহারের সঙ্গে লংমার্চে দেওয়া বক্তব্যের যোগসূত্রের ইঙ্গিত করে রাশেদ বলেন, ‘গতকালের লংমার্চের পিকনিক থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে কেনো বক্তব্য কেন ছিল না, তা বোঝার চেষ্টা করুন। কারণ এই লংমার্চের উদ্দেশ্যই ছিল শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বরে ফিরিয়ে আনার প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করা।’
রাশেদ আরও লিখেছেন, ‘সে লক্ষ্যেই উসকানিমূলক স্লোগান ও বহরে লাঠিসোঁটা নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু বিএনপি বা অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জামায়াতের পাতানো ফাঁদে পা দেয়নি। দেখা যাক, এ বিষয়ে এনসিপি দলীয় কোন ব্যবস্থা নেয় কি না!’


















