
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

ঢাকার একটি কফি শপে বসে চার-পাঁচজন তরুণ-তরুণী ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রাখছেন। আড্ডার মূল বিষয়বস্তু কোনো সিনেমার ট্রেইলার কিংবা ছুটির দিনের পরিকল্পনা নয়, বরং বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন, তারই খসড়া ও সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো!
হ্যাঁ, বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যম ও ভেতরের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে বাজেট সম্পর্কিত যেসব তথ্য এখন পর্যন্ত উঠে এসেছে, তা নিয়েই দেশের সচেতন তরুণ ও নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের মধ্যে চলছে তুমুল আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ।
৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ‘অগ্নিপরীক্ষা’। একদিকে আড়াই লাখ কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বিশাল ভর্তুকির চাপ, অন্যদিকে ব্যবসা সহজীকরণ বা ‘ডিরেগুলেশন’, সোলার-ইভি খাতে নজিরবিহীন করছাড় ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের মতো বৈপ্লবিক সব আগাম খবর। বাজেট প্রকাশের ঠিক আগের দিন এই সম্ভাব্য খসড়াগুলো নিয়ে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন দেশের তরুণরা?
বছরখানেক আগে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন কাজী মেহেদী হাসান। পত্রপত্রিকায় আসা সম্ভাব্য বাজেটের তথ্যের একটি বড় জায়গায় কড়া সমালোচনা ও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
মেহেদী বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার নাকি অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সরকার যদি নিজেই ব্যাংক থেকে সব টাকা তুলে নেয়, তবে আমাদের মতো নতুন স্টার্টআপ বা তরুণ উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ পাবে না। পেলেও সুদের হার আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাবে।’
একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের জেরে বিদ্যুৎ খাতে বিপুল ভর্তুকির চাপ ও বিইআরসি কর্তৃক খুচরা বিদ্যুতের দাম একলাফে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মেহেদী বলেন, ‘শুধু যুদ্ধ নয়, বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতা আর সুশাসনের অভাবেই এই ভর্তুকির বোঝা তৈরি হয়েছে। এর মাশুল দিতে গিয়ে উৎপাদন ও বাণিজ্যিক পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।’
চীনে পড়ালেখার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে চীন থেকে সরাসরি বাংলাদেশের মার্কেটে কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিক পণ্য সরবরাহ করেন খালেদ মাহমুদ। বাজেটে ‘ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে ব্যবসা সহজীকরণ’ অধ্যায় যুক্ত হওয়ার আগাম খবরে তিনি বেশ আশাবাদী।
খালেদ বলেন, “আগে বাংলাদেশে লাইসেন্স বা পারমিশনের টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হতো। এবার শুনছি ‘বাংলাবিজ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে প্রভিশনাল পারমিশন ও পাঁচ বছরের জন্য লাইসেন্সের মেয়াদের ঘোষণা আসছে। সরাসরি পারসন-টু-পারসন কন্ট্যাক্ট ছাড়া অনলাইনে ট্যাক্স রেসিডেন্সি সার্টিফিকেট পাওয়ার সুবিধা আমাদের মতো তরুণ ক্রস-বর্ডার উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুখবর হতে পারে।”
তবে কর কাঠামোর পরিবর্তন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খালেদ। তিনি বলেন, ‘ল্যাপটপ বা টেক পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে করছাড় ইতিবাচক হলেও বিদেশি প্রসাধনী বা প্রিমিয়াম পণ্যে ভ্যাট বাড়ানোর যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা আমদানি করা নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির পণ্য বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’
পড়ালেখার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে দেশের জন্য রেমিট্যান্স বা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন সারোয়ার জাহান সাদী। সংবাদপত্রে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট ও ৭ শতাংশ আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আগাম খবরটি তাকে দারুণ আনন্দিত করেছে।
উচ্ছ্বসিত সাদী বলেন, ‘ডিজিটাল অর্থনীতিতে এটি আমাদের জন্য এক বৈপ্লবিক জয়! এর ওপর দেশে তৈরি ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব আমাদের কাজের প্রধান গ্যাজেটগুলোর দাম হাতের নাগালে রাখবে।’
তবে ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর নিয়ে কিছুটা চিন্তিত সাদী। তিনি যোগ করেন, ‘২০৩০-৩১ অর্থবছর নাগাদ করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা করার যে রোডম্যাপ সরকার ভাবছে, সেটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য ভালো। কিন্তু বর্তমানে বাস্তব মূল্যস্ফীতির গতির তুলনায় আগামী দুই বছর ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার করমুক্ত আয়ের সীমা অপরিবর্তিত রাখা আমাদের মতো তরুণদের প্রকৃত ব্যয়যোগ্য আয় কমিয়ে দেবে।’
ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিয়া সুলতানা ইরা পড়ালেখার পাশাপাশি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঢাকার একজন মধ্যবিত্ত কর্মজীবী তরুণী হিসেবে তার মূল ফোকাস জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।
ইরা বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম চাল-ডাল-পেঁয়াজসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটা স্বস্তির খবর, তবে বাজারে এর আসল বাস্তবায়ন যেন নিশ্চিত করা হয়।’
ইরা তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অন্যদিকে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকাতেই লক করে রাখা হচ্ছে, যা এই বাজারে অন্যায়। এর ওপর ইরান যুদ্ধের অজুহাতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং খুচরা বিদ্যুতের দাম একলাফে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার কারণে ঢাকা শহরে আমাদের যাতায়াত খরচ (বাস/উবার ভাড়া) এবং মেসের বিদ্যুৎ বিল এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। মাস শেষে বেতনের টাকাটা যাতায়াত আর বিল দিতেই শেষ হয়ে যাবে।’
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে পড়ালেখা শেষ করে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন শামিমা ঐশী। তিনি নিয়মিত আয়কর দেন এবং তার নিজস্ব গাড়ি, বাড়ি ও সুসজ্জিত অফিস রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির কর কাঠামো নিয়ে তার বিশ্লেষণ বেশ পরিপক্ক।
ঐশী বলেন, ‘ব্যক্তিশ্রেণির আয়করের ৫ বছরের রোডম্যাপ এবং সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্যাক্স রিফান্ড হওয়ার অটোমেশন ট্যাক্স প্ল্যানিংকে অনেক স্বচ্ছ করবে। তবে কর বিশেষজ্ঞরা যেভাবে সতর্ক করেছেন— অন্যান্য স্ল্যাব অপরিবর্তিত রাখলে মধ্যম আয়ের করদাতাদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপবে, তা নীতিনির্ধারকদের ভাবা উচিত।’
তবে বাজেটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তার কাছে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রণোদনা। ঐশী বলেন, ‘আমদানি করা বৈদ্যুতিক যানের (ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল) ৯০ শতাংশ করের বোঝা ব্যাপকভাবে কমানো এবং রুফটপ সোলার প্যানেলের আমদানি শুল্ক একলাফে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সম্ভাব্য ঘোষণাটি দারুণ! আমি আমার অফিসের ছাদকে সোলারে রূপান্তর করে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর এবং ব্যক্তিগত যাতায়াতে ইভি ব্যবহারের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছি।’
তবে রড ও লোহার উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ১০ শতাংশ বাড়ানোর যে খবর এসেছে, তা অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের স্বপ্নকে কিছুটা ব্যয়বহুল করে তুলবে বলে মনে করেন ঐশী।
বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নির্ধারণের দলিল। বাজেট ঘোষণার আগের দিন দেশের তরুণদের এই চুলচেরা বিশ্লেষণ প্রমাণ করে— আজকের তরুণ প্রজন্ম কেবল করছাড়ের সুবিধা নিতেই আগ্রহী নয়, বরং সামষ্টিক অর্থনীতির ঘাটতি, ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির প্রভাব নিয়েও তারা সমান সচেতন।
আর ঘণ্টাতিনেক পরেই অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে উপস্থাপন করবেন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই বাজেট। তার বাজেট বক্তৃতায় তরুণদের প্রত্যাশা আর উদ্বেগের কতটা প্রতিফলন ঘটে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

ঢাকার একটি কফি শপে বসে চার-পাঁচজন তরুণ-তরুণী ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রাখছেন। আড্ডার মূল বিষয়বস্তু কোনো সিনেমার ট্রেইলার কিংবা ছুটির দিনের পরিকল্পনা নয়, বরং বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন, তারই খসড়া ও সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো!
