
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামে’র চলমান আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘রাস্তার কোনো আন্দোলনের চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে না।’
এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থান কর্মসূচি চালিয়েছেন ব্যাংকটির ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামে’র সদস্যরা। ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরেছেন তারা। আরও জানিয়েছেন, দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
ঈদুল আজহার ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ ও খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ ঘিরে ঈদের পরে রাজপথে নেমেছে ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরাম। গতকাল সোমবার (১ জুন) ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সকাল ৯টাতেই ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন ফোরামের সদস্যরা। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ছোড়ার পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংকের এই সচেতন গ্রাহক ফোরাম মঙ্গলবার (২ জুন) দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ দিন ফোরামের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলন করেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হয়, প্রতিবাদ জানানো হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বক্তব্যের।
এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে খেলাপি ঋণ থাকার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্থ আত্মসাতের দায়ে শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও সচেতন গ্রাহত ফোরামের অনড় অবস্থানে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সৃষ্ট সংকট ঘনীভূত হয়েছে।
খুরশীদ আলমের পদত্যাগ ও ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্ট থেকে ১৮(ক) ধারা বাতিল করাসহ সাত দফা দাবিতে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইসলামী ব্যাংকের ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামে’র সদস্যরা। দুপুর ১২টায় অবস্থান কর্মসূচির মাঝে সংবাদ সম্মেলন করেন ফোরামের নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন ফোরামের আহ্বায়ক নুর-উন-নবী। দাবিগুলো হলো—
সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের যে ১৮(ক) ধারা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে সেটি নিয়ে এর আগেও বিতর্ক হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, একীভূত হওয়া বা রেজ্যুলেশন প্রক্রিয়ায় যাওয়া দুর্বল ব্যাংকের আগের মালিক ও শেয়ারহোল্ডারদের আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এস আলম। তিনি নিজে কখনো পদে না বসলেও ছেলে আহসানুল আলমকে এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান বানিয়েছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি দেশ ছাড়েন। তার বিরুদ্ধে সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সাইফুল আলম তথা এস আলমসহ আর্থিক দুর্নীতিতে যুক্তদের ব্যাংকের মালিকানায় ফিরিয়ে আনতেই বিএনপি ব্যাংক আইনের এই ধারাটি যুক্ত করেছে। অবশ্য আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক জামায়াতপন্থি লোকজনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।
২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থনে ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলম গ্রুপ। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিয়ন্ত্রণ হারায় গ্রুপটি। বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা নেমেছে ১৩৭ কোটি টাকায়। একই সময়ের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের হার ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশে।
তথ্য বলছে, ইসলামী ব্যাংকের ৯৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ এখন খেলাপি। ব্যাংকটির শেয়ার মালিকানায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হিস্যা ৬৩ শতাংশ থেকে কমে গত মার্চে ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশে নেমেছে। অন্যদিকে প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের সঙ্গে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তা জব্দ করে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঈদুল আজহার ছুটির আগে শেষ কার্যদিবস গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন এম জুবায়দুর রহমান। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তখন গভর্নর ছিলেন আহসান এইচ মনসুর।
তার পদত্যাগের পর ওই দিনই মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কর্মকর্তাদের চাপের মুখে তাকে সে পদ ছাড়তে হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ইসলামী ব্যাংকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলম ঋণখেলাপি। তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে।
খুরশীদ আলমকে নিয়ে আরেকটি পুরনো অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির মানবসম্পদ বিভাগ অফিস আদেশ জারি করেছিল। এর জের ধরে তার দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) বন্ধ করা হয়।
কোনো আন্দোলনের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে তাদের সিদ্ধান্ত সঠিক। কোনো ধরনের আন্দোলন বা চাপের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না। আজ যদি কোনো পক্ষের আন্দোলনের কারণে একটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরেকটি পক্ষ আরও বড় আন্দোলন করে অন্য সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি তুলবে। এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতে পারে না।’
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে অনলাইন সভার অনুমতি দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই মুখপাত্র বলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে ভার্চুয়াল সভা আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অনুমতি দিয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে অনলাইনে পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং এতে কোনো বিধিনিষেধ নেই।’
আরিফ হোসেন আরও বলেন, ‘ব্যাংকে কর্মপরিবেশ ফিরে এসেছে। তার কোনো ব্যত্যয় হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে। ইসলামী ব্যাংকের পাশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থাকবে। তাদের অবস্থান আরও মজবুত হবে।’

নতুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে খেলাপি ঋণ থাকার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মকর্তা বলেন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে তিন কোটি টাকা ঋণ নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিক খুরশীদ আলমের স্ত্রী। ওই ঋণ পরে খেলাপি হয়েছে। ফলে স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি হলেও খুরশীদ আলম ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি নন।
রংপুরে দায়িত্ব পালনের সময় খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেবল ইনক্রিমেন্ট বন্ধের মতো শাস্তি দেওয়ায় সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছিল। এ ঘটনা নিয়েও সাংবাদিকরা জানতে চান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের কাছে।
জবাবে আরিফ হোসেন বলেন, সে সময় খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। ফলে তাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, তা যথাযথ ছিল না। এ কারণেই পরে তিনি নির্বাহী পরিচালক এবং ডেপুটি গভর্নর হিসেবে পদোন্নতি পান।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরাম নামে যারা আন্দোলনে নেমেছেন, তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা প্রকৃত আমানতকারী কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তারা বিভিন্ন নামে-বেনামে ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন।’
এর আগে গতকাল সোমবারও আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যরা ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অস্থিরতা ছড়াচ্ছেন। সড়কে আন্দোলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন আসবে না।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মূলত একটি রাজনৈতিক দল বলতে ইসলামী ব্যাংকের যাত্রার শুরু থেকেই এতে প্রভাব রেখে আসা জামায়াতে ইসলামীর দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন। তবে তার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতারা।
মঙ্গলবার মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির মাঝে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ প্রসঙ্গে কথা বলেন। আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বশীল পদে থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা গ্রাহক। গ্রাহক পরিচয়েই এখানে দাবি নিয়ে এসেছি।’

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামে’র চলমান আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘রাস্তার কোনো আন্দোলনের চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে না।’
এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থান কর্মসূচি চালিয়েছেন ব্যাংকটির ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামে’র সদস্যরা। ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরেছেন তারা। আরও জানিয়েছেন, দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
ঈদুল আজহার ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ ও খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ ঘিরে ঈদের পরে রাজপথে নেমেছে ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরাম। গতকাল সোমবার (১ জুন) ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সকাল ৯টাতেই ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন ফোরামের সদস্যরা। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ছোড়ার পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংকের এই সচেতন গ্রাহক ফোরাম মঙ্গলবার (২ জুন) দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ দিন ফোরামের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলন করেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হয়, প্রতিবাদ জানানো হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বক্তব্যের।
এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে খেলাপি ঋণ থাকার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্থ আত্মসাতের দায়ে শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও সচেতন গ্রাহত ফোরামের অনড় অবস্থানে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সৃষ্ট সংকট ঘনীভূত হয়েছে।
খুরশীদ আলমের পদত্যাগ ও ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্ট থেকে ১৮(ক) ধারা বাতিল করাসহ সাত দফা দাবিতে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইসলামী ব্যাংকের ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামে’র সদস্যরা। দুপুর ১২টায় অবস্থান কর্মসূচির মাঝে সংবাদ সম্মেলন করেন ফোরামের নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন ফোরামের আহ্বায়ক নুর-উন-নবী। দাবিগুলো হলো—
সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের যে ১৮(ক) ধারা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে সেটি নিয়ে এর আগেও বিতর্ক হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, একীভূত হওয়া বা রেজ্যুলেশন প্রক্রিয়ায় যাওয়া দুর্বল ব্যাংকের আগের মালিক ও শেয়ারহোল্ডারদের আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এস আলম। তিনি নিজে কখনো পদে না বসলেও ছেলে আহসানুল আলমকে এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান বানিয়েছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি দেশ ছাড়েন। তার বিরুদ্ধে সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সাইফুল আলম তথা এস আলমসহ আর্থিক দুর্নীতিতে যুক্তদের ব্যাংকের মালিকানায় ফিরিয়ে আনতেই বিএনপি ব্যাংক আইনের এই ধারাটি যুক্ত করেছে। অবশ্য আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক জামায়াতপন্থি লোকজনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।
২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থনে ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলম গ্রুপ। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিয়ন্ত্রণ হারায় গ্রুপটি। বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা নেমেছে ১৩৭ কোটি টাকায়। একই সময়ের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের হার ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশে।
তথ্য বলছে, ইসলামী ব্যাংকের ৯৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ এখন খেলাপি। ব্যাংকটির শেয়ার মালিকানায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হিস্যা ৬৩ শতাংশ থেকে কমে গত মার্চে ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশে নেমেছে। অন্যদিকে প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের সঙ্গে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তা জব্দ করে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঈদুল আজহার ছুটির আগে শেষ কার্যদিবস গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন এম জুবায়দুর রহমান। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তখন গভর্নর ছিলেন আহসান এইচ মনসুর।
তার পদত্যাগের পর ওই দিনই মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কর্মকর্তাদের চাপের মুখে তাকে সে পদ ছাড়তে হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ইসলামী ব্যাংকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলম ঋণখেলাপি। তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে।
খুরশীদ আলমকে নিয়ে আরেকটি পুরনো অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির মানবসম্পদ বিভাগ অফিস আদেশ জারি করেছিল। এর জের ধরে তার দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) বন্ধ করা হয়।
কোনো আন্দোলনের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে তাদের সিদ্ধান্ত সঠিক। কোনো ধরনের আন্দোলন বা চাপের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না। আজ যদি কোনো পক্ষের আন্দোলনের কারণে একটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরেকটি পক্ষ আরও বড় আন্দোলন করে অন্য সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি তুলবে। এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতে পারে না।’
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে অনলাইন সভার অনুমতি দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই মুখপাত্র বলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে ভার্চুয়াল সভা আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অনুমতি দিয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে অনলাইনে পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং এতে কোনো বিধিনিষেধ নেই।’
আরিফ হোসেন আরও বলেন, ‘ব্যাংকে কর্মপরিবেশ ফিরে এসেছে। তার কোনো ব্যত্যয় হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে। ইসলামী ব্যাংকের পাশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থাকবে। তাদের অবস্থান আরও মজবুত হবে।’

নতুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে খেলাপি ঋণ থাকার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মকর্তা বলেন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে তিন কোটি টাকা ঋণ নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিক খুরশীদ আলমের স্ত্রী। ওই ঋণ পরে খেলাপি হয়েছে। ফলে স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি হলেও খুরশীদ আলম ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি নন।
রংপুরে দায়িত্ব পালনের সময় খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেবল ইনক্রিমেন্ট বন্ধের মতো শাস্তি দেওয়ায় সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছিল। এ ঘটনা নিয়েও সাংবাদিকরা জানতে চান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের কাছে।
জবাবে আরিফ হোসেন বলেন, সে সময় খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। ফলে তাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, তা যথাযথ ছিল না। এ কারণেই পরে তিনি নির্বাহী পরিচালক এবং ডেপুটি গভর্নর হিসেবে পদোন্নতি পান।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরাম নামে যারা আন্দোলনে নেমেছেন, তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা প্রকৃত আমানতকারী কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তারা বিভিন্ন নামে-বেনামে ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন।’
এর আগে গতকাল সোমবারও আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যরা ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অস্থিরতা ছড়াচ্ছেন। সড়কে আন্দোলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন আসবে না।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মূলত একটি রাজনৈতিক দল বলতে ইসলামী ব্যাংকের যাত্রার শুরু থেকেই এতে প্রভাব রেখে আসা জামায়াতে ইসলামীর দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন। তবে তার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতারা।
মঙ্গলবার মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির মাঝে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ প্রসঙ্গে কথা বলেন। আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বশীল পদে থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা গ্রাহক। গ্রাহক পরিচয়েই এখানে দাবি নিয়ে এসেছি।’

রেলওয়ে সূত্র জানায়, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা আখাউড়াগামী তেলবাহী ওয়াগনের একটি বগি পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে চলার সময় হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
৫ দিন আগে
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন পেতে ব্যবহৃত নৌ যানে হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এর আগে সোমবার ব্রেন্টের দাম ছিল প্রায় ৯৭ ডলার।
৭ দিন আগে
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে।
৮ দিন আগে
ঈদকে সামনে রেখে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে প্রতিবন্ধী বেলু ও অসহায় শাহানার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ঈদের বাজার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবীরা।
৯ দিন আগে