
নাজমুল ইসলাম হৃদয়

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রাজপথ এখন আর কেবল ধুলোবালি আর যানজটের চেনা গল্পের ক্যানভাস নয়, বরং এই ইট-পাথরের অলিগলিতে কান পাতলে এখন টের পাওয়া যায় ক্ষমতার লড়াইয়ের আঁচ। রোডম্যাপ নেই, তফসিল নেই, নেই সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ; তবু এই সিটির পথেঘাটে ছড়িয়েছে মেয়র নির্বাচনের উত্তাপ। ক্ষমতাসীন বিএনপির বাইরেই অন্তত দুটি দলের প্রার্থী ঘোষণায় সে উত্তাপ ভার্চুয়াল দুনিয়াতেও জন্ম দিয়েছে বাগ্যুদ্ধ।
এ যুদ্ধের একদিকে আছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আরেক দিকে রয়েছেন ছাত্রশিবিরের পরিচিত মুখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম, যাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জুলাই অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা দুই সহযোদ্ধা এখন এক মেয়র পদের বিপরীতে দুই ভিন্ন মেরুর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
এই দুজনের প্রার্থিতা ঘিরে দুজনের দলের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা। আলোচনা চলছে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও। এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনলাইন-অফলাইনে কথার লড়াইও থেমে নেই। ফলে দুজনের প্রার্থিতা জোটবদ্ধ হয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর সংসদের জোটবদ্ধ থাকা জামায়াত ও এনসিপির সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে— এমনটিও মনে করছেন দুই দলের নেতাকর্মীসহ তরুণদের অনেকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ অবশ্য এখনই জামায়াত-এনসিপি জোটের রাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন। তেমন মন্তব্যের জন্য অন্তত তিনি সাদিক কায়েমকে জামায়াতের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান বলে জানিয়েছেন রাজনীতি ডটকমকে।
আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী হবেন, তা অনুমিতই ছিল। দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও এসেছে। দলীয় প্যাডে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সাদিক কায়েমেরও জামায়াত থেকে প্রার্থিতা নিশ্চিত, তা দলের দায়িত্বশীলরাই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়েছেন।
পর্দার আড়ালে চলা এই ক্ষমতার লড়াই এখন আর শুধু ড্রয়িংরুমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দেয়ালে দেয়ালে। মাঠের বাস্তবতায় এই দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এখন এক চূড়ান্ত বিচ্ছেদের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে জোটের সমীকরণ আর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অস্তিত্বের প্রশ্ন।
এই উত্তেজনার পারদ প্রথম স্পষ্টভাবে অনুভূত হয় যখন সাদিক কায়েম নিজের নির্বাচনি প্রস্তুতি হিসেবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। গত ৩০ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি খাগড়াছড়ি থেকে নিজের ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন করে ঢাকা-৮ আসনে স্থানান্তর করেছেন।
এই একটি ঘটনাই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। ভোটার হিসেবে সাদিক কায়েমের খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা আসার সিদ্ধান্তকে জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূলের কর্মীরা দেখছেন এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে। তাদের কাছে সাদিক কেবল একজন প্রার্থীই নন, বরং দীর্ঘ দেড় দশক ধরে কোণঠাসা হয়ে থাকা একটি সংগঠনের পুনরুত্থানের প্রতীকও বটে।
জামায়াত-শিবিরের এই প্রস্তুতির সমান্তরালে এনসিপিতে তৈরি হয়েছে এক গভীর অস্বস্তি। আসিফ মাহমুদের সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে দেখছেন জুলাই আন্দোলনের সময়কার ঐক্যের ফাটল হিসেবে। দুপক্ষের এই বিপরীতমুখী অবস্থানকে কেবল একটি পদের লড়াই নয়, বরং এটি আসলে জুলাই বিপ্লবের জনসমর্থন কার থলেতে যাবে— সেই মালিকানা দখলেরও এক নীরব লড়াই হিসেবে দেখছেন অনেকে।
রাজনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই আসিফ মাহমুদ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে শুরু করেন। গত ২০ এপ্রিল তিনি ফটিকছড়িতে গিয়ে হেফাজত আমিরের দোয়া নেন। একে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ধর্মীয় ভোটব্যাংক নিজের অনুকূলে টানার সুচিন্তিত কৌশল বলছেন বিশ্লেষকরা। আসিফ মাহমুদ তার প্রার্থিতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে আমাকে প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদপ্রার্থী হতে বলেছে। তবে এখনো চূড়ান্ত নয়।’
আসিফ ওই সময় আরও বলেন, ‘আমাকে দলের পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আমি সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। হুজুরের কাছে দোয়া নিতে আসার এটিও একটি উপলক্ষ্য।’ আসিফের এই বক্তব্য সরাসরি বার্তা দিয়েছিল, তিনি কেবল এনসিপির প্রার্থী হতে চান না, বরং তিনি চান সর্বদলীয় একটি প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্ব দিতে।
তখন পর্যন্ত আসিফের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছিল বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে। আদালতের রায়ের পরও তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদে বসতে পারেননি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আসিফের সঙ্গে এ নিয়ে তার তীব্র টানাপোড়েন প্রত্যক্ষ বৈরিতায় রূপ নেয়। বর্তমানে বর্তমান সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলেও সেসব দায়িত্ব ছেড়ে ইশরাক ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে দলে।
বিএনপি থেকে অবশ্য ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হিসেবে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ডিএসসিসির বর্তমান প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা মো. আবদুস সালাম, যিনি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নির্বাচনের জন্যও মাঠ গোছাচ্ছেন।
রাজপথের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ছাড়া বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীমও আলোচনায় আছেন, যিনি ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচনায় থেকেও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পাননি।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীকে নিয়ে আসিফ মাহমুদের দুশ্চিন্তা শুরুর আগেই চমক হয়ে আসে সাদিক কায়েমের নাম। ১ মে কাকরাইলের আইডিইবি হলে আয়োজিত এক সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে, যা এনসিপির জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যলেঞ্জ হয়ে আসে। কারণ দল দুটি জোটবদ্ধ হয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। সংসদেও তারা বিরোধী দলীয় জোট হিসেবেই রয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অবশ্য পরে বিষয়টি সামাল দিতে গিয়ে বলেন, ‘সম্মেলনে কেউ সাদিক কায়েমের নাম প্রস্তাব বা পরামর্শ দিতেই পারেন, তবে এটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।’ তবে তৃণমূলের বার্তা ততক্ষণে পৌঁছে গেছে, রুকনদের প্রত্যক্ষ ভোটেই সাদিক কায়েম প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
এনসিপির নেতাকর্মীদের ধারণা ছিল, আসিফ মাহমুদকে এনসিপি প্রার্থী করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে হয়তো মেয়র প্রার্থী দেবে না জামায়াত। সেখানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় অনেক প্রার্থীর চেয়েও সাদিক কায়েমকেই বেশি শক্তিশালী প্রার্থী মনে করা হচ্ছে, যা এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। আর তার জের গিয়ে পড়েছে ফেসবুকেও, শুরু হয়েছে বাগ্যুদ্ধ।
জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির ৪ মে এক ফেসবুক পোস্টে সরাসরিই লিখেন, ‘এনসিপিকে বিদায় জানানোর সময় হয়েছে। শুভকামনা।’
তার এ স্ট্যাটাস এনসিপি ও আসিফ মাহমুদের সমর্থকদের আঘাত করে। সংসদে জোটবদ্ধ হয়ে বিরোধী দলীয় আসনে থাকার পরও ব্যারিস্টার শাহরিয়ারের এমন স্ট্যাটাসকে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বরখেলাপ বলেও অভিহিত করেন তারা।
নীলা ইসরাফিলের মতো প্রার্থীরা আবার সাদিককে প্রার্থী ঘোষণা করায় আসিফকে নিয়ে টিটকারি করতে ছাড়েননি। তিনি ফেসবুকে আসিফ মাহমুদকে বিদ্রূপ করে লিখেছেন, ‘জামায়াত-শিবির ব্যবহার করল ইউনুসের সরকারে রেখে, এরপর এমপি প্রার্থী হতে দিলো না। এখন মেয়রও হতে দিবে না। আহারে ব্রো, লাইফটাই স্পয়েল হয়ে গেল তোমার!’
জামায়াত-এনসিপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও এ নিয়ে প্রচুর স্ট্যাটাস ও কমেন্ট বিনিময় করেছেন। এর মধ্যেই গত ৩ মে আসিফ মাহমুদ তার প্রথম নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে ঢাকা দক্ষিণের বাসিন্দাদের আর ময়লার বিল দিতে হবে না।’
তার এ ঘোষণা অনলাইন-অফলাইনে আলোচনা ছড়িয়েছে। কেউ কেউ একে নাগরিক সেবার দিকে আসিফের মনোযোগ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে প্রশংসা করেছেন। আবার অনেকে এর সমালোচনাও করেছেন এ বলে— মাসে মাসে ময়লার যে বিল রাজধানীবাসীকে দিতে হয়, তা দিতে তাদের আপত্তি নেই; বরং তাদের সেবার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। আসিফ সেদিকে মনোযোগী হলে ভালো করবেন।
সাদিক কায়েমের পক্ষ থেকে অবশ্য এখন পর্যন্ত নির্বাচন বা ইশতেহার নিয়ে কোনো বক্তব্য আসেনি। তবে তার প্রার্থিতা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে ছাত্রশিবির থেকে জানানো হয়েছিল, সংগঠনটির কোনো পদে থেকে তার পক্ষে জামায়াতের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। সাদিক কায়েম পরে সাংবাদিকদের বলেছেন, জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হতে হলে যা কিছু করা প্রয়োজন, সে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তিনি।
আসিফ-সাদিককে এভাবে মুখোমুখি করে দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত এনসিপি-জামায়াতের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে বলে মনে করেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত। তিনি বলেন, এনসিপি স্বতন্ত্রভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারপরও পরিস্থিতি বুঝে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু আসিফের বিপরীতে সাদিককে প্রার্থী ঘোষণা করে সমর্থকদের মধ্যে যে ফাটল এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে, তা দলীয় কোনো চিঠিতে মেরামত করা সহজ নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ‘সরল কথন’ শাহিদিন এ ফাটলকে জাতীয় বিভাজনের পর্যায় পর্যন্ত চিন্তা করেছেন। তিনি বলেছেন, এনসিপির সঙ্গে আলোচনা না করেই সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করে জামায়াত জোটে অভ্যন্তরে টানাপোড়েন তৈরি করেছে। এমন ধারণা সমর্থকদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও এ বিভাজন বিপজ্জনক সংকেত বহন করছে। দক্ষিণ সিটি ঘিরে এ সংঘাত শেষ পর্যন্ত নিরসন না হলে তা জাতীয় পর্যায়ের বৃহত্তর ঐক্যের জন্য ঝুঁকি হতে পারে।
এখনই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না জানিয়ে ঢাবি অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাব্বির আহমেদ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘সাদিক কায়েম নির্বাচন করবেন কি না, সে বিষয়ে যেহেতু আমার কাছে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই, তাই এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা বা না জেনে হুট করে কিছু বলা ঠিক হবে না।’
জোটের রাজনীতিকে যুক্ত থেকেও পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে ঢাবির এই অধ্যাপক বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে এনসিপির সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত এবং এ জোটের প্রধান ভিত্তিই হচ্ছে আন্দোলন। তাদের মধ্যে নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনে আলাদাভাবে নির্বাচন করার অধিকার অবশ্যই রয়েছে, কারণ এ অধিকার সবারই আছে।
‘যেহেতু নির্বাচন এখনো অনেক সময় বাকি, তাই আলাদাভাবে প্রার্থী দেওয়ার ফলে জোটের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না— সেটি নিয়ে আরও আলাপ-আলোচনা ও চিন্তাভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে হয়তো রাজপথের সমর্থকদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব আরও বেড়ে যাবে,’— বলেন অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ।