হ্যাঁ, বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যম ও ভেতরের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে বাজেট সম্পর্কিত যেসব তথ্য এখন পর্যন্ত উঠে এসেছে, তা নিয়েই দেশের সচেতন তরুণ ও নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের মধ্যে চলছে তুমুল আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ।
৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ‘অগ্নিপরীক্ষা’। একদিকে আড়াই লাখ কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বিশাল ভর্তুকির চাপ, অন্যদিকে ব্যবসা সহজীকরণ বা ‘ডিরেগুলেশন’, সোলার-ইভি খাতে নজিরবিহীন করছাড় ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের মতো বৈপ্লবিক সব আগাম খবর। বাজেট প্রকাশের ঠিক আগের দিন এই সম্ভাব্য খসড়াগুলো নিয়ে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন দেশের তরুণরা?
বছরখানেক আগে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন কাজী মেহেদী হাসান। পত্রপত্রিকায় আসা সম্ভাব্য বাজেটের তথ্যের একটি বড় জায়গায় কড়া সমালোচনা ও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
মেহেদী বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার নাকি অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সরকার যদি নিজেই ব্যাংক থেকে সব টাকা তুলে নেয়, তবে আমাদের মতো নতুন স্টার্টআপ বা তরুণ উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ পাবে না। পেলেও সুদের হার আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাবে।’
একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের জেরে বিদ্যুৎ খাতে বিপুল ভর্তুকির চাপ ও বিইআরসি কর্তৃক খুচরা বিদ্যুতের দাম একলাফে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মেহেদী বলেন, ‘শুধু যুদ্ধ নয়, বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতা আর সুশাসনের অভাবেই এই ভর্তুকির বোঝা তৈরি হয়েছে। এর মাশুল দিতে গিয়ে উৎপাদন ও বাণিজ্যিক পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।’
চীনে পড়ালেখার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে চীন থেকে সরাসরি বাংলাদেশের মার্কেটে কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিক পণ্য সরবরাহ করেন খালেদ মাহমুদ। বাজেটে ‘ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে ব্যবসা সহজীকরণ’ অধ্যায় যুক্ত হওয়ার আগাম খবরে তিনি বেশ আশাবাদী।
খালেদ বলেন, “আগে বাংলাদেশে লাইসেন্স বা পারমিশনের টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হতো। এবার শুনছি ‘বাংলাবিজ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে প্রভিশনাল পারমিশন ও পাঁচ বছরের জন্য লাইসেন্সের মেয়াদের ঘোষণা আসছে। সরাসরি পারসন-টু-পারসন কন্ট্যাক্ট ছাড়া অনলাইনে ট্যাক্স রেসিডেন্সি সার্টিফিকেট পাওয়ার সুবিধা আমাদের মতো তরুণ ক্রস-বর্ডার উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুখবর হতে পারে।”
তবে কর কাঠামোর পরিবর্তন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খালেদ। তিনি বলেন, ‘ল্যাপটপ বা টেক পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে করছাড় ইতিবাচক হলেও বিদেশি প্রসাধনী বা প্রিমিয়াম পণ্যে ভ্যাট বাড়ানোর যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা আমদানি করা নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির পণ্য বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’
পড়ালেখার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে দেশের জন্য রেমিট্যান্স বা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন সারোয়ার জাহান সাদী। সংবাদপত্রে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট ও ৭ শতাংশ আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আগাম খবরটি তাকে দারুণ আনন্দিত করেছে।
উচ্ছ্বসিত সাদী বলেন, ‘ডিজিটাল অর্থনীতিতে এটি আমাদের জন্য এক বৈপ্লবিক জয়! এর ওপর দেশে তৈরি ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব আমাদের কাজের প্রধান গ্যাজেটগুলোর দাম হাতের নাগালে রাখবে।’
তবে ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর নিয়ে কিছুটা চিন্তিত সাদী। তিনি যোগ করেন, ‘২০৩০-৩১ অর্থবছর নাগাদ করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা করার যে রোডম্যাপ সরকার ভাবছে, সেটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য ভালো। কিন্তু বর্তমানে বাস্তব মূল্যস্ফীতির গতির তুলনায় আগামী দুই বছর ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার করমুক্ত আয়ের সীমা অপরিবর্তিত রাখা আমাদের মতো তরুণদের প্রকৃত ব্যয়যোগ্য আয় কমিয়ে দেবে।’
ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিয়া সুলতানা ইরা পড়ালেখার পাশাপাশি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঢাকার একজন মধ্যবিত্ত কর্মজীবী তরুণী হিসেবে তার মূল ফোকাস জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।
