নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জে নির্বাচনের মাঠে বিএনপির দুই নতুন মুখ

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ১৪: ১৬

ময়মনসিংহ ৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) ও ময়মনসিংহ ৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু ও ইয়াসের খান চৌধুরী। তারা দুজনেই নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন, তবে তাদের রাজনৈতিক মাঠের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের।

দুই আসনের কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর রয়েছে বিশেষ সাংগঠনিক দক্ষতা। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে ভোটাররা জানান, সেবার বিএনপি ঈশ্বরগঞ্জ আসনটি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামানকে ছেড়ে দেয়। তখন উপজেলা বিএনপি সভাপতি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু দলীয় নির্দেশনা মেনে নিয়ে নিজে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন এবং ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীকে সাথে নিয়ে সারা উপজেলা জুড়ে নিবিড় প্রচারণা চালান।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ঈশ্বরগঞ্জ আসনটি জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমামকে ছেড়ে দেয়। দলটি তাদের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক শক্তি জাপার প্রার্থীর পেছনে প্রয়োগ করে।

হামলা-মামলায় বিপর্যস্ত ও বাড়িছাড়া থাকা উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের কঠিন পরিস্থিতিতেও দলের সভাপতি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু হাতেগোনা কয়েকজন কর্মী নিয়ে দলীয় নির্দেশনায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামানের প্রচারণা চালিয়ে যান। তার এই সাংগঠনিক দক্ষতার ফলেই ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণায় অনেকটাই এগিয়ে যান, যা মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও, সকাল ১১টার পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। প্রায় প্রতিটি ভোট কেন্দ্র দখল করে 'লাঙ্গল' প্রতীকের পক্ষে ব্যালট পেপারে সিল মারা শুরু হয়। দুপুর ১টার দিকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী খালেকুজ্জামান নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন।

ওই নির্বাচনের পর লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর সাংগঠনিক দক্ষতা জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নজর কাড়ে। পরবর্তীতে, বিগত সরকার পতনের প্রাক্কালে তাকে বাসা থেকে তুলে এনে 'আয়নাঘরে' নিয়ে যাওয়া হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের নামে ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। দলের প্রতি তার এই ত্যাগ এবং দল পরিচালনায় দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি তাকে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করে। এই মনোনয়ন পাওয়ার পরও তিনি সকলকে সাথে নিয়ে 'ধানের শীষ' প্রতীককে বিজয়ী করতে নির্বাচন করতে চান—এই মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি তার অনুসারীদের মিষ্টি বিতরণ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দিয়েছেন।

নান্দাইল আসন থেকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া ইয়াসের খান চৌধুরী একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তার বাবা মরহুম আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী, ১৯৯১ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া, তার চাচা মরহুম খুররম খান চৌধুরী এই আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক কাজ ও সরকারি সফরে নান্দাইলে এসে একাধিকবার তাদের বাড়িতে আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন।

ইয়াসের খান চৌধুরী বর্তমানে নান্দাইল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং জেলা (উত্তর) বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দল গোছানোর সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি নান্দাইল উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে কর্মী সম্মেলন করেছেন এবং ইতোমধ্যে চারটি ইউনিয়নে বিএনপির কমিটিও গঠন করেছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। এই কারণে, যদিও তিনি নির্বাচনি মাঠে নতুন মুখ, তার সমর্থকরা মনে করছেন পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ইয়াসের খান চৌধুরীকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখবে।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

৩ দল পালটে বিএনপিতে ক্ষমতার স্বাদ রেজা কিবরিয়ার

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে রেজা কিবরিয়া পেয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট। এ আসনে স্বতন্ত্র ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৩৭ ভোট।

৯ ঘণ্টা আগে

জামালপুরে মিল্লাতসহ সব বিএনপি প্রার্থীর জয়

জামালপুরের পাঁচটি আসনেই দাপুটে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে তিনি ৭৮ হাজার ৪৫৪ ভোট বেশি পেয়েছেন।

১০ ঘণ্টা আগে

বিদ্রোহী ও জামায়াত প্রার্থীকে মোকাবিলা করে জহির উদ্দিন স্বপনের বিপুল বিজয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন জয় পেয়েছেন। বেসরকারি ফল অনুযায়ী, তিনি ৮১ হাজার ৮৩৮ ভোট পেয়েছেন।

১১ ঘণ্টা আগে

দলের নির্দেশে নিজ আসন ছেড়ে পাশের আসনে গিয়েও জয় কৃষক দলের বাবুলের

বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, এক লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বাবুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট।

১১ ঘণ্টা আগে