গোগা-পুটখালীর ৬ করাতকল বন্ধ, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
আপডেট : ২০ জুন ২০২৫, ১২: ২১
আইনসঙ্গত না হওয়ায় যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গোগা ও বেনাপোলের পুটখালী ইউনিয়নের বারোপোতা বাজারের ছয়টি করাত কল বন্ধ করে দিয়েছে বিজিবি ও প্রশাসন। ছবি: রাজনীতি ডটকম

যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গোগা ও বেনাপোলের পুটখালী ইউনিয়নের বারোপোতা বাজারের ছয়টি করাতকল বন্ধ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরিবেশ আইনবিরোধী এসব করাতকলের কোনোটিরই বন বিভাগের অনুমোদন ছিল না।

বিজিবি বলছে, করাতকল আইনে সীমান্তের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো করাতকল স্থাপনের বিধান নেই। ফলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অবৈধ করাতকলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে করাতকলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা। কাজ হারিয়েছেন করাতকলগুলোতে নিয়োজিত দুই শতাধিক শ্রমজীবী মানুষ। বন্ধ হয়ে গেছে অনেক ফার্নিচারের দোকান, অনেকের কাঠের ব্যবসা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়েই শার্শা উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে সীমান্তের বিজিবি গোগা বাজারের চারটি ও পুটখালী ইউনিয়নের বারোপোতা বাজারের দুটি কাঠ কাটানো করাতকল বন্ধ করে দেয় বিজিবি। এতে গোগা ও পুটখালী এলাকায় কাঠ ও ফার্নিচারের ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়েছে। হঠাৎ মিল বন্ধ হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে বহু দোকান, মাঝপথে থেমে গেছে কাঠের কাজ, বেকার হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার।

গোগা বাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী কবির হোসেন, মুরসালিন ও আলমাস হোসেন গোগা বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের কাঠ কিনে করাত কলে কেটে ফার্নিচার তৈরি করে বিক্রি করেন।

Benapole-Sawmill-02-Photo-19-06-2025

একসময় চুটিয়ে ব্যবসা করলেও এখন বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে করাত কলগুলো। ছবি: রাজনীতি ডটকম

এই ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা বলেন, হঠাৎ করে গোগা বাজারের চারটি করাতকল বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। গোগা থেকে কাঠ কিনে বেনাপোল, শার্শা, নাভারন বা বাগআঁচড়া বাজারে নিয়ে কাটিয়ে নিয়ে আসতে তাদের যে সময় ও খরচ হবে, তাতে এখনকার দামে ফার্নিচার বিক্রি করলে তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

গোগা বাজারের ইমন স-মিলের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের পরিবার ৪০-৫০ বছর ধরে করাতকলে কাঠ কাটানোর ব্যবসা করে আসছে। কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই বিজিবি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমাদের মিল বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছি।

জাহাঙ্গীর বলেন, গোগার চারটি স-মিল ও ২৫/৩০টি ফার্নিচারের দোকানের দুই শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষদের ঘরের দরজা-জানালার কাঠ মিলে পড়ে আছে। অনেক ব্যাপারির কাঠ বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। সবাই ক্ষতিগ্রস্ত।

করাত কলের মালিক ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা ফের করাত কলগুলো চালুর দাবি জানিয়েছেন। মিলগুলো চালুর অনুমতি দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

শার্শা উপজেলা বন বিভাগের বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইউনুছ আলীর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে শার্শা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শওকত মেহেদী সেতু বলেন, ২০০২ সালের করাতকল আইনের সংশোধনী ২০১২ অনুযায়ী সীমান্তের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো করাত কল স্থাপন করা যাবে না। সে কারণেই সীমান্তবর্তী এলাকার করাতকলগুলো বন্ধ করে দেওয়া। মূলত বিষয়টি বিজিবির।

খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খুরশিদ আনোয়ারও একই আইনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এখানে বিজিবির নিজস্ব কিছু নেই। আইনে অবৈধ হওয়ার কারণেই মিলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

টানা বর্ষণে পানি বাড়ছে হাওরে, বন্যার শঙ্কা

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতের সবশেষ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, কালনী নদীর পানির সমতল পরিমাপ করা হয়েছে ২ দশমিক ৪৭ মিটার, যা প্রাক-বর্ষা বিপৎসীমার (৫ দশমিক ৩৫ মিটার) ২৮৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

১৪ ঘণ্টা আগে

আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, ৬ পুলিশসহ আহত ১২

বৃহস্পতিবার স্থানীয়ভাবে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, রিয়াজ মারা মারা গেছেন। এতে তার স্বজনসহ স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে থানায় হামলা চালান। প্রায় শতাধিক মানুষের হামলায় পুলিশ সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এ সময় হামলাকারীরা থানায় কর্তব্যরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হালিমকে মারধর করেন।

১ দিন আগে

পাহাড়ি ঢলে ডুবল গোমতীর চরাঞ্চল, সহস্রাধিক কৃষকের ফসলহানি

সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলের শত শত একর সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। লোকসান কিছুটা কমাতে স্থানীয় কৃষকদের কোমর সমান পানিতে নেমে অপরিপক্ব ফসল কেটে ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

২ দিন আগে

ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ভাসছে কমলগঞ্জ, পানিবন্দি ১৫ গ্রাম

রাতের আঁধারে প্রবল স্রোতে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে মোখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোর

২ দিন আগে