
সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার, কক্সবাজার

নাম উল্লেখ না করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি ইঙ্গিত করে তাকে ‘নব্য গডফাদার’ বলে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাকে কক্সবাজারবাসী প্রতিহত করবে বলেও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
শনিবার (১৯ জুলাই) জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে দেশব্যাপী পদযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসেবে পর্যটন ও সমুদ্রনগরী কক্সবাজারে পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে নারায়ণগঞ্জে ছিল বিখ্যাত গডফাদার শামীম ওসমান। এখন শুনছি, কক্সবাজারে নব্য গডফাদার এসেছে শিলং থেকে। ঘের দখল করছে, মানুষের জায়গা-জমি দখল করছে, চাঁদাবাজি করছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের বাড়ি কক্সবাজারের চকোরিয়া-পেকুয়ায়। সাবেক এই ছাত্রদল নেতা বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগ দিয়ে ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) থেকে বিএনপির মনোনয়নে টনা তিন বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৫ সালে বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ওই বছরের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। দুই মাস পর ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
সালাহউদ্দিনকে আটকের পর তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা করে মেঘালয় পুলিশ। অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২২ জুলাই আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে ২০১৮ সালে সালাহউদ্দিন খালাস পেলেও ভারত সরকার সে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তাকে সেখানেই থাকতে হয়।
২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিলেও খালাস পান সালাহউদ্দিন। আদালত তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। পাসপোর্টের মেয়াদ না থাকায় ৮ মে সালাহউদ্দিন ভ্রমণ অনুমোদনের জন্য আসাম রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেন। তবে সে আবেদনে সাড়া না পেলে তাকে ভারতেই আটকে থাকতে হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ৬ আগস্ট সালাহউদ্দিন দেশে ফেরার জন্য ভ্রমণ অনুমোদন বা ট্রাভেল পাস পান। ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন। পরে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের অভিযোগ দিয়েছেন।
ভারতের শিলংয়ে প্রায় এক দশক আটকে থাকার কারলে সালাহউদ্দিনের নামের সঙ্গে শিলং শব্দটিও জুড়ে গেছে। দেশে ফিরে অবশ্য তিনি আবার বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধিত্বও করছেন তিনি।
শনিবারের পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে এসেছে সে প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘আবার নাকি সে সংস্কার বোঝে না। নাম না বললাম। কক্সবাজারের জনতা এ ধরনের সংস্কারবিরোধী, যে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ভোটব্যবস্থা) বোঝে না, রাজপথে তাকে ঠেকিয়ে দেবে ইনশাল্লাহ।’
পরে একই সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনার গডফাদার, তার অধীনে ছোট ছোট গডফাদার পুরো বাংলাদেশ জুড়ে ছিল। আমরা গডফাদারতন্ত্রের বিলোপ ঘটিয়েছি। আমরা কোনো নতুন কোনো গডফাদারের আবির্ভাব হতে দেবো না। কক্সবাজারে নতুন কোনো গডফাদারকে আপনারা মেনে নেবেন না। তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’
নাহিদও তার বক্তব্যে কারও নাম উল্লেখ করেননি। তিনি আরও বলেন, ‘গডফাদারতন্ত্র, মাফিয়াতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র— সবকিছুকে বাংলাদেশ থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। জনগণের বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
নাম উল্লেখ না করলেও এনসিপি নেতারা তাদের বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদের কথাই উল্লেখ করেছেন— এমনটি ধরে নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন কক্সবাজারের বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। বিকেলে কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, চকরিয়া, ফাঁসিয়াখালী ও হারবাং এলাকায় রাস্তায় নেমে আসেন শত শত নেতাকর্মী। চকরিয়ায় এনসিপির পথসভার মঞ্চ ভাঙচুরও করা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক বলেন, কক্সবাজার জেলার মানুষের আবেগের নাম সালাহউদ্দিন আহমদ। সেই আবেগকে কটূক্তি করে চকরিয়ার ওপর দিয়ে যাওয়ার সাহস কী করে হয় নাসির পাটোয়ারীর! তাকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে তার জবাব রাজপথেই দেওয়া হবে।

নাম উল্লেখ না করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি ইঙ্গিত করে তাকে ‘নব্য গডফাদার’ বলে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাকে কক্সবাজারবাসী প্রতিহত করবে বলেও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
শনিবার (১৯ জুলাই) জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে দেশব্যাপী পদযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসেবে পর্যটন ও সমুদ্রনগরী কক্সবাজারে পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে নারায়ণগঞ্জে ছিল বিখ্যাত গডফাদার শামীম ওসমান। এখন শুনছি, কক্সবাজারে নব্য গডফাদার এসেছে শিলং থেকে। ঘের দখল করছে, মানুষের জায়গা-জমি দখল করছে, চাঁদাবাজি করছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের বাড়ি কক্সবাজারের চকোরিয়া-পেকুয়ায়। সাবেক এই ছাত্রদল নেতা বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগ দিয়ে ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) থেকে বিএনপির মনোনয়নে টনা তিন বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৫ সালে বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ওই বছরের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। দুই মাস পর ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
সালাহউদ্দিনকে আটকের পর তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা করে মেঘালয় পুলিশ। অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২২ জুলাই আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে ২০১৮ সালে সালাহউদ্দিন খালাস পেলেও ভারত সরকার সে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তাকে সেখানেই থাকতে হয়।
২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিলেও খালাস পান সালাহউদ্দিন। আদালত তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। পাসপোর্টের মেয়াদ না থাকায় ৮ মে সালাহউদ্দিন ভ্রমণ অনুমোদনের জন্য আসাম রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেন। তবে সে আবেদনে সাড়া না পেলে তাকে ভারতেই আটকে থাকতে হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ৬ আগস্ট সালাহউদ্দিন দেশে ফেরার জন্য ভ্রমণ অনুমোদন বা ট্রাভেল পাস পান। ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন। পরে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের অভিযোগ দিয়েছেন।
ভারতের শিলংয়ে প্রায় এক দশক আটকে থাকার কারলে সালাহউদ্দিনের নামের সঙ্গে শিলং শব্দটিও জুড়ে গেছে। দেশে ফিরে অবশ্য তিনি আবার বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধিত্বও করছেন তিনি।
শনিবারের পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে এসেছে সে প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘আবার নাকি সে সংস্কার বোঝে না। নাম না বললাম। কক্সবাজারের জনতা এ ধরনের সংস্কারবিরোধী, যে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ভোটব্যবস্থা) বোঝে না, রাজপথে তাকে ঠেকিয়ে দেবে ইনশাল্লাহ।’
পরে একই সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনার গডফাদার, তার অধীনে ছোট ছোট গডফাদার পুরো বাংলাদেশ জুড়ে ছিল। আমরা গডফাদারতন্ত্রের বিলোপ ঘটিয়েছি। আমরা কোনো নতুন কোনো গডফাদারের আবির্ভাব হতে দেবো না। কক্সবাজারে নতুন কোনো গডফাদারকে আপনারা মেনে নেবেন না। তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’
নাহিদও তার বক্তব্যে কারও নাম উল্লেখ করেননি। তিনি আরও বলেন, ‘গডফাদারতন্ত্র, মাফিয়াতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র— সবকিছুকে বাংলাদেশ থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। জনগণের বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
নাম উল্লেখ না করলেও এনসিপি নেতারা তাদের বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদের কথাই উল্লেখ করেছেন— এমনটি ধরে নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন কক্সবাজারের বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। বিকেলে কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, চকরিয়া, ফাঁসিয়াখালী ও হারবাং এলাকায় রাস্তায় নেমে আসেন শত শত নেতাকর্মী। চকরিয়ায় এনসিপির পথসভার মঞ্চ ভাঙচুরও করা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক বলেন, কক্সবাজার জেলার মানুষের আবেগের নাম সালাহউদ্দিন আহমদ। সেই আবেগকে কটূক্তি করে চকরিয়ার ওপর দিয়ে যাওয়ার সাহস কী করে হয় নাসির পাটোয়ারীর! তাকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে তার জবাব রাজপথেই দেওয়া হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার ভোরে জেলার দাউদকান্দি, বুড়িচং (নিমসার), চান্দিনা ও চৌদ্দগ্রাম এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
১৬ ঘণ্টা আগে
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লাঠিটিলার ডোমাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা পরিবেশ ও সংবাদকর্মী খোর্শেদ আলম। ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে হলুদ তরমুজ চাষাবাদের শখ জাগে তার। পরীক্ষামূলকভাবে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো এই তরমুজ চাষ করে সফল হন তিনি। এর পর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
১৮ ঘণ্টা আগে
বাম্পার ফলন হলেও ক্রেতা সংকটে বিপাকে পড়েছেন বরগুনার আমতলীর তরমুজ চাষিরা। বড় পাইকার না থাকায় উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করতে না পেরে চাষিদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এ অবস্থায় উপজেলায় অন্তত শতকোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝাড়াখালী আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভবনের সংকটে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে। সাম্প্রতিক ঝড়ে বিদ্যালয়ের আধাপাকা ভবনের টিনের চালা উড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন গাছতলায়, কখনও রোদে পুড়ে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।
২০ ঘণ্টা আগে