ইরা বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম চাল-ডাল-পেঁয়াজসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটা স্বস্তির খবর, তবে বাজারে এর আসল বাস্তবায়ন যেন নিশ্চিত করা হয়।’
ইরা তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অন্যদিকে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকাতেই লক করে রাখা হচ্ছে, যা এই বাজারে অন্যায়। এর ওপর ইরান যুদ্ধের অজুহাতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং খুচরা বিদ্যুতের দাম একলাফে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার কারণে ঢাকা শহরে আমাদের যাতায়াত খরচ (বাস/উবার ভাড়া) এবং মেসের বিদ্যুৎ বিল এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। মাস শেষে বেতনের টাকাটা যাতায়াত আর বিল দিতেই শেষ হয়ে যাবে।’
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে পড়ালেখা শেষ করে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন শামিমা ঐশী। তিনি নিয়মিত আয়কর দেন এবং তার নিজস্ব গাড়ি, বাড়ি ও সুসজ্জিত অফিস রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির কর কাঠামো নিয়ে তার বিশ্লেষণ বেশ পরিপক্ক।
ঐশী বলেন, ‘ব্যক্তিশ্রেণির আয়করের ৫ বছরের রোডম্যাপ এবং সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্যাক্স রিফান্ড হওয়ার অটোমেশন ট্যাক্স প্ল্যানিংকে অনেক স্বচ্ছ করবে। তবে কর বিশেষজ্ঞরা যেভাবে সতর্ক করেছেন— অন্যান্য স্ল্যাব অপরিবর্তিত রাখলে মধ্যম আয়ের করদাতাদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপবে, তা নীতিনির্ধারকদের ভাবা উচিত।’
তবে বাজেটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তার কাছে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রণোদনা। ঐশী বলেন, ‘আমদানি করা বৈদ্যুতিক যানের (ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল) ৯০ শতাংশ করের বোঝা ব্যাপকভাবে কমানো এবং রুফটপ সোলার প্যানেলের আমদানি শুল্ক একলাফে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সম্ভাব্য ঘোষণাটি দারুণ! আমি আমার অফিসের ছাদকে সোলারে রূপান্তর করে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর এবং ব্যক্তিগত যাতায়াতে ইভি ব্যবহারের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছি।’
তবে রড ও লোহার উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ১০ শতাংশ বাড়ানোর যে খবর এসেছে, তা অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের স্বপ্নকে কিছুটা ব্যয়বহুল করে তুলবে বলে মনে করেন ঐশী।
বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নির্ধারণের দলিল। বাজেট ঘোষণার আগের দিন দেশের তরুণদের এই চুলচেরা বিশ্লেষণ প্রমাণ করে— আজকের তরুণ প্রজন্ম কেবল করছাড়ের সুবিধা নিতেই আগ্রহী নয়, বরং সামষ্টিক অর্থনীতির ঘাটতি, ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির প্রভাব নিয়েও তারা সমান সচেতন।
আর ঘণ্টাতিনেক পরেই অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে উপস্থাপন করবেন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই বাজেট। তার বাজেট বক্তৃতায় তরুণদের প্রত্যাশা আর উদ্বেগের কতটা প্রতিফলন ঘটে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর সরকারের প্রথম বাজেট থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেট পর্যন্ত মোট ৫৫টি বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব বাজেট দিয়েছেন ১৪ জন ব্যক্তি। তাদের কেউ ছিলেন নির্বাচিত সরকারের অর্থমন্ত্রী, কেউ সামরিক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা, কেউ আবার রাষ্ট্রপতি বা সা
২ ঘণ্টা আগে
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনমূলক বাজেট থেকে সর্বশেষ সংকটময় সময়ের সংকোচনমূলক ও ঘাটতি-নিয়ন্ত্রিত বাজেট — এই তুলনায় ফুটে ওঠে দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর, অগ্রগতি এবং নতুন চ্যালেঞ্জ।
২ ঘণ্টা আগে
গাবতলী বাস টার্মিনালের সামনে সিএনজি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আলমগীর হোসেনের কাছে বাজেট হলো প্রতিদিনের জমার টাকা আর গ্যাসের দাম। স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে তিনি বলেন, ‘ভাইজান, আমগো বাজেট প্রতিদিন সকালে গাড়ি নিয়া বাইর হওয়ার সময় শুরু হয়, আর রাইতে মালিকের জমা দিয়া ঘরে ফেরার সময় শেষ হয়।’
৩ ঘণ্টা আগে
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের মন্ত্রী বলেন, “অর্থনীতির সুফল যাতে সকলের কাছে যায় সেটাকে মাথায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, একটা সমাজকল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার জন্য এই বাজেট করা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে