২০৩৬ সালের মধ্যে সরকারি দল হওয়ার স্বপ্ন এনসিপির: সারজিস

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ১৯: ৫০
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন সারজিস আলম। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০৩৬ সালের মধ্যে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকারি দল হওয়ার স্বপ্ন দেখে বলে জানিয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জোটের আশায় বসে না থেকে এককভাবে দেশব্যাপী দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার (১০ মে) রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

এ দিন আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ১০০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং পৌরসভা মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে এনসিপি। স্থানীয় পর্যায়ে তৃণমূলের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতেই এই আগাম ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সারজিস আলম।

এর আগে ৫টি সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থী ঘোষণা করেছিল দলটি। দেশের ৫০০টি উপজেলা এবং ৩৩০টি পৌরসভার প্রথম ধাপে নাম প্রকাশের জন্য তাদের কাছে হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সার্বিক যাচাই-বাছাই শেষে সেখান থেকেই প্রাথমিকভাবে এই ১০০ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

চলতি মে মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে জানিয়ে সারজিস বলেন, এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা ছাড়াও অন্য রাজনৈতিক দল থেকে গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিরাও এনসিপির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বা ফৌজদারি অপরাধে জড়িতদের সুযোগ দেওয়া হবে না।

সারজিস আলম বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন হবে কি না— এই অনিশ্চয়তায় বসে না থেকে দল এককভাবেও প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং নেতাকর্মীদের প্রস্তুতির সুযোগ দিতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে।

জোটগত নির্বাচনের বিষয়ে সারজিস জানান, জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট বর্তমানে বিরোধী দল হিসেবে কাজ করলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি এককভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনের আগে জোটগত কোনো সিদ্ধান্ত হলে সেটি পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

রোববার ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকায় জুলাই অভ্যুত্থানে রাজপথে থাকা ছাত্র ও যুবশক্তির তরুণ প্রতিনিধিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি শ্রমিক শক্তি, নারী শক্তি এবং সংখ্যালঘুদেরও মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে গোপালগঞ্জ পৌরসভায় নারী প্রার্থী এবং রংপুর সদর উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থীর কথা উল্লেখ করা হয়।

এনসিপির এই প্রার্থী তালিকায় অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে আসা ব্যক্তিদেরও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পূর্বে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা ব্যক্তিরা যেমন রয়েছেন, তেমনি অতীতে কোনো দলের সাথেই রাজনীতি করেননি, এমন অনেকেও জায়গা পেয়েছেন।

তবে এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখনই প্রার্থীদের চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। মনোনীত এই প্রার্থীদের সার্বিক দলীয় ও রাজনৈতিক কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতারা। পর্যবেক্ষণে কারো কার্যক্রমে গাফিলতি বা অসন্তোষজনক কিছু ধরা পড়লে, তাকে বাতিল করে তুলনামূলক অধিক যোগ্য নতুন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়াল খেলাফত মজলিস

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

২ দিন আগে

ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মেঘমল্লার বসুসহ ২ নেতার পদত্যাগ, ১ জনকে অব্যাহতি

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেঘমল্লার বসু ও মাঈন আহমেদের দাখিল করা পদত্যাগপত্র কেন্দ্রীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় একই সঙ্গে দুটি রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করলে সাংগঠনিক মতদ্বৈধতা বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব (কনফ্লিক্

২ দিন আগে

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগই যথেষ্ট নয়, গ্রেপ্তার দাবি মামুনুল হকের

বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর পদত্যাগ অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।

৩ দিন আগে

বিএনপি পরিকল্পনামাফিক রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

নাহিদ ইসলাম বলেন, শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে সাহাবুদ্দিনকে সেফ এক্সিট দেওয়া যাবে না। তিনি যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য সরকারকে সজাগ থাকতে হবে এবং অনতিবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

৩ দিন আগে