
শরিফুজ্জামান পিন্টু

রাজধানীর অভিজাত চার এলাকা— গুলশান, নিকেতন, বারিধারা ও বনানীর পয়ঃবর্জ্য সরাসরি লেকে পড়া ঠেকাতে প্রতিটি ভবনে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। তবে ভবন মালিকরা বলছেন, এর মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসা উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাচ্ছে। তারা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ওয়াসাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন। বাসিন্দারা বলছেন, যে প্রক্রিয়ায় সরকার গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেক রক্ষা করতে চাইছে, সেটি বাস্তবসম্মত নয়।
অভিজাত বলে পরিচিত চার এলাকার ভবন মালিকদের এ বিষয়ে ঢালাও চিঠি দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে— যেসব এলাকায় ঢাকা ওয়াসা কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছে এবং ভবনগুলোকে সেই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করেছে, সেখানে নতুন করে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করতে হবে কেন?
এসব এলাকার ভবন মালিক থেকে শুরু করে নগর বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। এমনকি এই প্রক্রিয়ায় নতুন ধরনের বাণিজ্যের পথ সুগম হবে বলে কারও কারও আশঙ্কা। তারা মনে করছেন, তৈরি বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করতে লাখ লাখ টাকা খরচ হবে এবং হাজার হাজার ভবন মালিক এক শ্রেণির ঠিকাদারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বেন।
তবে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম রাজনীতি ডটকমকে বলেন, এসব আশঙ্কা যারা করছেন, তাদের পারসেপশনে ভুল আছে। রাজউকের ২০২৫ সালের বিধি অনুযায়ী ওয়াসার স্যুয়ারেজ কভারেজ না থাকা এলাকায় এসটিপি (স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপন করা বাধ্যতামূলক। আর যেসব এলাকায় স্যুয়ারেজ কভারেজ আছে, সেখানে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল নির্মাণ করতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে রাজউকের এই প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, গত ৫০ বছরে ঢাকায় ওয়াসার স্যুয়ারেজ কভারেজ ২০ শতাংশ। বাকি ৮০ শতাংশ আগামী ৫-৬ বছরে হয়ে যাবে— এটা কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। তাই গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক রক্ষায় আমাদের সেপটিক ট্যাংকের দিকেই যেতে হবে।

রাজধানীর এই চার অভিজাত এলাকার সঙ্গে রাজউজ-ওয়াসার বিরোধের সূত্রপাত রাজউকের একটি চিঠি ঘিরে। গত ২১ জুন রাজউক প্রথম দফায় ও ২১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ওই চিঠি পাঠায় এসব এলাকার ভবন মালিক বরাবার।
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গুলশান লেকসংলগ্ন গুলশান, নিকেতন, বারিধারা ও বনানী এলাকার ভবনগুলোর সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল নির্ধারিত সময় পরপর পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কারের চালান, রসিদ কিংবা সংশ্লিষ্ট নথি ভবন পরিদর্শনের সময় রাজউকের কর্মকর্তাদের দেখাতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখাতে না পারলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনীতি ডটকমের হাতে আসা ওই চিঠির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কথা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী গুলশান লেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আবর্জনামুক্ত রাখতে এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে নির্দেশিত কার্যাবলি সম্পন্ন করার জন্য প্রথমে ভবন মালিকদের এক মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়। পরের চিঠিতেও এক মাস সময় দিয়ে এর মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করে দেওয়া হয়।

এর মধ্যে গত ৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পরিবেশ সুরক্ষা, পানিদূষণ রোধ ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আগে থেকে কাজ শুরু হলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর রাজউক, ওয়াসাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো নড়েচড়ে বসে।
এসব সংস্থার পক্ষ থেকে নির্দেশনা পেয়ে ভবন মালিকদের কেউ কেউ রাজউকের চিঠির বিষয়বস্তু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন— গুলশান, বনানী ও বারিধারা রাজধানীর সেই অল্প কয়েকটি এলাকার মধ্যে অন্যতম, যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা ওয়াসার কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা রয়েছে। এসব এলাকায় ভবন নির্মাণের সময় ওয়াসার অনুমোদন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরকারি স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ভবন মালিকেরা পানির বিলের সঙ্গে নিয়মিত স্যুয়ারেজ বিলও পরিশোধ করে আসছেন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সম্পাদক এবং বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মু. মুসলেহ উদ্দীন হাসান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য ওয়াসাকে নিয়মিত বিল দেওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব সেপটিক ট্যাংক রাখলে অযাচিত খরচের অতিরিক্ত খাত তৈরি হবে। এটা নিরসনে সরকারের অধীন সংস্থা হিসেবে রাজউক ও ওয়াসাকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরকারকেই ঠিক করতে হবে, যারা নিজস্ব খরচে এই শোধনাগার বা সেপটিক ট্যাংক স্থাপন করছে, তাদের নিয়মিত সেবা ফি কমানো হবে কি না বা কোনো বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে কি না।’
রাজউকের নতুন নির্দেশনার বিষয়ে ভবন মালিকদের অনেকেই প্রশ্ন তুলে বলেছেন— যদি ভবনের বর্জ্য শেষ পর্যন্ত ওয়াসার স্যুয়ারেজে চলে যায়, তাহলে নিয়মিত সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ বা তা পরিষ্কারের বাধ্যবাধকতার যৌক্তিকতা কোথায়? আবার সেপটিক ট্যাংক যদি কার্যকর রাখতেই হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা কতটা?
গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের দূষণ কোনো নতুন সমস্যা নয়। বছরের পর বছর ধরে লেকে অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য, বৃষ্টির পানির ড্রেনের মিশ্রণ, অবৈধ সংযোগ ও বিভিন্ন স্থাপনা থেকে নির্গত বর্জ্য গিয়ে পড়ছে। ফলে লেকের পানির মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু এই দূষণের দায় কেবল ভবন মালিকদের ওপর বর্তায় কি না, সে প্রশ্নও রয়েছে অনেকের।
নগর বিশেষজ্ঞ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, রাজউকের এই উদ্যোগের সঙ্গে কয়েকটি বিষয় যুক্ত। গুলশান-বনানীসহ অভিজাত এলাকার যেখানে স্যুয়ারেজ লাইন নেই, সেখানে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করতেই হবে। কিন্তু এই লাইন থাকলে এবং ওয়াসা নিয়মিত বিল নিলে, সেসব ভবনে সেপটিক ট্যাংক করার প্রশ্নই আসে না। সেবা না দিয়ে বিল নেওয়ার প্রবণতা আগে বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, বাড়ির ডিজাইনে যদি সেপটিক ট্যাংক রাখার বাধ্যবাধকতা থাকে এবং স্টর্ম ওয়াটার (বৃষ্টির পানি) নিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে পয়ঃবর্জ্য লাইন যুক্ত করে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে রাজউককে ব্যবস্থা নিতেই হবে। কারণ এই দায় ভবন মালিকের। আর সেপটিক ট্যাংক ছাড়া যদি রাজউক ডিজাইন পাস করে, সেই দায় রাজউকের। বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে কীভাবে পয়ঃবর্জ্য লাইন যুক্ত করা যায়, সেটি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রাজউক এবং ওয়াসাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বনানী ১৭/এ সড়কের একটি ভবনের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজনীতি ডটকমকে জানান, তাদের বাড়িটি সত্তরের দশকে নির্মিত। ওই সময় সেপটিক ট্যাংকের ব্যবস্থা ছিল। পরে ওয়াসা তাদের স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাড়ির পয়ঃবর্জ্য লাইন সংযুক্ত করতে নোটিশ দেয় এবং তখন থেকে এর জন্য বিলও আদায় করে আসছে।
ওই ভবন মালিক বলেন, ‘এত বছর পর আবার বলছে, নতুন করে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করতে, যেটি প্রায় অসম্ভব কাজ। যদি কেউ পয়ঃবর্জ্য লাইন সরাসরি লেকে বা স্টর্ম ওয়াটার (বৃষ্টির পানি) নিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে, তাহলে তাকে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করতে বাধ্য করা যায়। কিন্তু যাদের পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কেন সেপটিক ট্যাংক তৈরি করতে হবে?’
তার মতে, গুলশান লেক দূষিত হচ্ছে মূলত ওয়াসার কারণে ও নজরদারির অভাবে। তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে লেকে অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য কারা ফেলছে, সেটি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বৃষ্টির পানির ড্রেনে কীভাবে অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য মিশছে, সেটিও দেখা হোক। বিভিন্ন স্থাপনা থেকে নির্গত বর্জ্য গিয়ে লেকে পড়ছে। আবার ওয়াসার লাইনেও ত্রুটি রয়েছে। এসবের দায় ঢালাওভাবে বাড়ির মালিকদের ওপর চাপানো উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।’
বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মু. মুসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের খাল-বিল ও নদী-নালাগুলোকে দূষিত করে নষ্ট করে ফেলছি। রাজউক যেসব এলাকায় এই বাধ্যবাধকতা দিয়েছে, সেগুলো আমাদের উচ্চ আয়ের এলাকা এবং সাধারণ ধারণামতে সেখানকার বাসিন্দারা পরিবেশসচেতন। ফলে কেবল অনুরোধ বা আহ্বান জানালেই এটি তাদের নিজেদের উদ্যোগে করার কথা। তবে সচেতনতার অভাবে যদি তা না হয়, তবে পরিবেশ রক্ষায় রাজউকের পক্ষ থেকে এমন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কারণ একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত খরচের চেয়ে পুরো সমাজের সুফল ও পরিবেশগত নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইন কোথাও লেকের সঙ্গে যুক্ত থাকে, লাইন অকেজো হয়ে থাকে, কোথাও ধারণক্ষমতার সংকট থাকে কিংবা পাইপলাইনে ত্রুটি থাকে, তাহলে সেটি দেখা সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্ব। একইভাবে কোথাও যদি অবৈধ সংযোগ থাকে, সেটি শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করার দায়িত্বও সরকারি সংস্থার। এমন পরিস্থিতিতে শুধু ভবন মালিকদের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ ও তা পরিষ্কারের নির্দেশ দিয়ে সমস্যার মূল কারণ দূর করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
গুলশান এলাকার একজন ভবন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘রাজধানীর আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই ছিল ভবনভিত্তিক সেপটিক ট্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বর্জ্য কেন্দ্রীয়ভাবে শোধন করা। যদি এখন আবার ভবনগুলোকে সেপটিক ট্যাংকের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বলা হয়, তাহলে এটি বিদ্যমান স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার সক্ষমতা ও বাস্তব অবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।’
তিনি বলেন, ‘তাছাড়া ঢাকা শহরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও সীমাবদ্ধ আয়তনের এলাকায়, যেখানে এক ইঞ্চি জায়গার সংকটও নিত্যদিনের বাস্তবতা, সেখানে নতুন করে সেপটিক ট্যাংক বা সোকওয়েল নির্মাণের পর্যাপ্ত স্থান ভবন মালিকেরা কোথায় পাবেন? এরই মধ্যে নির্মিত ও ব্যবহৃত ভবনগুলো ভেঙে বা সেগুলোর অবকাঠামো পরিবর্তন করে নতুন করে ট্যাংক বসানো অবাস্তব কাজ।’
জায়গার সংকট ও কারিগরি দিক নিয়ে অধ্যাপক ড. মু. মুসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, ‘বাস্তবায়নে কাঠামোগত সক্ষমতার বিষয়টি ভবন নির্মাণ প্রকৌশলীরা আরও ভালো বলতে পারবেন। তবে সাধারণ নগর পরিকল্পনার অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, জায়গার দিক থেকে অধিকাংশ ভবনেই পর্যাপ্ত স্থান রয়েছে। আর যেগুলো এরই মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে, সেগুলোতেও কাঠামোগত কিছুটা পরিবর্তন এনে নতুন করে এই ব্যবস্থা যুক্ত করা সম্ভব। ভবনের শুরুতেই এটি করলে খরচ কম হতো, তবে এখন নির্মিত ভবনে তা করতে গেলে কিছুটা অতিরিক্ত ব্যয় হবে।’
এ ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তন ও স্থাপনা প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়। তাই নিয়ম বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যেন বাড়িওয়ালাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে রাজউককে খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়ে এই নগর পরিকল্পনাবিদ।
তিনি বলেন, ‘ওয়াসা বা রাজউক কীভাবে বিষয়টিকে সবার জন্য সহজ ও সহনীয় করতে পারে, তা বিবেচনা করা দরকার। একেকজন ব্যক্তির জন্য আলাদাভাবে যন্ত্রপাতি কিনতে গেলে খরচ অনেক বেশি পড়ে। সরকার বা রাজউক কেন্দ্রীয়ভাবে পাইকারি হারে সরঞ্জাম কিনে দিলে বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিলে নির্মাণ খরচ অনেকটাই কমে আসবে।’
রাজউকের আদেশে অবশ্য এই নির্দেশনার পেছনের কারিগরি কারণ কিংবা কোন কোন ভবনের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এখন সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি ঢাকা ওয়াসা ও রাজউকের দিকে। তারা জানতে চান, এই নির্দেশ কি সব ভবনের জন্য, নাকি কেবল যেসব ভবন কার্যকর স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে, তাদের জন্য? আর যদি স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও এমন নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে রাজধানীর অন্যতম পরিকল্পিত এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রকৃত অবস্থা আসলে কী?
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে ঢাকা ওয়াসার জনসংযোগ বিভাগের মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর রাজনীতি ডটকমকে লিখিত উত্তরে বলেছে, ‘রাজউকের নীতিমালা আনুযায়ী বিল্ডিং করার সময় সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল নির্মাণ করতে হবে, যার সঙ্গে ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইনের সঙ্গে সংযোগের কোনো সম্পর্ক নেই। যদি কোনো ভবনে তা না থাকে, সেটি নিয়মের ব্যতয়। জমির পরিমাণ ৫ কাঠা বা এর ওপরে হলে নতুন নিয়ম অনুযায়ী এসটিপি করতেই হবে।’
অভিজাত এ চার এলাকায় কত শতাংশ ভবনের পয়ঃলাইন স্যুয়ারেজ লাইনের বাইরে সংযুক্ত রয়েছে এবং তাদের চিহ্নিত করা গেলেও কড়াইল, বাড্ডা, কালাচাঁদপুর ও বনানী ১৮ নম্বর সড়কের একটি অংশ থেকে লেকে ময়লা ফেলা কীভাবে বন্ধ হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে লিখিত উত্তরে বলা হয়েছে, ‘অধিকাংশ এলাকায় পয়ঃলাইন নেই। যেখানে পয়ঃলাইন নেই সেখানে বিল নেওয়া হয় না। লেকে ময়লা ফেলায় বিষয়টি সিটি করপোরেশনের অধীনে।’
সোসাইটিগুলো লেক রক্ষায় একমত হলেও দূষণের অন্যান্য উৎস থাকায় তারা মনে করে না যে ভবনে ভবনে এসটিপি করলেই লেক দূষণমুক্ত হবে— এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের উত্তর, ‘নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক বাসায় সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল বা এসটিপি থাকলে দূষণ অনেকাংশে কমে আসবে। সঙ্গে সঙ্গে লেকে বর্জ্য ফেলাও বন্ধ করতে হবে।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ২০২৩ সালে জরিপের যে তথ্য প্রকাশ করে তাতে বলা হয়, গুলশান, বারিধারা, নিকেতন ও বনানী এলাকার তিন হাজার ৮৩০টি বাড়ির মধ্যে দুই হাজার ২৬৫টির স্যুয়ারেজ লাইন লেক কিংবা ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত, যা মোট বাড়ির ৮৫ শতাংশ। এর ফলে লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে ও মশার উপদ্রব বাড়ছে।
এই চার অভিজাত এলাকায় মোট কতটি ভবন রয়েছে এবং কতগুলো ভবনে সেপটিক ট্যাংক আছে বা নেই— এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ঢাকা ওয়াসার কাছে নেই। তবে নিয়ম অনুযায়ী সব ভবনেই সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল থাকতে হবে— এ অবস্থানে অনড় সংস্থাটি।

২০২৩ সালের ১৩ জুন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম একক পয়ঃশোধনাগারটির (এসটিপি) কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। তিন হাজার ৪৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৬২ একর জমির ওপর এসটিপি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ওয়াসার সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন ঢাকা শহরে প্রতিদিন দুই হাজার মিলিয়ন লিটার পয়ঃবর্জ্য উৎপন্ন হয়। তার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শোধন করার কথা দাশেরকান্দি প্ল্যান্টে। কিন্তু সংযোগ তৈরি না করেই প্ল্যান্টটি উদ্বোধন করা হয়। এ কাজে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ওয়াসার সাবেক এমডি তাকসিম এ খান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
রামপুরা ব্রিজ থেকে দাশেরকান্দির দূরত্ব প্রায় ছয় কিলোমিটার। সরেজমিনে দেখা যায়, রামপুরা ব্রিজসংলগ্ন হাতিরঝিলের ভেতরে রয়েছে ওয়াসার পাম্প। এখান থেকে পাম্পের মাধ্যমে ময়লা পানি টেনে দাশেরকান্দিতে নেয় ওয়াসা। পরে প্ল্যান্টের ভেতরে কয়েকটি স্তরে পানি থেকে ময়লা আলাদা করা হচ্ছে। আর পানি বড় নালা দিয়ে ফেলা হচ্ছে রামপুরা খালে।
এসটিপি ও সংযোগ লাইন আলাদা দুটি প্রকল্প ছিল। এর মধ্যে এসটিপি প্রথমে স্থাপন করা হয়েছে। এখন সংযোগ লাইন স্থাপনে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ খুঁজছে ওয়াসা। সংযোগ তৈরিতে দরকার প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। ওই অর্থায়ন নিশ্চিত হলে শহরের বাসাবাড়ির পয়ঃবর্জ্য একটি নির্দিষ্ট লাইনে এসটিপিতে যাবে। সেখানে বৃষ্টির পানি ঢোকার সুযোগ থাকবে না।
অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু হলেও পাইপলাইন তৈরি হয়নি। রাজধানীর অনেক এলাকা এই নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনায় গুলশান ও বনানীর নামও আছে। নতুন নেটওয়ার্কে এসব এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হলেও আবার সেপটিক ট্যাংক করতে বলাটা অযৌক্তিক। বরং দাশেরকান্দি প্রকল্পে সব এলাকা অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে সেটি সব পক্ষের জন্য ভালো হবে। সে ক্ষেত্রে ভবন মালিকদের কাছ থেকে খরচের একটি অংশ নেওয়া যেতে পারে।
রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, দাশেরকান্দি প্রকল্পে বেশ কিছু জটিলতা আছে। এর সঙ্গে যদি স্টর্ম ওয়াটার যোগ করা হয়, তাহলে সব এলাকার স্যুয়ারেজ কভার করা সম্ভব হবে না।

এই চারটি অভিজাত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য পৃথক সোসাইটি রয়েছে, যদিও সব ভবন মালিক এসব সোসাইটির সদস্য নন। আবার ভবন মালিকদের বেশির ভাগ এই এলাকায় বসবাসও করেন না। বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে গুলশান ও বনানী সোসাইটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে রাজনীতি ডটকম। তারা একবাক্যে লেক রক্ষার পক্ষে, কিন্তু রাজউক ও ওয়াসার উদ্যোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন।
গুলশান সোসাইটির মহাসচিব মুজিবুর রহমান মৃধা রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘সোসাইটি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর কোনো ক্ষমতা সেই অর্থে নেই। গুলশান এলাকার ভবন মালিকদের ভোটে আমরা নির্বাচিত। তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে আমরা কাজ করি। লেক রক্ষা করার সঙ্গে সবার স্বার্থ জড়িত। অতএব আমরা চাই এটি রক্ষা করা হোক। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, যে প্রক্রিয়ায় ওয়াসা ও রাজউক এগোচ্ছে, সেটি সঠিক পথ নয়। গুলশানের ভবন মালিকদের পক্ষে চাপিয়ে দেওয়া একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার সোসাইটির সঙ্গে রাজউক, ওয়াসাসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের টাউন হল সভা হয়েছে। সেই সভায় সোসাইটির নেতা ও ভবন মালিকরা বলেছেন, একটি ভালো উদ্যোগ বাস্তবায়নে যেন অবাস্তব পদক্ষেপ না নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, ধরা যাক গুলশানের সব ভবনে সেপটিক ট্যাংক বসানো হলো। তাহলেই কি লেক দূষণমুক্ত হবে? সে ক্ষেত্রে কড়াইল বস্তি, কালাচাঁদপুর, বনানী ১৮ নম্বর সড়কের একটি অংশ ও বাড্ডাসহ বড় এলাকার বর্জ্য লেকে পড়া কীভাবে বন্ধ করবেন?
