পর্যটন খাতে ২৫ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ, আরও চায় যুক্তরাজ্য

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে আরও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা, বিনিয়োগের সুযোগ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার ঢাকায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বলা হয়, পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকসহ সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যবসা, বিমান চলাচল, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশের পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আতিথেয়তা তাঁকে মুগ্ধ করেছে।

সারাহ কুক বলেন, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব শক্তিশালী করা এবং ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাজ্য ভূমিকা রাখতে চায়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের উদাহরণ হিসেবে মানা বের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগের পরিমাণ ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। বাংলাদেশের বস্ত্র খাতে দুই দশকেরও বেশি সময় আগে শুরু হওয়া পারিবারিক ব্যবসার ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে বড় একটি সমন্বিত পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মানা বে ওয়াটার পার্ক এবং সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ৯৫ কক্ষের মানা বে রিসোর্ট।

মানা বের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাশিন হাসান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এবং পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের সম্ভাবনার ওপর তাঁদের আস্থার প্রতিফলন এই বিনিয়োগ।

তিনি বলেন, তাঁদের পরিবারের বাংলাদেশে ব্যবসার যাত্রা শুরু হয়েছিল বৈশ্বিক বাজারের জন্য বিশ্বমানের পণ্য তৈরির মাধ্যমে। এখন বাংলাদেশেই বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা তৈরিতে তাঁরা ভূমিকা রাখতে চান।

বাংলাদেশে আরও সম্প্রসারণের কথা আইএইচজির

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক হোটেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (আইএইচজি) বাংলাদেশের পর্যটন খাতেও সম্ভাবনা দেখছে।

আইএইচজির দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার এরিয়া জেনারেল ম্যানেজার এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা ও ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টের ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার অশ্বানি নায়ার বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে পর্যটন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বড় সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার এরিয়া অফিস স্থাপন এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্যবসায়িক সংগঠনের সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক কৌশলগত সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের বাজারের প্রতি আইএইচজির আস্থার প্রতিফলন।

অশ্বানি নায়ার বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক হোটেল পরিচালনার ক্ষেত্রে আইএইচজির বড় উপস্থিতি রয়েছে। সম্প্রতি ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট চালু হয়েছে। পাশাপাশি ইউনাইটেড টার্মিনালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা এয়ারপোর্ট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তার ভাষ্য, নতুন বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে কেন্দ্র করে যে নতুন পর্যটন অবকাঠামো ও ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, তা বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্যময় খাবার পর্যটকদের আকৃষ্ট করার বড় সম্পদ বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়। এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement