
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আবারও দেখা দিয়েছে ফসলহানির শঙ্কা। ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে, ফসল হারিয়ে আহাজারি করছেন অনেকে।
গত রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে নদনদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে হাওরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বজ্রপাতের আতঙ্কে অনেক কৃষক ধান কাটতেও নামতে পারছেন না।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অষ্টগ্রামের খয়েরপুর, আব্দুল্লাহপুর, আদমপুর; মিঠামইনের ঢাকির হাওর, ঘাগড়ার হাওর, বড় হাওর এবং ইটনার ডুইয়ারপাড় ও ধনপুরের উত্তর হাওরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।

অষ্টগ্রামের খয়েরপুর ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় কিছু কৃষক নৌকা ব্যবহার করে আধাপাকা ধান কাটার চেষ্টা করছেন। কোথাও শ্রমিকরা হাটু পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটলেও অধিকাংশ জমির ফসল ইতোমধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ধান ঘরে তোলার কথা থাকলেও তা এখন পানির নিচে।
খয়েরপুর হাওরের কৃষক মজনু মিয়া মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ১০ একর জমিতে আবাদ করেছিলেন। সোমবার বিকেলে তলিয়ে যাওয়া জমির ধান দেখে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি কাঁদছিলেন। তার পরিবারে সারা বছরের খোরাক, ছেলেমেয়ের পড়াশোনাসহ বাজার খরচ চলে জমির ধানের আয় থেকে। বিকল্প আয়ের কোনো সংস্থান নেই তার।
কৃষক মজনু মিয়া বলেন, ‘পেপারে দিয়ে কি অইব, সরকার তো আমার টেহা দিত না। আমার ধানগুলি সব পাইক্কা গেছিল। আর দুই দিন পরে জমিডা কাটবার সিদ্ধান্ত নিছিলাম, এর মধ্যে আল্লার গজব পড়ছে। আমার সব শেষ, পরিবার নিয়া কেমনে চলমু, কেমনে ঋণ পরিশোধ করমু।’

এই হাওরে এমন অনেক কৃষক আছেন, যাদের অবস্থাও একই রকম। তাদের অভিযোগ, পলি পড়ে নদী ভরাট হওয়ার কারণে এবং ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর ফসল কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু দুই দিনের মধ্যে সকল জমি তলিয়ে যাবে, তা বুঝতে পারেননি।
অষ্টগ্রামের বড় হাওরের কৃষক দানা মিয়া জানান, প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলের পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে এই হাওর প্লাবিত হয়। হবিগঞ্জ সীমান্তের খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। প্রতি বছরই অষ্টগ্রামে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
কৃষক নজরুল মিয়া বলেন, তার ৯ একর জমির মধ্যে ৭ একর ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। পানি আরও বাড়লে বাকি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে রমজান আলী নামের আরেক কৃষক দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আবাদ করলেও এখন ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলার পাকা ধান তলিয়ে গেলেও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে ক্ষতির পরিমাণের সঠিক হিসাব নেই। তবে কৃষকদের দাবি, তাদের আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের হাওরে এবার ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যা থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৭ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাদীকুর রহমান বলেন, নদীর পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আরও সময় লাগবে। পাকা ধান গাছ ৫-৬ পানির নিচে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে, তবে পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণটা কমবে। তাই কৃষকদের আশি শতাংশ পাকা ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজনীতি/আইআর

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আবারও দেখা দিয়েছে ফসলহানির শঙ্কা। ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে, ফসল হারিয়ে আহাজারি করছেন অনেকে।
গত রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে নদনদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে হাওরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বজ্রপাতের আতঙ্কে অনেক কৃষক ধান কাটতেও নামতে পারছেন না।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অষ্টগ্রামের খয়েরপুর, আব্দুল্লাহপুর, আদমপুর; মিঠামইনের ঢাকির হাওর, ঘাগড়ার হাওর, বড় হাওর এবং ইটনার ডুইয়ারপাড় ও ধনপুরের উত্তর হাওরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।

অষ্টগ্রামের খয়েরপুর ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় কিছু কৃষক নৌকা ব্যবহার করে আধাপাকা ধান কাটার চেষ্টা করছেন। কোথাও শ্রমিকরা হাটু পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটলেও অধিকাংশ জমির ফসল ইতোমধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ধান ঘরে তোলার কথা থাকলেও তা এখন পানির নিচে।
খয়েরপুর হাওরের কৃষক মজনু মিয়া মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ১০ একর জমিতে আবাদ করেছিলেন। সোমবার বিকেলে তলিয়ে যাওয়া জমির ধান দেখে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি কাঁদছিলেন। তার পরিবারে সারা বছরের খোরাক, ছেলেমেয়ের পড়াশোনাসহ বাজার খরচ চলে জমির ধানের আয় থেকে। বিকল্প আয়ের কোনো সংস্থান নেই তার।
কৃষক মজনু মিয়া বলেন, ‘পেপারে দিয়ে কি অইব, সরকার তো আমার টেহা দিত না। আমার ধানগুলি সব পাইক্কা গেছিল। আর দুই দিন পরে জমিডা কাটবার সিদ্ধান্ত নিছিলাম, এর মধ্যে আল্লার গজব পড়ছে। আমার সব শেষ, পরিবার নিয়া কেমনে চলমু, কেমনে ঋণ পরিশোধ করমু।’

এই হাওরে এমন অনেক কৃষক আছেন, যাদের অবস্থাও একই রকম। তাদের অভিযোগ, পলি পড়ে নদী ভরাট হওয়ার কারণে এবং ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর ফসল কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু দুই দিনের মধ্যে সকল জমি তলিয়ে যাবে, তা বুঝতে পারেননি।
অষ্টগ্রামের বড় হাওরের কৃষক দানা মিয়া জানান, প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলের পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে এই হাওর প্লাবিত হয়। হবিগঞ্জ সীমান্তের খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। প্রতি বছরই অষ্টগ্রামে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
কৃষক নজরুল মিয়া বলেন, তার ৯ একর জমির মধ্যে ৭ একর ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। পানি আরও বাড়লে বাকি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে রমজান আলী নামের আরেক কৃষক দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আবাদ করলেও এখন ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলার পাকা ধান তলিয়ে গেলেও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে ক্ষতির পরিমাণের সঠিক হিসাব নেই। তবে কৃষকদের দাবি, তাদের আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের হাওরে এবার ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যা থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৭ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাদীকুর রহমান বলেন, নদীর পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আরও সময় লাগবে। পাকা ধান গাছ ৫-৬ পানির নিচে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে, তবে পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণটা কমবে। তাই কৃষকদের আশি শতাংশ পাকা ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজনীতি/আইআর

বৃহস্পতিবার স্থানীয়ভাবে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, রিয়াজ মারা মারা গেছেন। এতে তার স্বজনসহ স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে থানায় হামলা চালান। প্রায় শতাধিক মানুষের হামলায় পুলিশ সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এ সময় হামলাকারীরা থানায় কর্তব্যরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হালিমকে মারধর করেন।
২০ ঘণ্টা আগে
সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলের শত শত একর সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। লোকসান কিছুটা কমাতে স্থানীয় কৃষকদের কোমর সমান পানিতে নেমে অপরিপক্ব ফসল কেটে ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
১ দিন আগে
রাতের আঁধারে প্রবল স্রোতে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে মোখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোর
১ দিন আগে
ভুক্তভোগী সদরঞ্জন দাস জানান, তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রাম থেকে অন্য এক ব্যক্তিসহ নৌকায় করে হাঁসের বাচ্চা কিনতে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে বর্শিকুড়া-শেরপুর সেতু সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে মাথায় হেলমেট পরিহিত সাতজনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের
১ দিন আগে