মুজিবুর রহমান মৃধা মনে করেন, যেসব ভবনের লাইন স্যুয়ারেজ লাইনের সঙ্গে যুক্ত, সেসব ভবনে সেপটিক ট্যাংক করতে বলা যায় না। আবার যারা স্যুয়ারেজ লাইনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত পানির বিলের সঙ্গে স্যুয়ারেজ বিল দিচ্ছেন, তাদের নতুন করে সেপটিক ট্যাংক তৈরি করতে বলা যায় না।
বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভূঁইয়া দিলন রাজনীতি ডটকমকে বলেন, এই প্রথম সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের সোসাইটিগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসেছে, এটি ভালো উদ্যোগ। গুলশান-বনানী লেক বাঁচাতে হবে— এ নিয়ে কারও ভিন্নমত নেই। কিন্তু কাজটি করতে হবে পরিকল্পিতভাবে। কারণ এটাও সত্য, কিছু ভবন মালিক সারফেস ওয়াটার লাইনের সঙ্গে পয়ঃবর্জ্য লাইন জুড়ে দিয়েছেন। এটা যেমন অন্যায়, তেমনি যারা ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইনের সঙ্গে বাসার পয়ঃবর্জ্য লাইন যুক্ত করেছেন এবং নিয়মিত বিল দিচ্ছেন, তাদের দোষারোপ করা যায় না বা এমন চিঠি দেওয়া যায় না।
শওকত আলী ভূঁইয়ার মতে, সমস্যাটা দুপক্ষেরই। কিছু ভবন মালিকের দায় তো আছেই, কিন্তু ওয়াসাও যেন দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। সোসাইটির পক্ষ থেকে যত রকম সহযোগিতা করা যায়, সেটি করা হচ্ছে এবং হবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সব ভবন মালিক সোসাইটির সদস্য নন। আবার এসব এলাকায় প্রায় ৭০ ভাগ ভবন মালিক অন্যত্র থাকেন। তাদের ভাড়াটিয়ারা জানেনও না, বাড়ির কোথায় কোন লাইন। সবকিছু বিবেচনা ও পর্যালোচনা করে এই জটিল বিষয়টির সমাধান করতে হবে বলে মনে করেন প্রায় এক দশক বনানী সোসাইটির নেতৃত্ব দেওয়া শওকত আলী ভূঁইয়া।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম রাজনীতি ডটকমকে বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সুবিধাভোগী হবেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। আর যদি না হয়, তাহলে ভুক্তভোগীও হবেন তারাই। বিশ্বের প্রায় সব দেশে মানুষ লেকের পাড়ে যায় বেড়াতে, সুবাতাস নিতে। আর গুলশান-বনানী লেকের কাছে মানুষ যায় মাস্ক পরে বা নাক চেপে ধরে। এ জন্য সরকার চায় লেকগুলো বাঁচাতে এবং সবার উচিত সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখা।
মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আজকাল গ্রামের বাড়িতেও সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল বসানো হয়। সেখানে ঢাকার অভিজাত এলাকায় সেটি বসানো হবে না, এটা ভাবা কঠিন।’ ভবন স্যুয়ারেজ লাইনে যুক্ত থাকলেও সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল বসানোর যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্যুয়ারেজ লাইন থেকে সরাসরি পয়ঃবর্জ্য লেকে বা জলাশয়ে পড়ে। এই দূষিত পানি ভূগর্ভে যাচ্ছে। ওয়াসার পানি আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না। এজন্য ফুটিয়ে পান করছি।’
সেপটিক ট্যাংক করতে খরচ প্রসঙ্গে প্রধান পরিকল্পনাবিদ বলেন, ‘২০ থেকে ৫০ কোটি টাকায় বাড়ি করে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করতে না পারার কারণ নেই। এক বিঘা জমির বাড়িতে ২০টি ফ্ল্যাট থাকলে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল করতে একেকটি ফ্ল্যাটে মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।’
জায়গার সংকট প্রসঙ্গে রাজউকের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ধরে নিলাম জায়গা নেই। কিন্তু বাড়ি করার সময় ৪-৫ ফুট জায়গা ছাড়ার কথা ছিল। সেটি কি ছেড়েছেন? যদি ছেড়ে থাকেন, তাহলে সেখানে করুন। যদি না ছেড়ে থাকেন, তাহলে অবৈধ কাজ করেছেন। সামনে জায়গা না থাকলে পেছনে করুন, পেছনে না থাকলে পাশে করুন। এটি বর্গাকৃতির হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। নিজের মতো করে নকশা করতে পারবেন।’
রাজউক ও ওয়াসার কর্মকর্তারা বলছেন, স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে সেপটিক ট্যাংক বা পয়ঃশোধনের মূল পরিকল্পনা থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। লেক ও পরিবেশ রক্ষায় এটি করতেই হবে। ভবন মালিকদেরও এ ক্ষেত্রে সহায়তা প্রয়োজন।
নগর পরিকল্পনাবিদ ড. মুসলেহ উদ্দীন হাসানও এর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করছেন। পাশাপাশি ভবন মালিকদের চাপ কমানোর ব্যবস্থা সরকারকে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা ছাড়া কোনোভাবেই আমাদের প্রকৃতিকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। তবে যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে গ্রাহকদের আর্থিক চাপ কীভাবে কমানো বা সহনীয় করা যায়, কেউ যেন হয়রানির মুখে না পড়ে, সরকারকে সেই পথ খুঁজে বের করতে হবে। যাদের কল্যাণে এই কাজ, তাদের সঙ্গে নিয়েই এগোতে হবে।’

রাজধানীর অভিজাত চার এলাকা— গুলশান, নিকেতন, বারিধারা ও বনানীর পয়ঃবর্জ্য সরাসরি লেকে পড়া ঠেকাতে প্রতিটি ভবনে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। তবে ভবন মালিকরা বলছেন, এর মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসা উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাচ্ছে। তারা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ওয়াসাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন। বাসিন্দারা বলছেন, যে প্রক্রিয়ায় সরকার গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেক রক্ষা করতে চাইছে, সেটি বাস্তবসম্মত নয়।
অভিজাত বলে পরিচিত চার এলাকার ভবন মালিকদের এ বিষয়ে ঢালাও চিঠি দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে— যেসব এলাকায় ঢাকা ওয়াসা কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছে এবং ভবনগুলোকে সেই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করেছে, সেখানে নতুন করে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করতে হবে কেন?
