বিএনপি-জামায়াত ভোটের হিসাব ‘সমানে সমান’: জরিপ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২২: ০৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের হিসাবে বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থান ‘সমানে সমান’। এই নির্বাচনে বড় দল দুটির মধ্যে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিতে চান ৩৪.৭ শতাংশ ভোটার। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে চান ৩৩.৬ শতাংশ। সংসদ নির্বাচনে জনসমর্থনে জামায়াত থেকে মাত্র ১ শতাংশ এগিয়ে বিএনপি।

এর আগে বেসরকারি সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের (ইএএসডি) এক জরিপে ওঠে এসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চান। আর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে এই জনমত ১৯ শতাংশ। এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি জরিপে ওঠে এসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ৩০ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে ভোট দেবেন এবং ২৬ শতাংশ ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেবেন।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি) পরিচালিত ‘প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক এক জরিপে এমনটি জানানো হয়েছে।

প্রজেকশন বিডি, জাগরণ ফাউন্ডেশন ও ন্যারাটিভ সহযোগী হিসেবে ‘প্রি-ইলেকশন পালস: অ্যান ইন-ডেপথ অ্যানালাইসিস অব দ্য বাংলাদেশি ইলেকটোরেট’ নামে এ জরিপ পরিচালনা করে। আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহীন সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন। এ সময় রাজনৈতিক বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন পর্যালোচনাকারীরা।

জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, বর্তমান জনসমর্থনের ভিত্তিতে ভোটের সম্ভাব্য বণ্টনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৭ দশমিক ১ শতাংশ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩ দশমিক ১ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে। অন্যান্য দলের রয়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বা সিদ্ধান্তহীন ভোটারের সংখ্যা ১৭ শতাংশ। মেশিন লার্নিং (এমএল) প্রজেকশন অনুযায়ী তারা দেখিয়েছে, এই সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের মধ্যে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশের ঝোঁক বিএনপির দিকে এবং জামায়াতে ইসলামীর দিকে ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ। জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে বিএনপি ১ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছে, তবে জোট হিসাব করলে জামায়াতে ইসলামী ১০ শতাংশ এগিয়ে।

২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর এক মাসব্যাপী জরিপটি পরিচালিত করে তারা। এতে দেশের ৬৪ জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন পেশার ২২ হাজার ১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশগ্রহণ করেন। ভৌগোলিক, শহর, গ্রাম ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে তারা স্ট্রাটিফায়েড স্যাম্পলিং ডিজাইন অনুসরণ করে এবং ২০২২ সালের জাতীয় আদমশুমারির ভিত্তিতে পোস্ট-স্ট্রাটিফিকেশন ওয়েটিং প্রয়োগ করা হয়।

বিএনপির ৭২ দশমিক ১ শতাংশ সমর্থকের অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতাকে সমর্থনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ৩০ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম ভোটারদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন বেশি। পেশাজীবীদের মধ্যে কৃষক ও শ্রমিকদের শক্ত অবস্থানে অর্থাৎ ৮৩ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কম দুর্নীতিগ্রস্ত ও সততার ভাবমূর্তির কারণে সমর্থন করছে ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ। তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করে তারা। এ ছাড়া স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে দলটির সমর্থন অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। জানানো হয়, জামায়াতে ইসলামী ডিজিটাল মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। এদিকে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপিকে সমর্থন করার পেছনে জুলাই বিপ্লবে ভূমিকাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখিয়েছে তারা।

আনডিসাইডেড ভোটার বা সিদ্ধান্তহীন ১৭ শতাংশ ভোটারের মধ্যে ৩০ দশমিক ১ শতাংশ কোনো রাজনৈতিক দলকেই বিশ্বাস করতে পারছে না এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার কোনো মতামত দেননি। জরিপকারীরা মনে করে, এই ভোটাররাই শেষপর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন।

পর্যালোচনাকারীরা বলছেন, বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপট ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পরে বাস্তব প্রেক্ষাপটে বিএনপির সমর্থনে সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে আরও বেশি এগিয়ে থাকবে বলে জানায় তারা।

জরিপে সিদ্ধান্তহীন ১৭ শতাংশ ভোটারের উল্লেখ থাকলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক ৪ আগস্ট, বিরোধী দলের ৫ পদ এখনো শূন্য

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গঠিত জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি প্রথমবারের মতো আগামী ৪ আগস্ট বৈঠকে বসছে। তবে সংবিধান সংস্কার নাকি সংশোধন— এ মৌলিক মতপার্থক্যের কারণে বিরোধী দল এখনো কমিটিতে যোগ না দেওয়ায় তাদের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি পদ শূন্যই থাকছে।

১০ ঘণ্টা আগে

‘কিছুই বদলায়নি’, রাষ্ট্র-প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না হওয়ায় আক্ষেপ মির্জা ফখরুলের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগ এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পরও রাষ্ট্র ও প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আমি দেখছি যে, কিছুই বদলায়নি।’

১০ ঘণ্টা আগে

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উভয়েই একমত, পারস্পরিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবং আমি যেমন সবসময় বলি, সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত।’

১৫ ঘণ্টা আগে

হবিগঞ্জ শহরে পৌঁছাতেই পারেননি এনসিপি নেতারা, লিখিত অভিযোগ দিলেন পুলিশ ফাঁড়িতে

অভিযোগ অনুযায়ী, হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। এ ছাড়া আরও ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০০ জনের বিরুদ্ধে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ করেছে দলটি।

১ দিন আগে