কুমিল্লা জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে সওজের সড়ক ইজারার অভিযোগে তদন্ত

কুমিল্লা প্রতিনিধি
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১: ১৬
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা বাসটার্মিনাল ইজারার নামে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) সড়ক ইজারা দিয়ে টোল আদায় করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে। ওই সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে জোরপূর্বক ১০ টাকা করে টোল আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে অটোরিকশার ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘কুমিল্লার কাগজে’র ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রচার হলে বিষয়টি নজরে আসে জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের। তিনি এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া আসফার সায়মাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর শাসনগাছা বাসটার্মিনাল দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়। গত বছরের ৩০ জুন থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরের জন্য ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৮৬৪ টাকায় মৃত রেশত আলীর ছেলে মো. কামাল উদ্দিনকে টার্মিনালটি ইজারা দেওয়া হয়। চুক্তিপত্র অনুযায়ী, জেলা পরিষদের মালিকানাধীন টার্মিনালের ভেতরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাস থেকে প্রতি ট্রিপে ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে ১৫ টাকা আদায়ের শর্ত রয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত চৌহদ্দির মধ্যে বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায়ের কথা উল্লেখ রয়েছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, চুক্তিপত্রে যেসব সড়ককে চৌহদ্দির মধ্যে দেখানো হয়েছে, সেগুলো জেলা পরিষদের অধীন নয়; বরং সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন। শুধুমাত্র বাসটার্মিনালের ভূমি জেলা পরিষদের মালিকানাধীন। অথচ ইজারাদার ওই চৌহদ্দির অজুহাতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কে ছাপা রশিদ দিয়ে জোরপূর্বক টোল আদায় করছেন। এমনকি চৌহদ্দির বাইরেও শাসনগাছা রেলগেইট এলাকায় ৪-৫ জন মিলে অটোরিকশা থামিয়ে ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ওই এলাকায় প্রায়ই যানজট তৈরি হচ্ছে এবং যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

সূত্র জানায়, জেলা পরিষদ থেকে মৌখিকভাবে কেবল বাসটার্মিনালের ভেতরে টোল আদায়ের নির্দেশ থাকলেও ইজারাদার লোকসানের অজুহাতে সড়ক থেকেও টোল আদায় করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিতে গেলে চুক্তিপত্রে উল্লেখিত চৌহদ্দির কথা তুলে ধরা হলেও ওই সড়কে জেলা পরিষদের টোল আদায়ের ক্ষমতা আছে কি না— তা খতিয়ে দেখা হয় না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টার্মিনালের ইজারাদার মো. কামাল হোসেন বলেন, চুক্তিপত্রে নির্ধারিত চৌহদ্দি অনুযায়ীই তিনি টোল আদায় করছেন। চৌহদ্দির বাইরে কেউ টোল তুললে তা ভুল করে তুলেছেন।

অটোরিকশা চালক গাজীউল হক বলেন, প্রতিদিন একই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। এতে ভাড়া বাড়ানোর চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। এ ছাড়া দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ ইজারা বাতিল এবং জোরপূর্বক টোল আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী এবং স্থানীয়রা।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া আসফার সায়মা বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

টানা বর্ষণে পানি বাড়ছে হাওরে, বন্যার শঙ্কা

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতের সবশেষ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, কালনী নদীর পানির সমতল পরিমাপ করা হয়েছে ২ দশমিক ৪৭ মিটার, যা প্রাক-বর্ষা বিপৎসীমার (৫ দশমিক ৩৫ মিটার) ২৮৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

১৩ ঘণ্টা আগে

আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, ৬ পুলিশসহ আহত ১২

বৃহস্পতিবার স্থানীয়ভাবে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, রিয়াজ মারা মারা গেছেন। এতে তার স্বজনসহ স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে থানায় হামলা চালান। প্রায় শতাধিক মানুষের হামলায় পুলিশ সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এ সময় হামলাকারীরা থানায় কর্তব্যরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হালিমকে মারধর করেন।

১ দিন আগে

পাহাড়ি ঢলে ডুবল গোমতীর চরাঞ্চল, সহস্রাধিক কৃষকের ফসলহানি

সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলের শত শত একর সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। লোকসান কিছুটা কমাতে স্থানীয় কৃষকদের কোমর সমান পানিতে নেমে অপরিপক্ব ফসল কেটে ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

২ দিন আগে

ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ভাসছে কমলগঞ্জ, পানিবন্দি ১৫ গ্রাম

রাতের আঁধারে প্রবল স্রোতে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে মোখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোর

২ দিন আগে