এসব এলাকার ভবন মালিক থেকে শুরু করে নগর বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। এমনকি এই প্রক্রিয়ায় নতুন ধরনের বাণিজ্যের পথ সুগম হবে বলে কারও কারও আশঙ্কা। তারা মনে করছেন, তৈরি বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করতে লাখ লাখ টাকা খরচ হবে এবং হাজার হাজার ভবন মালিক এক শ্রেণির ঠিকাদারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বেন।
তবে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম রাজনীতি ডটকমকে বলেন, এসব আশঙ্কা যারা করছেন, তাদের পারসেপশনে ভুল আছে। রাজউকের ২০২৫ সালের বিধি অনুযায়ী ওয়াসার স্যুয়ারেজ কভারেজ না থাকা এলাকায় এসটিপি (স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপন করা বাধ্যতামূলক। আর যেসব এলাকায় স্যুয়ারেজ কভারেজ আছে, সেখানে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল নির্মাণ করতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে রাজউকের এই প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, গত ৫০ বছরে ঢাকায় ওয়াসার স্যুয়ারেজ কভারেজ ২০ শতাংশ। বাকি ৮০ শতাংশ আগামী ৫-৬ বছরে হয়ে যাবে— এটা কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। তাই গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক রক্ষায় আমাদের সেপটিক ট্যাংকের দিকেই যেতে হবে।

রাজধানীর এই চার অভিজাত এলাকার সঙ্গে রাজউজ-ওয়াসার বিরোধের সূত্রপাত রাজউকের একটি চিঠি ঘিরে। গত ২১ জুন রাজউক প্রথম দফায় ও ২১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ওই চিঠি পাঠায় এসব এলাকার ভবন মালিক বরাবার।
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গুলশান লেকসংলগ্ন গুলশান, নিকেতন, বারিধারা ও বনানী এলাকার ভবনগুলোর সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল নির্ধারিত সময় পরপর পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কারের চালান, রসিদ কিংবা সংশ্লিষ্ট নথি ভবন পরিদর্শনের সময় রাজউকের কর্মকর্তাদের দেখাতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখাতে না পারলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনীতি ডটকমের হাতে আসা ওই চিঠির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কথা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী গুলশান লেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আবর্জনামুক্ত রাখতে এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে নির্দেশিত কার্যাবলি সম্পন্ন করার জন্য প্রথমে ভবন মালিকদের এক মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়। পরের চিঠিতেও এক মাস সময় দিয়ে এর মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করে দেওয়া হয়।

এর মধ্যে গত ৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পরিবেশ সুরক্ষা, পানিদূষণ রোধ ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আগে থেকে কাজ শুরু হলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর রাজউক, ওয়াসাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো নড়েচড়ে বসে।
এসব সংস্থার পক্ষ থেকে নির্দেশনা পেয়ে ভবন মালিকদের কেউ কেউ রাজউকের চিঠির বিষয়বস্তু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন— গুলশান, বনানী ও বারিধারা রাজধানীর সেই অল্প কয়েকটি এলাকার মধ্যে অন্যতম, যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা ওয়াসার কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা রয়েছে। এসব এলাকায় ভবন নির্মাণের সময় ওয়াসার অনুমোদন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরকারি স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ভবন মালিকেরা পানির বিলের সঙ্গে নিয়মিত স্যুয়ারেজ বিলও পরিশোধ করে আসছেন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সম্পাদক এবং বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মু. মুসলেহ উদ্দীন হাসান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য ওয়াসাকে নিয়মিত বিল দেওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব সেপটিক ট্যাংক রাখলে অযাচিত খরচের অতিরিক্ত খাত তৈরি হবে। এটা নিরসনে সরকারের অধীন সংস্থা হিসেবে রাজউক ও ওয়াসাকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরকারকেই ঠিক করতে হবে, যারা নিজস্ব খরচে এই শোধনাগার বা সেপটিক ট্যাংক স্থাপন করছে, তাদের নিয়মিত সেবা ফি কমানো হবে কি না বা কোনো বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে কি না।’
রাজউকের নতুন নির্দেশনার বিষয়ে ভবন মালিকদের অনেকেই প্রশ্ন তুলে বলেছেন— যদি ভবনের বর্জ্য শেষ পর্যন্ত ওয়াসার স্যুয়ারেজে চলে যায়, তাহলে নিয়মিত সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ বা তা পরিষ্কারের বাধ্যবাধকতার যৌক্তিকতা কোথায়? আবার সেপটিক ট্যাংক যদি কার্যকর রাখতেই হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা কতটা?
গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের দূষণ কোনো নতুন সমস্যা নয়। বছরের পর বছর ধরে লেকে অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য, বৃষ্টির পানির ড্রেনের মিশ্রণ, অবৈধ সংযোগ ও বিভিন্ন স্থাপনা থেকে নির্গত বর্জ্য গিয়ে পড়ছে। ফলে লেকের পানির মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু এই দূষণের দায় কেবল ভবন মালিকদের ওপর বর্তায় কি না, সে প্রশ্নও রয়েছে অনেকের।
নগর বিশেষজ্ঞ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, রাজউকের এই উদ্যোগের সঙ্গে কয়েকটি বিষয় যুক্ত। গুলশান-বনানীসহ অভিজাত এলাকার যেখানে স্যুয়ারেজ লাইন নেই, সেখানে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করতেই হবে। কিন্তু এই লাইন থাকলে এবং ওয়াসা নিয়মিত বিল নিলে, সেসব ভবনে সেপটিক ট্যাংক করার প্রশ্নই আসে না। সেবা না দিয়ে বিল নেওয়ার প্রবণতা আগে বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, বাড়ির ডিজাইনে যদি সেপটিক ট্যাংক রাখার বাধ্যবাধকতা থাকে এবং স্টর্ম ওয়াটার (বৃষ্টির পানি) নিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে পয়ঃবর্জ্য লাইন যুক্ত করে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে রাজউককে ব্যবস্থা নিতেই হবে। কারণ এই দায় ভবন মালিকের। আর সেপটিক ট্যাংক ছাড়া যদি রাজউক ডিজাইন পাস করে, সেই দায় রাজউকের। বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে কীভাবে পয়ঃবর্জ্য লাইন যুক্ত করা যায়, সেটি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রাজউক এবং ওয়াসাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বনানী ১৭/এ সড়কের একটি ভবনের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজনীতি ডটকমকে জানান, তাদের বাড়িটি সত্তরের দশকে নির্মিত। ওই সময় সেপটিক ট্যাংকের ব্যবস্থা ছিল। পরে ওয়াসা তাদের স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাড়ির পয়ঃবর্জ্য লাইন সংযুক্ত করতে নোটিশ দেয় এবং তখন থেকে এর জন্য বিলও আদায় করে আসছে।
ওই ভবন মালিক বলেন, ‘এত বছর পর আবার বলছে, নতুন করে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করতে, যেটি প্রায় অসম্ভব কাজ। যদি কেউ পয়ঃবর্জ্য লাইন সরাসরি লেকে বা স্টর্ম ওয়াটার (বৃষ্টির পানি) নিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে, তাহলে তাকে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করতে বাধ্য করা যায়। কিন্তু যাদের পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কেন সেপটিক ট্যাংক তৈরি করতে হবে?’
তার মতে, গুলশান লেক দূষিত হচ্ছে মূলত ওয়াসার কারণে ও নজরদারির অভাবে। তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে লেকে অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য কারা ফেলছে, সেটি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বৃষ্টির পানির ড্রেনে কীভাবে অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য মিশছে, সেটিও দেখা হোক। বিভিন্ন স্থাপনা থেকে নির্গত বর্জ্য গিয়ে লেকে পড়ছে। আবার ওয়াসার লাইনেও ত্রুটি রয়েছে। এসবের দায় ঢালাওভাবে বাড়ির মালিকদের ওপর চাপানো উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।’
বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মু. মুসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের খাল-বিল ও নদী-নালাগুলোকে দূষিত করে নষ্ট করে ফেলছি। রাজউক যেসব এলাকায় এই বাধ্যবাধকতা দিয়েছে, সেগুলো আমাদের উচ্চ আয়ের এলাকা এবং সাধারণ ধারণামতে সেখানকার বাসিন্দারা পরিবেশসচেতন। ফলে কেবল অনুরোধ বা আহ্বান জানালেই এটি তাদের নিজেদের উদ্যোগে করার কথা। তবে সচেতনতার অভাবে যদি তা না হয়, তবে পরিবেশ রক্ষায় রাজউকের পক্ষ থেকে এমন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কারণ একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত খরচের চেয়ে পুরো সমাজের সুফল ও পরিবেশগত নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইন কোথাও লেকের সঙ্গে যুক্ত থাকে, লাইন অকেজো হয়ে থাকে, কোথাও ধারণক্ষমতার সংকট থাকে কিংবা পাইপলাইনে ত্রুটি থাকে, তাহলে সেটি দেখা সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্ব। একইভাবে কোথাও যদি অবৈধ সংযোগ থাকে, সেটি শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করার দায়িত্বও সরকারি সংস্থার। এমন পরিস্থিতিতে শুধু ভবন মালিকদের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ ও তা পরিষ্কারের নির্দেশ দিয়ে সমস্যার মূল কারণ দূর করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
গুলশান এলাকার একজন ভবন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘রাজধানীর আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই ছিল ভবনভিত্তিক সেপটিক ট্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বর্জ্য কেন্দ্রীয়ভাবে শোধন করা। যদি এখন আবার ভবনগুলোকে সেপটিক ট্যাংকের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বলা হয়, তাহলে এটি বিদ্যমান স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার সক্ষমতা ও বাস্তব অবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।’
তিনি বলেন, ‘তাছাড়া ঢাকা শহরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও সীমাবদ্ধ আয়তনের এলাকায়, যেখানে এক ইঞ্চি জায়গার সংকটও নিত্যদিনের বাস্তবতা, সেখানে নতুন করে সেপটিক ট্যাংক বা সোকওয়েল নির্মাণের পর্যাপ্ত স্থান ভবন মালিকেরা কোথায় পাবেন? এরই মধ্যে নির্মিত ও ব্যবহৃত ভবনগুলো ভেঙে বা সেগুলোর অবকাঠামো পরিবর্তন করে নতুন করে ট্যাংক বসানো অবাস্তব কাজ।’
জায়গার সংকট ও কারিগরি দিক নিয়ে অধ্যাপক ড. মু. মুসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, ‘বাস্তবায়নে কাঠামোগত সক্ষমতার বিষয়টি ভবন নির্মাণ প্রকৌশলীরা আরও ভালো বলতে পারবেন। তবে সাধারণ নগর পরিকল্পনার অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, জায়গার দিক থেকে অধিকাংশ ভবনেই পর্যাপ্ত স্থান রয়েছে। আর যেগুলো এরই মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে, সেগুলোতেও কাঠামোগত কিছুটা পরিবর্তন এনে নতুন করে এই ব্যবস্থা যুক্ত করা সম্ভব। ভবনের শুরুতেই এটি করলে খরচ কম হতো, তবে এখন নির্মিত ভবনে তা করতে গেলে কিছুটা অতিরিক্ত ব্যয় হবে।’
এ ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তন ও স্থাপনা প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়। তাই নিয়ম বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যেন বাড়িওয়ালাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে রাজউককে খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়ে এই নগর পরিকল্পনাবিদ।
তিনি বলেন, ‘ওয়াসা বা রাজউক কীভাবে বিষয়টিকে সবার জন্য সহজ ও সহনীয় করতে পারে, তা বিবেচনা করা দরকার। একেকজন ব্যক্তির জন্য আলাদাভাবে যন্ত্রপাতি কিনতে গেলে খরচ অনেক বেশি পড়ে। সরকার বা রাজউক কেন্দ্রীয়ভাবে পাইকারি হারে সরঞ্জাম কিনে দিলে বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিলে নির্মাণ খরচ অনেকটাই কমে আসবে।’
রাজউকের আদেশে অবশ্য এই নির্দেশনার পেছনের কারিগরি কারণ কিংবা কোন কোন ভবনের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এখন সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি ঢাকা ওয়াসা ও রাজউকের দিকে। তারা জানতে চান, এই নির্দেশ কি সব ভবনের জন্য, নাকি কেবল যেসব ভবন কার্যকর স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে, তাদের জন্য? আর যদি স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও এমন নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে রাজধানীর অন্যতম পরিকল্পিত এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রকৃত অবস্থা আসলে কী?
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে ঢাকা ওয়াসার জনসংযোগ বিভাগের মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর রাজনীতি ডটকমকে লিখিত উত্তরে বলেছে, ‘রাজউকের নীতিমালা আনুযায়ী বিল্ডিং করার সময় সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল নির্মাণ করতে হবে, যার সঙ্গে ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইনের সঙ্গে সংযোগের কোনো সম্পর্ক নেই। যদি কোনো ভবনে তা না থাকে, সেটি নিয়মের ব্যতয়। জমির পরিমাণ ৫ কাঠা বা এর ওপরে হলে নতুন নিয়ম অনুযায়ী এসটিপি করতেই হবে।’
অভিজাত এ চার এলাকায় কত শতাংশ ভবনের পয়ঃলাইন স্যুয়ারেজ লাইনের বাইরে সংযুক্ত রয়েছে এবং তাদের চিহ্নিত করা গেলেও কড়াইল, বাড্ডা, কালাচাঁদপুর ও বনানী ১৮ নম্বর সড়কের একটি অংশ থেকে লেকে ময়লা ফেলা কীভাবে বন্ধ হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে লিখিত উত্তরে বলা হয়েছে, ‘অধিকাংশ এলাকায় পয়ঃলাইন নেই। যেখানে পয়ঃলাইন নেই সেখানে বিল নেওয়া হয় না। লেকে ময়লা ফেলায় বিষয়টি সিটি করপোরেশনের অধীনে।’
সোসাইটিগুলো লেক রক্ষায় একমত হলেও দূষণের অন্যান্য উৎস থাকায় তারা মনে করে না যে ভবনে ভবনে এসটিপি করলেই লেক দূষণমুক্ত হবে— এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের উত্তর, ‘নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক বাসায় সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল বা এসটিপি থাকলে দূষণ অনেকাংশে কমে আসবে। সঙ্গে সঙ্গে লেকে বর্জ্য ফেলাও বন্ধ করতে হবে।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ২০২৩ সালে জরিপের যে তথ্য প্রকাশ করে তাতে বলা হয়, গুলশান, বারিধারা, নিকেতন ও বনানী এলাকার তিন হাজার ৮৩০টি বাড়ির মধ্যে দুই হাজার ২৬৫টির স্যুয়ারেজ লাইন লেক কিংবা ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত, যা মোট বাড়ির ৮৫ শতাংশ। এর ফলে লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে ও মশার উপদ্রব বাড়ছে।
এই চার অভিজাত এলাকায় মোট কতটি ভবন রয়েছে এবং কতগুলো ভবনে সেপটিক ট্যাংক আছে বা নেই— এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ঢাকা ওয়াসার কাছে নেই। তবে নিয়ম অনুযায়ী সব ভবনেই সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল থাকতে হবে— এ অবস্থানে অনড় সংস্থাটি।

২০২৩ সালের ১৩ জুন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম একক পয়ঃশোধনাগারটির (এসটিপি) কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। তিন হাজার ৪৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৬২ একর জমির ওপর এসটিপি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ওয়াসার সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন ঢাকা শহরে প্রতিদিন দুই হাজার মিলিয়ন লিটার পয়ঃবর্জ্য উৎপন্ন হয়। তার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শোধন করার কথা দাশেরকান্দি প্ল্যান্টে। কিন্তু সংযোগ তৈরি না করেই প্ল্যান্টটি উদ্বোধন করা হয়। এ কাজে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ওয়াসার সাবেক এমডি তাকসিম এ খান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
রামপুরা ব্রিজ থেকে দাশেরকান্দির দূরত্ব প্রায় ছয় কিলোমিটার। সরেজমিনে দেখা যায়, রামপুরা ব্রিজসংলগ্ন হাতিরঝিলের ভেতরে রয়েছে ওয়াসার পাম্প। এখান থেকে পাম্পের মাধ্যমে ময়লা পানি টেনে দাশেরকান্দিতে নেয় ওয়াসা। পরে প্ল্যান্টের ভেতরে কয়েকটি স্তরে পানি থেকে ময়লা আলাদা করা হচ্ছে। আর পানি বড় নালা দিয়ে ফেলা হচ্ছে রামপুরা খালে।
এসটিপি ও সংযোগ লাইন আলাদা দুটি প্রকল্প ছিল। এর মধ্যে এসটিপি প্রথমে স্থাপন করা হয়েছে। এখন সংযোগ লাইন স্থাপনে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ খুঁজছে ওয়াসা। সংযোগ তৈরিতে দরকার প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। ওই অর্থায়ন নিশ্চিত হলে শহরের বাসাবাড়ির পয়ঃবর্জ্য একটি নির্দিষ্ট লাইনে এসটিপিতে যাবে। সেখানে বৃষ্টির পানি ঢোকার সুযোগ থাকবে না।
অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু হলেও পাইপলাইন তৈরি হয়নি। রাজধানীর অনেক এলাকা এই নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনায় গুলশান ও বনানীর নামও আছে। নতুন নেটওয়ার্কে এসব এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হলেও আবার সেপটিক ট্যাংক করতে বলাটা অযৌক্তিক। বরং দাশেরকান্দি প্রকল্পে সব এলাকা অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে সেটি সব পক্ষের জন্য ভালো হবে। সে ক্ষেত্রে ভবন মালিকদের কাছ থেকে খরচের একটি অংশ নেওয়া যেতে পারে।
রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, দাশেরকান্দি প্রকল্পে বেশ কিছু জটিলতা আছে। এর সঙ্গে যদি স্টর্ম ওয়াটার যোগ করা হয়, তাহলে সব এলাকার স্যুয়ারেজ কভার করা সম্ভব হবে না।

এই চারটি অভিজাত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য পৃথক সোসাইটি রয়েছে, যদিও সব ভবন মালিক এসব সোসাইটির সদস্য নন। আবার ভবন মালিকদের বেশির ভাগ এই এলাকায় বসবাসও করেন না। বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে গুলশান ও বনানী সোসাইটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে রাজনীতি ডটকম। তারা একবাক্যে লেক রক্ষার পক্ষে, কিন্তু রাজউক ও ওয়াসার উদ্যোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন।
গুলশান সোসাইটির মহাসচিব মুজিবুর রহমান মৃধা রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘সোসাইটি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর কোনো ক্ষমতা সেই অর্থে নেই। গুলশান এলাকার ভবন মালিকদের ভোটে আমরা নির্বাচিত। তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে আমরা কাজ করি। লেক রক্ষা করার সঙ্গে সবার স্বার্থ জড়িত। অতএব আমরা চাই এটি রক্ষা করা হোক। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, যে প্রক্রিয়ায় ওয়াসা ও রাজউক এগোচ্ছে, সেটি সঠিক পথ নয়। গুলশানের ভবন মালিকদের পক্ষে চাপিয়ে দেওয়া একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার সোসাইটির সঙ্গে রাজউক, ওয়াসাসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের টাউন হল সভা হয়েছে। সেই সভায় সোসাইটির নেতা ও ভবন মালিকরা বলেছেন, একটি ভালো উদ্যোগ বাস্তবায়নে যেন অবাস্তব পদক্ষেপ না নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, ধরা যাক গুলশানের সব ভবনে সেপটিক ট্যাংক বসানো হলো। তাহলেই কি লেক দূষণমুক্ত হবে? সে ক্ষেত্রে কড়াইল বস্তি, কালাচাঁদপুর, বনানী ১৮ নম্বর সড়কের একটি অংশ ও বাড্ডাসহ বড় এলাকার বর্জ্য লেকে পড়া কীভাবে বন্ধ করবেন?
মুজিবুর রহমান মৃধা মনে করেন, যেসব ভবনের লাইন স্যুয়ারেজ লাইনের সঙ্গে যুক্ত, সেসব ভবনে সেপটিক ট্যাংক করতে বলা যায় না। আবার যারা স্যুয়ারেজ লাইনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত পানির বিলের সঙ্গে স্যুয়ারেজ বিল দিচ্ছেন, তাদের নতুন করে সেপটিক ট্যাংক তৈরি করতে বলা যায় না।
বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভূঁইয়া দিলন রাজনীতি ডটকমকে বলেন, এই প্রথম সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের সোসাইটিগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসেছে, এটি ভালো উদ্যোগ। গুলশান-বনানী লেক বাঁচাতে হবে— এ নিয়ে কারও ভিন্নমত নেই। কিন্তু কাজটি করতে হবে পরিকল্পিতভাবে। কারণ এটাও সত্য, কিছু ভবন মালিক সারফেস ওয়াটার লাইনের সঙ্গে পয়ঃবর্জ্য লাইন জুড়ে দিয়েছেন। এটা যেমন অন্যায়, তেমনি যারা ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইনের সঙ্গে বাসার পয়ঃবর্জ্য লাইন যুক্ত করেছেন এবং নিয়মিত বিল দিচ্ছেন, তাদের দোষারোপ করা যায় না বা এমন চিঠি দেওয়া যায় না।
শওকত আলী ভূঁইয়ার মতে, সমস্যাটা দুপক্ষেরই। কিছু ভবন মালিকের দায় তো আছেই, কিন্তু ওয়াসাও যেন দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। সোসাইটির পক্ষ থেকে যত রকম সহযোগিতা করা যায়, সেটি করা হচ্ছে এবং হবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সব ভবন মালিক সোসাইটির সদস্য নন। আবার এসব এলাকায় প্রায় ৭০ ভাগ ভবন মালিক অন্যত্র থাকেন। তাদের ভাড়াটিয়ারা জানেনও না, বাড়ির কোথায় কোন লাইন। সবকিছু বিবেচনা ও পর্যালোচনা করে এই জটিল বিষয়টির সমাধান করতে হবে বলে মনে করেন প্রায় এক দশক বনানী সোসাইটির নেতৃত্ব দেওয়া শওকত আলী ভূঁইয়া।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম রাজনীতি ডটকমকে বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সুবিধাভোগী হবেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। আর যদি না হয়, তাহলে ভুক্তভোগীও হবেন তারাই। বিশ্বের প্রায় সব দেশে মানুষ লেকের পাড়ে যায় বেড়াতে, সুবাতাস নিতে। আর গুলশান-বনানী লেকের কাছে মানুষ যায় মাস্ক পরে বা নাক চেপে ধরে। এ জন্য সরকার চায় লেকগুলো বাঁচাতে এবং সবার উচিত সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখা।
মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আজকাল গ্রামের বাড়িতেও সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল বসানো হয়। সেখানে ঢাকার অভিজাত এলাকায় সেটি বসানো হবে না, এটা ভাবা কঠিন।’ ভবন স্যুয়ারেজ লাইনে যুক্ত থাকলেও সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল বসানোর যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্যুয়ারেজ লাইন থেকে সরাসরি পয়ঃবর্জ্য লেকে বা জলাশয়ে পড়ে। এই দূষিত পানি ভূগর্ভে যাচ্ছে। ওয়াসার পানি আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না। এজন্য ফুটিয়ে পান করছি।’
সেপটিক ট্যাংক করতে খরচ প্রসঙ্গে প্রধান পরিকল্পনাবিদ বলেন, ‘২০ থেকে ৫০ কোটি টাকায় বাড়ি করে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করতে না পারার কারণ নেই। এক বিঘা জমির বাড়িতে ২০টি ফ্ল্যাট থাকলে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল করতে একেকটি ফ্ল্যাটে মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।’
জায়গার সংকট প্রসঙ্গে রাজউকের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ধরে নিলাম জায়গা নেই। কিন্তু বাড়ি করার সময় ৪-৫ ফুট জায়গা ছাড়ার কথা ছিল। সেটি কি ছেড়েছেন? যদি ছেড়ে থাকেন, তাহলে সেখানে করুন। যদি না ছেড়ে থাকেন, তাহলে অবৈধ কাজ করেছেন। সামনে জায়গা না থাকলে পেছনে করুন, পেছনে না থাকলে পাশে করুন। এটি বর্গাকৃতির হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। নিজের মতো করে নকশা করতে পারবেন।’
রাজউক ও ওয়াসার কর্মকর্তারা বলছেন, স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে সেপটিক ট্যাংক বা পয়ঃশোধনের মূল পরিকল্পনা থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। লেক ও পরিবেশ রক্ষায় এটি করতেই হবে। ভবন মালিকদেরও এ ক্ষেত্রে সহায়তা প্রয়োজন।
নগর পরিকল্পনাবিদ ড. মুসলেহ উদ্দীন হাসানও এর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করছেন। পাশাপাশি ভবন মালিকদের চাপ কমানোর ব্যবস্থা সরকারকে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা ছাড়া কোনোভাবেই আমাদের প্রকৃতিকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। তবে যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে গ্রাহকদের আর্থিক চাপ কীভাবে কমানো বা সহনীয় করা যায়, কেউ যেন হয়রানির মুখে না পড়ে, সরকারকে সেই পথ খুঁজে বের করতে হবে। যাদের কল্যাণে এই কাজ, তাদের সঙ্গে নিয়েই এগোতে হবে।’

শনিবার (২৫ জুলাই) বগুড়ার শেরপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
১৭ ঘণ্টা আগে
৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মাণাধীন ৬৪২ ফুট দীর্ঘ এ প্রাচীরের কাজ করছে ‘মণিহার এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
১৯ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মিরপুরের ই-ব্লকের ওপেক্স পোশাক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
১ দিন আগে