রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রায়হান উদ্দিন, রাসেল খান, আলা উদ্দিন ও আব্দুল্লাহ। তাঁদের কাছ থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ডিবি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিবির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মোল্লা মো. শাহীন। তিনি বলেন, ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে শনিবার বংশাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে রায়হান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি জানায়, রায়হানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে লালবাগের জেন সাহা রোডের একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলার পার্কিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি পিলারের পাশে ইটের খোয়ার বস্তার মধ্যে লাল কসটেপে মোড়ানো চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল পাওয়া যায়। পরে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে।
রায়হানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেমরার ডগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেল, আলা উদ্দিন ও আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিবির কর্মকর্তা। তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে তিনি বলেন, রায়হান আওয়ামী লীগের ঢাকা দক্ষিণের বংশাল থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ইউনিটের দপ্তর সম্পাদক। গত বছর মতিঝিল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পাঁচ মাস কারাগারে ছিল সে। সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বাকি তিনজনসহ সবাই কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য বলেও দাবি করেন ডিবির এই কর্মকর্তা।
ককটেল বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মোল্লা মো. শাহীন বলেন, ‘জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্যই তারা এগুলো করছে। তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও রয়েছে।’ তাঁর দাবি, গত দুই-তিন দিনে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং তারই অংশ হিসেবে যাত্রাবাড়ীতেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এ ঘটনায় আরও কারা জড়িত এবং এর পেছনের কারণ জানতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে ডিবি। আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের সঙ্গে রায়হানের যোগাযোগ আছে কি না জানতে চাইলে ডিবির কর্মকর্তা বলেন, ‘হ্যাঁ, তাদের মোবাইলে কমিউনিকেশন আছে। এগুলো নিয়ে আমরা বিশ্লেষণ করছি।’ রিমান্ডে নেওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এক অটোরিকশাচালক আহত হন। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা হয়েছে।















