সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে অভিন্ন চাকরিবিধি ও বেতন কাঠামোর দাবি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির জন্য অভিন্ন চাকরিবিধি, পদবিন্যাস ও বেতন কাঠামো চালুর দাবি জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে ব্যাংকটির সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠানের অভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় নিশ্চিত করা এবং এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদারের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির যাত্রার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাংকটিকে একটি সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও আধুনিক ইসলামী ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উদ্যোগ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। একীভূতকরণ-পরবর্তী প্রশাসনিক ও মানবসম্পদসংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের মাধ্যমে একটি অভিন্ন সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগও প্রশংসনীয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণের মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির যাত্রা শুরু হলেও এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য সময় পেরিয়ে গেছে। এখনো ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র পাননি। এতে নতুন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক ও দৃশ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
-0e57dc.jpg)
একজন কর্মীকে নতুন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, নির্ধারিত পদবি ও অভিন্ন চাকরির কাঠামোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া ‘শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়’ উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, এটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্ববোধ, অঙ্গীকার ও আস্থা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকের সেবা ও পণ্য উপস্থাপনের সময় নিজেদের সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির কর্মকর্তা হিসেবে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন সবসময় অনুভব করছেন না। অভিন্ন পরিচয় ও সুস্পষ্ট চাকরিগত কাঠামো তাদের গ্রাহকদের কাছে আরও দৃঢ়ভাবে ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব করতে সহায়তা করবে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, একীভূত হওয়ার আগে পাঁচটি ব্যাংকের পৃথক চাকরিবিধি, পদবিন্যাস ও বেতন কাঠামোর প্রভাব এখনো বিদ্যমান। ফলে একই বা সমমানের পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ও চাকরিগত সুবিধায় পার্থক্য রয়েছে। একটি অভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী অসামঞ্জস্য কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে এবং অভিন্ন সাংগঠনিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে।
একটি বৃহৎ একীভূত ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ একীভূতকরণ জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা একীভূতকরণসহ বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন। সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। তবে মানবসম্পদসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানের জন্য পূর্ণাঙ্গ কারিগরি একীভূতকরণ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার ‘নিষ্প্রয়োজন’ বলে মনে করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
স্মারকলিপিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চারটি দাবি তুলে ধরেন। প্রথমত, সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির অভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রযোজ্য আইন, বিধি ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনার আলোকে অভিন্ন চাকরিবিধি প্রণয়ন এবং স্বচ্ছ ও যৌক্তিক পদবিন্যাস দ্রুত সম্পন্ন ও কার্যকর করতে হবে।
তৃতীয়ত, অভিন্ন পদ ও গ্রেডের ভিত্তিতে সমন্বিত বেতন কাঠামো প্রণয়ন ও কার্যকর করতে হবে। একই বা সমমানের পদে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের কারণে বিদ্যমান বেতন ব্যবধানের বিষয়ে নীতিসঙ্গত ও যথোপযুক্ত সমন্বয় নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
চতুর্থত, এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ, নির্ধারিত সময়সীমা ও কার্যকর তারিখ ঘোষণা করে তা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানাতে হবে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, একটি ব্যাংকের প্রকৃত একীভূতকরণ শুধু তথ্যপ্রযুক্তি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা বা অন্যান্য কারিগরি অবকাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না; কর্মীদের অভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়, পদমর্যাদা, চাকরিবিধি ও বেতন কাঠামোর সমন্বয়ও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এতে আরও বলা হয়, অভিন্ন চাকরিবিধি, পদবিন্যাস ও সমন্বিত বেতন কাঠামো কার্যকর হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানাবোধ, আস্থা ও কর্মোদ্দীপনা আরও সুদৃঢ় হবে। এর ফলে তারা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবসা সম্প্রসারণ ও গ্রাহকসেবায় আরও দৃঢ়তার সঙ্গে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
স্মারকলিপির শেষাংশে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, তাদের প্রত্যাশা— ‘এক প্রতিষ্ঠান, এক পরিচয়, এক পদকাঠামো এবং স্বচ্ছ ও সমন্বিত বেতন কাঠামো।’ ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদারের দূরদর্শী নেতৃত্বে তাদের দাবির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।



















