ডাকবাংলোর দুই কক্ষে পড়ে ছিল নারী কর্মী ও ২ সন্তানের মরদেহ, পাশে ঘুমের ওষুধ

বরগুনা প্রতিনিধি
বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর এ কক্ষে পাওয়া যায় ইতি রানীর বড় মেয়ে আরাধার মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত

বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর দুটি কক্ষ থেকে দুই শিশুসন্তানসহ ওই ডাকবাংলোরৎ অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতা কর্মী ইতি রানীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কক্ষ দুটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। একটি কক্ষে পাওয়া যায় ইতি ও তার ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ। আরেক ঘরে পড়ে ছিল ইতির বড় মেয়ে আরাধা বিশ্বাসের (১১) লাশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুটি কক্ষের একটি থেকে ঘুমের ওষুধ পাওয়া গেছে। তা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ইতি রানী পরিকল্পিতভাবে দুই মেয়েকে নিয়ে সেখানে গিয়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৪টার দিকে শহরের থানাপাড়া এলাকার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা পাশাপাশি দুটি কক্ষে মরদেহগুলো দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিয়েছিলেন।

ইতি রানী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় খণ্ডকালীন ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দু্ই মাস আগে অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ইতি বরগুনা শহরের কালীবাড়ি এলাকার দুলাল রায়ের স্ত্রী।

ডাকবাংলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতো বুধবারও সকালে কাজে যান ইতি রানী। এ দিন তার সঙ্গে ছিলেন দুই মেয়ে। বিকেলে ইতি রানীকে পাওয়া না গেলে সবাই মিলে তাকে খুঁজতে থাকেন। পরে ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ বন্ধ দেখা যায়। দরজার ফাঁক দিয়ে দেখা যায়, দুটি কক্ষে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে তিন মা-মেয়ে।

খবর পেয়ে বরগুনা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম জানান, ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, সকালে সুপারি নিয়ে আমতলী বাজারে যাই। ফিরে এসে ওদের কাউকে ঘরে না পেয়ে পাশের ঘরে জিজ্ঞাসা করি। তারা জানায়, বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেছে। কিছুক্ষণ পর এলাকার এক বড় ভাই আমাকে ডাকবাংলোয় নিয়ে আসে। এসে দেখি এই অবস্থা।

ইতি রানীর বড় বোন রিতা রানী জানান, বেশ কিছু ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন ইতি রানী। এসব ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে ইতি খুব দুশ্চিন্তায় থাকতেন। এ ছাড়া পারিবারিক আর কোনো ঝামেলা তাদের ছিল না।

জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ইব্রাহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, মৃতদেহের পাশে ঘুমের ওষুধ পাওয়া গেছে। ফলে এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতি রানী মেয়েদের ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বলেও জানা গেছে। পরিকল্পনা করেই ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারেন তিনি। পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

পাহাড়ি ঢলে ডুবল গোমতীর চরাঞ্চল, সহস্রাধিক কৃষকের ফসলহানি

সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলের শত শত একর সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। লোকসান কিছুটা কমাতে স্থানীয় কৃষকদের কোমর সমান পানিতে নেমে অপরিপক্ব ফসল কেটে ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

১ দিন আগে

ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ভাসছে কমলগঞ্জ, পানিবন্দি ১৫ গ্রাম

রাতের আঁধারে প্রবল স্রোতে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে মোখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোর

১ দিন আগে

কিশোরগঞ্জের হাওরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২টি নৌ ডাকাতি

ভুক্তভোগী সদরঞ্জন দাস জানান, তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রাম থেকে অন্য এক ব্যক্তিসহ নৌকায় করে হাঁসের বাচ্চা কিনতে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে বর্শিকুড়া-শেরপুর সেতু সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে মাথায় হেলমেট পরিহিত সাতজনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের

১ দিন আগে

টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল, আশ্রয়কেন্দ্রে শতাধিক পরিবার

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে বান্দরবানের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় শহরের একাধিক এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

২ দিন আগে