পশুর হাটে ‘অপেক্ষার খেলা’: চড়া দাম, নজর কাড়ছে বিশাল সব ষাঁড়

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ১৮: ৩৫
বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হয়ে ভোগান্তি বেড়েছে কেরানীগঞ্জের পশুর হাটে। ছবি: রাজনীতি ডটকম

ঈদুল আজহার আর মাত্র দুই দিন বাকি। এমন অবস্থায় রাজধানী ঢাকা ও কেরানীগঞ্জের পশুর হাটগুলোতে যেন চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার অদৃশ্য ‘অপেক্ষার খেলা’।

একদিকে তীব্র গরম, থেমে থেমে বৃষ্টি আর কাদা-পানির ভোগান্তি; অন্যদিকে বিক্রেতাদের চড়া দাম আর ক্রেতাদের বাজেট-সচেতনতা— সব মিলিয়ে এবারের কোরবানির বাজারে তৈরি হয়েছে এক অস্থির পরিস্থিতি।

সরেজমিনে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন হাটসহ রাজধানীর পশুর হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, হাটে পশুর সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দামের হিসেবে মিলছে না ক্রেতা-বিক্রেতার। তীব্র দাবদাহের পর হঠাৎ বৃষ্টির হানায় কেরানীগঞ্জের আগানগর, জিনজিরা, ঘাটারচর ও হাসনাবাদ পশুর হাটে তৈরি হয় চরম ভোগান্তি।

হাটগুলোর অধিকাংশ স্থানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জমে যায় হাঁটু সমান কাদা। গবাদি পশু নিয়ে ব্যাপারিরা পড়েন বিপাকে। ক্রেতারাও কাদার ভয়ে হাটের ভেতরে ঢুকতে সাহস পাচ্ছেন না। এর মধ্যেই বাড়তি হাসিল বা খুঁটি বাবদ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলছেন অনেক ব্যাপারী।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক রাজনীতি ডটকমকে বলেন, "হাটগুলোতে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইজারাদারদের নির্দেশনা মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। কেউ নিয়ম ভেঙে টাকা আদায় করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

হাটে বড় আকারের গরুর তুলনায় মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদাই তুঙ্গে। মিরপুর থেকে আগানগর হাটে আসা এক ক্রেতা রাজনীতি ডটকমকে বলেন, "আমার বাজেট এক লাখ ৬০ হাজার টাকা, অথচ মাঝারি সাইজের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে আড়াই লাখের ওপরে। গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক চড়া মনে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ভাগে কোরবানি দিতে হবে কি না ভাবছি।"

অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, খড়, ভুসি ও ওষুধের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় লোকসান এড়াতে তারা বাড়তি দাম হাঁকাতে বাধ্য হচ্ছেন। রাজবাড়ী থেকে জিনজিরা হাটে আসা এক বিক্রেতা রাজনীতি ডটকমকে বলেন, "গত বছরের চেয়ে প্রতিটি গরুর পেছনে আমাদের অন্তত ২০ হাজার টাকা খরচ বেড়েছে। ক্রেতারা দাম আরও ৩০ হাজার টাকা কমাতে বলছেন। এই দামে বিক্রি করলে আমাদের মূলধনই উঠবে না। শেষ দুই দিনেই বাজার মূলত জমে উঠবে বলে আশা করছি।"

চড়া দামের বাজারে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কেরানীগঞ্জের বিশাল সব ষাঁড়। হাসনাবাদ পশুর হাটে এমবি এগ্রো ফার্মের আনা ২৭ মণ ওজনের ‘সাদাবাহার’ এবং রসুলপুর মাদ্রাসা পশুর হাটে ১৪০০ কেজি ওজনের ‘টাইসন’ এখন হাটের বড় চমক।

টাইসনের দাম চাওয়া হচ্ছে ১১ লাখ টাকা, আর সাদাবাহারের দাম ৭ লাখ। এ ছাড়া সোনাকান্দা বিসিক শিল্পনগরী হাটে আসা হরিয়ানা জাতের তিনটি এক টনের সাদা গরু দেখতে ভিড় করছেন দূর-দূরান্তের মানুষ।

খামারি মোশাররফ হোসেন রাজনীতি ডটকমকে বলেন, "প্রায় দেড় বছর ধরে প্রাকৃতিক পরিবেশে দেশীয় খাবার খাইয়ে গরুগুলোকে বড় করেছি। শেষ মুহূর্তের ক্রেতার অপেক্ষায় আছি, আশা করি ন্যায্য দামেই গরুগুলো বিক্রি করতে পারব।"

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারের বাজারের মূল বৈশিষ্ট্য হলো— মানুষ এখন আবেগ দিয়ে নয়, হিসাব করে কোরবানি দিচ্ছে। এ ছাড়া পরিবহন ও হাসিল খরচ কমাতে অনেক ক্রেতা ও বিক্রেতা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা অনলাইনে গরু কেনাবেচায় ঝুঁকছেন।

এখন সব চোখ ঈদের আগের শেষ দুই দিনের ওপর। ক্রেতারা আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে দাম কিছুটা কমবে। আর বিক্রেতারা মরিয়া হয়ে আছেন শেষ মুহূর্তের উচ্চমূল্যের ক্রেতার অপেক্ষায়। এই দুপক্ষের ‘অপেক্ষার খেলা’ কোন দিকে গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, ৬ পুলিশসহ আহত ১২

বৃহস্পতিবার স্থানীয়ভাবে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, রিয়াজ মারা মারা গেছেন। এতে তার স্বজনসহ স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে থানায় হামলা চালান। প্রায় শতাধিক মানুষের হামলায় পুলিশ সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এ সময় হামলাকারীরা থানায় কর্তব্যরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হালিমকে মারধর করেন।

২০ ঘণ্টা আগে

পাহাড়ি ঢলে ডুবল গোমতীর চরাঞ্চল, সহস্রাধিক কৃষকের ফসলহানি

সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলের শত শত একর সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। লোকসান কিছুটা কমাতে স্থানীয় কৃষকদের কোমর সমান পানিতে নেমে অপরিপক্ব ফসল কেটে ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

১ দিন আগে

ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ভাসছে কমলগঞ্জ, পানিবন্দি ১৫ গ্রাম

রাতের আঁধারে প্রবল স্রোতে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে মোখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোর

১ দিন আগে

কিশোরগঞ্জের হাওরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২টি নৌ ডাকাতি

ভুক্তভোগী সদরঞ্জন দাস জানান, তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রাম থেকে অন্য এক ব্যক্তিসহ নৌকায় করে হাঁসের বাচ্চা কিনতে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে বর্শিকুড়া-শেরপুর সেতু সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে মাথায় হেলমেট পরিহিত সাতজনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের

১ দিন আগে