শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধি, কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব-জবাবদিহিতার তাগিদ শিক্ষামন্ত্রীর

রাজশাহী ব্যুরো
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ০৬
শনিবার রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সেমিনার এবং ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-২০২৬’-এর আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: রাজনীতি ডটকম

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আগামী দিনে শিক্ষাখাতে বাজেট আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে এই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তিনি কারিগরি শিক্ষাকে দেশের উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শহীদ ওসমান বিন হাদি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনার এবং ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-২০২৬’-এর আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এখানে জনসংখ্যার অভাব নেই, কিন্তু দক্ষ জনশক্তির সংকট রয়েছে। তাই আমাদের লক্ষ্য এই বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা। এজন্যই বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যয়ের কোনো বিকল্প নেই। বাজেট বাড়ালেই হবে না, কোন খাতে কীভাবে ব্যয় করা হবে, তা নির্ধারণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ছবি: রাজনীতি ডটকম
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ছবি: রাজনীতি ডটকম

সরকার ইতোমধ্যেই কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং আগামী বাজেটেই এর প্রতিফলন থাকবে বলে জানান তিনি। উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমেই জাপান, জার্মানি ও কানাডা আজ বিশ্বে এগিয়ে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন মন্ত্রী। এ সময় শিক্ষার্থীরা অনিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা গ্রহণে বিলম্ব, পুরনো ল্যাব যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত মেশিনারিজের অভাব এবং কারিকুলাম-সিলেবাসের অসামঞ্জস্যসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়। তারা জানান, ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে ক্লাস ও ল্যাব পরিচালনা করতে হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে কার্যকরভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

এসব সমস্যার প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শিক্ষায় যত টাকা লাগে দেওয়া হবে। কিন্তু কোথায় কত খরচ হবে, তা নির্ধারণ করে প্রকল্প নিতে হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সমস্যাগুলো শুনে সেগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেব।’

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। পলিটেকনিকের প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে পরীক্ষা। তাতে তুমিও ফেল, ছয়মাস পর আমিও ফেল, কারো বাঁচার উপায় নেই। তাই শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন কি না, তা কেন্দ্র থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষার লক্ষ্য হলো স্বল্প সময়ে হাতে-কলমে শিখে পরিবার ও দেশকে স্বাবলম্বী করা। এখানে বাড়তি বা অযাচিত পড়াশোনা করে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। আমাদের এমন পাঠ্যক্রম তৈরি করতে হবে যা সরাসরি কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহীদের জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমল থেকেই বিশেষ সুযোগ রাখা আছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতি গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কেননা, মন্ত্রী আসেন ও যান, কিন্তু সবারই প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করতে হয়। তাই শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে শিক্ষকদের আবাসন ও অন্যান্য সুবিধা ধাপে ধাপে নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়া ১৯ জন শিক্ষকের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ এবং প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আবু হানিফ প্রমুখ।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

মাদরাসার বাথরুমে ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ, শরীরে যৌন নির্যাতনের আলামত

রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত শিশুর শরীরে বাহ্যিক কোনো ধরনের জখম বা আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে সুরতহাল করার সময় শিশুটির পায়ুপথে অস্বাভাবিক ও গুরুতর জখমের চিহ্ন দেখা গেছে।

১৩ ঘণ্টা আগে

বিদ্যুতে নতুন রেকর্ড, উৎপাদন ছাড়াল ১৭ হাজার মেগাওয়াট

তবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে জানা যায়, ওই সময় লোডশেডিং হয়েছে ৪৯৯ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ওই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড উৎপাদনের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল অনেকটা।

১৪ ঘণ্টা আগে

রামিসা হত্যা: আদালতে প্রধান আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

১৬ ঘণ্টা আগে

ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু, ১১ দিন মনিটরিং

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যানবাহন চলাচল ও যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন রাখতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে এ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কার্যক্রম শুরু করবে। চলবে ৩১ মে পর্যন্ত।

১৮ ঘণ্টা আগে