‘উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায়’ নির্বাচনে যাচ্ছে না ওয়ার্কার্স পার্টি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০: ৩৩
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি

নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হওয়ার অভিযোগ তুলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। চলমান রাজনৈতিক সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের আহ্বায়ক মোস্তফা আলমগীর রতনের সই করা এক বিবৃতিতে দলের এ অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সকল দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে জনগণের দাবি। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিও সেই দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করে একটি ভয়ভীতিহীন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, ভোটার ও প্রার্থীসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের নিরাপত্তা প্রত্যাশাসহ একটি অবাধ-সুষ্ঠু-অর্ন্তভুক্তিমূলক নির্বাচন প্রত্যাশ্যা করে এর প্রস্তুতিও নিয়েছিল। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আশাব্যঞ্জক বক্তব্যের পরও বাস্তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ধাপগুলো ক্রমেই অনিশ্চিত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রথমত নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও ওয়ার্কার্স পার্টিসহ একাধিক দলকে নির্বাচন প্রস্তুতিকালীন সংলাপে ডাকা হয়নি, এমনকি আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া দলের পক্ষ থেকে ১০ দফা প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হলেও তাতে কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি।

তফসিল ঘোষণার পর দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে বলেও অভিযোগ তুলেছে ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটি বলছে, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, গার্মেন্টস কর্মী দিপু দাসকে হত্যার মতো ঘটনাসহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বেড়েছে। মাজার, খানকা, বাউল ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ও উদীচীর কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এতে নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অন্তর্বর্তী সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করা হয় বিবৃতিতে।

নির্বাচন জামানতসহ সিডি কেনার শর্ত ও অর্থ নির্ধারণের মাধ্যমে কালো টাকা উৎসারিত দল ও ব্যক্তিদের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে বলে মনে করছে ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটি বলছে, গণমানুষ, সৎ, যোগ্য মানুষকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা অবাধ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে অনুমোদন দেয় না। এ ছাড়া কালো টাকার প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের কোনো প্রতিপালন দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করছে দলটি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনি সহিংসতার শঙ্কা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় দখল হয়ে গেলেও কারও কাছ থেকেই সে বিষয়ে প্রতিকার না পাওয়ায় নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের নিরপেক্ষ আচরণ না করা, দলের সভাপতি রাশেদ খান মেননসহ শীর্ষ নেতাদের ‘গায়েবি মিথ্যা মামলা’য় আটক রাখা হলেও নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার মতো অভিযোগও তুলেছে ওয়ার্কার্স পার্টি।

দলটি বলছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ওয়ার্কার্স পার্টি মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকার সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে একতরফা নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। সরকার দেশের জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশের ভোটারদের দলকে ও ভোটারদের নির্বাচনের বাইরে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে আগামী নির্বাচনে গণতন্ত্রের পথ মসৃণ হবে না। এ ছাড়া দলটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, রাজনৈতিক সংকট এড়িয়ে দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা আসবে না, দেশ নতুন সংকটে পতিত হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সর্বোচ্চ উদ্যোগ রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণে করার চেষ্টা করলেও চলমান পরিস্থিতি নির্বাচনের পথে অন্তরায়। তাই কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলটি আগামী ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনার ভিত্তিতে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ১৯৭২-এর সংবিধানের ভিত্তিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন— জবাবে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।

৪ দিন আগে

‘জিয়াউর রহমান আর ১০ বছর বাঁচলে বাংলাদেশ অনন্য দেশ হতো’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না

৬ দিন আগে

সরকার স্বস্তি দিতে চায়, বিরোধীদল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাজেটের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে চাইলেও বিরোধীদল তা মানছে না; তবে ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

৭ দিন আগে

প্রস্তাবিত বাজেট কথার ফুলঝুরি, রাজনৈতিক চমকবাজি: জাসদ

প্রস্তাবিত এ বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলটি বলছে, বজেটের আকার বড় দেখানোর জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এই বিশালাকৃতির বাজেট অবাস্তব এবং কোনোভাবেই অর্জনযোগ্য নয়।

৯ দিন আগে