রাজনীতি/টিআর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রাজপথ এখন আর কেবল ধুলোবালি আর যানজটের চেনা গল্পের ক্যানভাস নয়, বরং এই ইট-পাথরের অলিগলিতে কান পাতলে এখন টের পাওয়া যায় ক্ষমতার লড়াইয়ের আঁচ। রোডম্যাপ নেই, তফসিল নেই, নেই সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ; তবু এই সিটির পথেঘাটে ছড়িয়েছে মেয়র নির্বাচনের উত্তাপ। ক্ষমতাসীন বিএনপির বাইরেই অন্তত দুটি দলের প্রার্থী ঘোষণায় সে উত্তাপ ভার্চুয়াল দুনিয়াতেও জন্ম দিয়েছে বাগ্যুদ্ধ।
এ যুদ্ধের একদিকে আছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আরেক দিকে রয়েছেন ছাত্রশিবিরের পরিচিত মুখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম, যাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জুলাই অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা দুই সহযোদ্ধা এখন এক মেয়র পদের বিপরীতে দুই ভিন্ন মেরুর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
এই দুজনের প্রার্থিতা ঘিরে দুজনের দলের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা। আলোচনা চলছে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও। এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনলাইন-অফলাইনে কথার লড়াইও থেমে নেই। ফলে দুজনের প্রার্থিতা জোটবদ্ধ হয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর সংসদের জোটবদ্ধ থাকা জামায়াত ও এনসিপির সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে— এমনটিও মনে করছেন দুই দলের নেতাকর্মীসহ তরুণদের অনেকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ অবশ্য এখনই জামায়াত-এনসিপি জোটের রাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন। তেমন মন্তব্যের জন্য অন্তত তিনি সাদিক কায়েমকে জামায়াতের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান বলে জানিয়েছেন রাজনীতি ডটকমকে।
আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী হবেন, তা অনুমিতই ছিল। দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও এসেছে। দলীয় প্যাডে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সাদিক কায়েমেরও জামায়াত থেকে প্রার্থিতা নিশ্চিত, তা দলের দায়িত্বশীলরাই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়েছেন।
পর্দার আড়ালে চলা এই ক্ষমতার লড়াই এখন আর শুধু ড্রয়িংরুমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দেয়ালে দেয়ালে। মাঠের বাস্তবতায় এই দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এখন এক চূড়ান্ত বিচ্ছেদের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে জোটের সমীকরণ আর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অস্তিত্বের প্রশ্ন।
এই উত্তেজনার পারদ প্রথম স্পষ্টভাবে অনুভূত হয় যখন সাদিক কায়েম নিজের নির্বাচনি প্রস্তুতি হিসেবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। গত ৩০ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি খাগড়াছড়ি থেকে নিজের ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন করে ঢাকা-৮ আসনে স্থানান্তর করেছেন।
এই একটি ঘটনাই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। ভোটার হিসেবে সাদিক কায়েমের খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা আসার সিদ্ধান্তকে জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূলের কর্মীরা দেখছেন এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে। তাদের কাছে সাদিক কেবল একজন প্রার্থীই নন, বরং দীর্ঘ দেড় দশক ধরে কোণঠাসা হয়ে থাকা একটি সংগঠনের পুনরুত্থানের প্রতীকও বটে।
জামায়াত-শিবিরের এই প্রস্তুতির সমান্তরালে এনসিপিতে তৈরি হয়েছে এক গভীর অস্বস্তি। আসিফ মাহমুদের সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে দেখছেন জুলাই আন্দোলনের সময়কার ঐক্যের ফাটল হিসেবে। দুপক্ষের এই বিপরীতমুখী অবস্থানকে কেবল একটি পদের লড়াই নয়, বরং এটি আসলে জুলাই বিপ্লবের জনসমর্থন কার থলেতে যাবে— সেই মালিকানা দখলেরও এক নীরব লড়াই হিসেবে দেখছেন অনেকে।
রাজনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই আসিফ মাহমুদ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে শুরু করেন। গত ২০ এপ্রিল তিনি ফটিকছড়িতে গিয়ে হেফাজত আমিরের দোয়া নেন। একে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ধর্মীয় ভোটব্যাংক নিজের অনুকূলে টানার সুচিন্তিত কৌশল বলছেন বিশ্লেষকরা। আসিফ মাহমুদ তার প্রার্থিতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে আমাকে প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদপ্রার্থী হতে বলেছে। তবে এখনো চূড়ান্ত নয়।’
আসিফ ওই সময় আরও বলেন, ‘আমাকে দলের পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আমি সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। হুজুরের কাছে দোয়া নিতে আসার এটিও একটি উপলক্ষ্য।’ আসিফের এই বক্তব্য সরাসরি বার্তা দিয়েছিল, তিনি কেবল এনসিপির প্রার্থী হতে চান না, বরং তিনি চান সর্বদলীয় একটি প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্ব দিতে।
তখন পর্যন্ত আসিফের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছিল বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে। আদালতের রায়ের পরও তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদে বসতে পারেননি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আসিফের সঙ্গে এ নিয়ে তার তীব্র টানাপোড়েন প্রত্যক্ষ বৈরিতায় রূপ নেয়। বর্তমানে বর্তমান সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলেও সেসব দায়িত্ব ছেড়ে ইশরাক ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে দলে।
বিএনপি থেকে অবশ্য ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হিসেবে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ডিএসসিসির বর্তমান প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা মো. আবদুস সালাম, যিনি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নির্বাচনের জন্যও মাঠ গোছাচ্ছেন।
রাজপথের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ছাড়া বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীমও আলোচনায় আছেন, যিনি ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচনায় থেকেও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পাননি।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীকে নিয়ে আসিফ মাহমুদের দুশ্চিন্তা শুরুর আগেই চমক হয়ে আসে সাদিক কায়েমের নাম। ১ মে কাকরাইলের আইডিইবি হলে আয়োজিত এক সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে, যা এনসিপির জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যলেঞ্জ হয়ে আসে। কারণ দল দুটি জোটবদ্ধ হয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। সংসদেও তারা বিরোধী দলীয় জোট হিসেবেই রয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অবশ্য পরে বিষয়টি সামাল দিতে গিয়ে বলেন, ‘সম্মেলনে কেউ সাদিক কায়েমের নাম প্রস্তাব বা পরামর্শ দিতেই পারেন, তবে এটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।’ তবে তৃণমূলের বার্তা ততক্ষণে পৌঁছে গেছে, রুকনদের প্রত্যক্ষ ভোটেই সাদিক কায়েম প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
এনসিপির নেতাকর্মীদের ধারণা ছিল, আসিফ মাহমুদকে এনসিপি প্রার্থী করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে হয়তো মেয়র প্রার্থী দেবে না জামায়াত। সেখানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় অনেক প্রার্থীর চেয়েও সাদিক কায়েমকেই বেশি শক্তিশালী প্রার্থী মনে করা হচ্ছে, যা এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। আর তার জের গিয়ে পড়েছে ফেসবুকেও, শুরু হয়েছে বাগ্যুদ্ধ।
জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির ৪ মে এক ফেসবুক পোস্টে সরাসরিই লিখেন, ‘এনসিপিকে বিদায় জানানোর সময় হয়েছে। শুভকামনা।’
তার এ স্ট্যাটাস এনসিপি ও আসিফ মাহমুদের সমর্থকদের আঘাত করে। সংসদে জোটবদ্ধ হয়ে বিরোধী দলীয় আসনে থাকার পরও ব্যারিস্টার শাহরিয়ারের এমন স্ট্যাটাসকে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বরখেলাপ বলেও অভিহিত করেন তারা।
নীলা ইসরাফিলের মতো প্রার্থীরা আবার সাদিককে প্রার্থী ঘোষণা করায় আসিফকে নিয়ে টিটকারি করতে ছাড়েননি। তিনি ফেসবুকে আসিফ মাহমুদকে বিদ্রূপ করে লিখেছেন, ‘জামায়াত-শিবির ব্যবহার করল ইউনুসের সরকারে রেখে, এরপর এমপি প্রার্থী হতে দিলো না। এখন মেয়রও হতে দিবে না। আহারে ব্রো, লাইফটাই স্পয়েল হয়ে গেল তোমার!’
জামায়াত-এনসিপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও এ নিয়ে প্রচুর স্ট্যাটাস ও কমেন্ট বিনিময় করেছেন। এর মধ্যেই গত ৩ মে আসিফ মাহমুদ তার প্রথম নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে ঢাকা দক্ষিণের বাসিন্দাদের আর ময়লার বিল দিতে হবে না।’
তার এ ঘোষণা অনলাইন-অফলাইনে আলোচনা ছড়িয়েছে। কেউ কেউ একে নাগরিক সেবার দিকে আসিফের মনোযোগ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে প্রশংসা করেছেন। আবার অনেকে এর সমালোচনাও করেছেন এ বলে— মাসে মাসে ময়লার যে বিল রাজধানীবাসীকে দিতে হয়, তা দিতে তাদের আপত্তি নেই; বরং তাদের সেবার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। আসিফ সেদিকে মনোযোগী হলে ভালো করবেন।
সাদিক কায়েমের পক্ষ থেকে অবশ্য এখন পর্যন্ত নির্বাচন বা ইশতেহার নিয়ে কোনো বক্তব্য আসেনি। তবে তার প্রার্থিতা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে ছাত্রশিবির থেকে জানানো হয়েছিল, সংগঠনটির কোনো পদে থেকে তার পক্ষে জামায়াতের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। সাদিক কায়েম পরে সাংবাদিকদের বলেছেন, জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হতে হলে যা কিছু করা প্রয়োজন, সে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তিনি।
আসিফ-সাদিককে এভাবে মুখোমুখি করে দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত এনসিপি-জামায়াতের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে বলে মনে করেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত। তিনি বলেন, এনসিপি স্বতন্ত্রভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারপরও পরিস্থিতি বুঝে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু আসিফের বিপরীতে সাদিককে প্রার্থী ঘোষণা করে সমর্থকদের মধ্যে যে ফাটল এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে, তা দলীয় কোনো চিঠিতে মেরামত করা সহজ নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ‘সরল কথন’ শাহিদিন এ ফাটলকে জাতীয় বিভাজনের পর্যায় পর্যন্ত চিন্তা করেছেন। তিনি বলেছেন, এনসিপির সঙ্গে আলোচনা না করেই সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করে জামায়াত জোটে অভ্যন্তরে টানাপোড়েন তৈরি করেছে। এমন ধারণা সমর্থকদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও এ বিভাজন বিপজ্জনক সংকেত বহন করছে। দক্ষিণ সিটি ঘিরে এ সংঘাত শেষ পর্যন্ত নিরসন না হলে তা জাতীয় পর্যায়ের বৃহত্তর ঐক্যের জন্য ঝুঁকি হতে পারে।
এখনই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না জানিয়ে ঢাবি অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাব্বির আহমেদ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘সাদিক কায়েম নির্বাচন করবেন কি না, সে বিষয়ে যেহেতু আমার কাছে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই, তাই এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা বা না জেনে হুট করে কিছু বলা ঠিক হবে না।’
জোটের রাজনীতিকে যুক্ত থেকেও পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে ঢাবির এই অধ্যাপক বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে এনসিপির সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত এবং এ জোটের প্রধান ভিত্তিই হচ্ছে আন্দোলন। তাদের মধ্যে নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনে আলাদাভাবে নির্বাচন করার অধিকার অবশ্যই রয়েছে, কারণ এ অধিকার সবারই আছে।
‘যেহেতু নির্বাচন এখনো অনেক সময় বাকি, তাই আলাদাভাবে প্রার্থী দেওয়ার ফলে জোটের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না— সেটি নিয়ে আরও আলাপ-আলোচনা ও চিন্তাভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে হয়তো রাজপথের সমর্থকদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব আরও বেড়ে যাবে,’— বলেন অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ।
রাজনীতি/টিআর

বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার ভালো কাজের উদ্যোগ নিলে জামায়াত সহযোগিতা করবে। তবে দেশের কোনো ক্ষতি হলে তারা নীরবে বসে থাকবে না, বরং প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
২ দিন আগে
নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বিএনপি নেতাদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৯ মে) দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপিসহ তিনটি সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
২ দিন আগে
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে। তারা এটাকে এড়িয়ে যেতে চায়। কিন্তু জনগণের অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতেই সাংবিধানিক সংস্কার হতে হবে।’
২ দিন আগে
সফরকালে বিরোধীদলীয় নেতা গুরুতর আহতদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহতদের সর্বোচ্চ ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।
২ দিন আগে