অনুমোদন পেল ৫ ডিজিটাল ব্যাংক, বিকাশ-রবিও তালিকায়

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৫৪
বাংলাদেশ ব্যাংক। লোগো
বাংলাদেশ ব্যাংক। লোগো

দেশে পরিচালনার জন্য পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান বিকাশ ও মোবাইল অপারেটর রবিসহ বিদেশি কোম্পানিও রয়েছে এ তালিকায়। অনুমোদিত এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে এখন বাংলাদেশ ব্যাংক লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেবে। এরপর প্রক্রিয়া শেষে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় চার প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগেই আরও এক প্রতিষ্ঠানকে একই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

নতুন যে চারটি ব্যাংক বৃহস্পতিবারের সভায় অনুমোদন পেয়েছে তার মধ্যে ‘ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটানে’র উদ্যোক্ত ভুটানের ডিকে ব্যাংক, ‘বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকে’র উদ্যোক্তা মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা বিকাশ, ‘নোভা ডিজিটাল ব্যাংকে’র উদ্যোক্তা স্কয়ার ও বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন এবং ‘বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংকে’র উদ্যোক্তা রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেড।

এর আগে অনুমোদন পাওয়া ‘কড়ি ডিজিটাল ব্যাংকে’র মালিকানায় রয়েছে দেশের কয়েকটি ব্যবসায় গ্রুপ। এই প্রতিষ্ঠানকেও লেটার অব ইনটেন্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ২০২৩ সালে ‘কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক’ ও ‘নগদ ডিজিটাল ব্যাংক’কে অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই প্রতিষ্ঠানেরই ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স স্থগিত করা হয়।

পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত নতুন করে ডিজিটাল ব্যাংকের আবেদন গ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা, মোবাইল অপারেটর, মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় ১৩টি আবেদন জমা পড়ে।

অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর বাইরে এ তালিকায় ছিল— ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, আমার ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মারস, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজ।

আবেদন নিলেও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন দেয়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ফের আলোচনায় আসে ডিজিটাল ব্যাংক। তবে নতুন করে আবেদন না নিয়ে আগের আবেদন থেকেই চার প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম শুরু করতে দিতে সম্মত হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কড়ি ডিজিটাল।

দীর্ঘ আলোচনা, নীতিমালা পরিবর্তন, আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও লাইসেন্স নিয়ে নানা জটিলতার পর ব্যাংকিং সক্ষমতা, উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা, মূলধন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিকভাবে আটটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সব মিরিয়ে পাঁচটিকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রাথমিক অনুমোদন দিলো।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement