সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ছাড়া কার্যকর গণতন্ত্র সম্ভব নয়: নাহিদ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ছাড়া কার্যকর গণতন্ত্র সম্ভব নয়: নাহিদ

বাংলাদেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত না হলে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের অর্থ শুধু ভোট বা রাজনৈতিক অধিকার নয়। সব সম্প্রদায়ের মানুষের স্বাধীনভাবে উৎসব পালন এবং নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকারও গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা ছাড়া আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব না। সেই গণতন্ত্র কার্যকরও হবে না।’

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নাহিদ বলেন, এনসিপি অতীতেও ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এসেছে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে চায়।

অতীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সরকার নীরব থেকেছে। কখনো কখনো এসব কর্মকাণ্ডে পরোক্ষ সমর্থনও ছিল। এর ফলেই দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই এনসিপি বিচারব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করার লড়াইও এর অংশ।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণভোটের রায় কার্যকর করা গেলে দেশের বিচারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলেও মনে করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সব মানুষের বিচার পাওয়ার কার্যকর পরিবেশ তৈরি হবে।

সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, সরকার কিংবা বিরোধী দল, রাজনৈতিক অবস্থান যা-ই হোক না কেন, দেশে শান্তি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।

বর্তমান পরিস্থিতিকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই স্থিতিশীলতাকে টেকসই করতে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে শক্তিশালী করতে হবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে এ অঞ্চলের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির পারস্পরিক আদান-প্রদান এবং মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এ অঞ্চলের সভ্যতা ও ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখা জরুরি।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশের জন্য এবং এনসিপির জন্য আশীর্বাদ কামনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তাঁর দল কাজ করে যাচ্ছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement