
ইমাম রাকিব

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে আলোচিত একটি দিন ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি। ‘ওয়ান ইলেভেন’ বা ‘এক-এগারো’ নামে পরিচিত সে দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনাস্থা আর অনৈক্যের ফল হিসেবে ক্ষমতায় আসে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
শ্বাসরুদ্ধকর সেই দিনগুলোতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ ছাড়াও যেসব সামরিক কর্মকর্তার নাম মানুষের স্মৃতিপটে রয়েছে তাদের অন্যতম লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ফজলুল বারী ও মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন।
দেশব্যাপী রাজনৈতিক গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে সেদিন সেনাবাহিনীর সমর্থনে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়, পরদিন গঠিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। শুরু হয় সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনকাল।
ক্ষমতার সেই অস্বাভাবিক পটপরিবর্তনে যারা কুশীলবের ভূমিকা পালন করেন তাদের অন্যতম লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ‘এক-এগারো’ অধ্যায়ের আলোচিত থ্রি স্টার এই সেনা কর্মকর্তা পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের বিরাগভাজন হলে তাকে নানা প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত করা হয়।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে অবশ্য মাসুদ উদ্দিনের মেয়াদ দফায় দফায় বাড়ানো হয়। পরে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ফরম কিনে জমা দিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য দল পালটে যোগ দেন জাতীয় পার্টিতে, হন প্রেসিডিয়াম সদস্য। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর অনেকটা আড়ালে চলে যান সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। একাধিক মামলায় আসামি ছিলেন তিনি। সোমবার (২৩ মার্চ) মধ্যরাতে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই বিতর্কিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে।
রাজধানীর পল্টন থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে মাসুদ উদ্দিনকে। মামলাটি মানব পাচারের অভিযোগের। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ছয়টি মামলা আছে। আর ঢাকা মহানগর এলাকায় মামলা আছে পাঁচটি। সব মিলিয়ে তার নামে মোট ১১টি মামলা রয়েছে।

২০০৭ সালে বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি ও সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার পেছনে যেসব সামরিক কর্মকর্তা ভূমিকা রাখেন, তাদের মধ্যে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন অন্যতম। তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। মইন ইউ আহমেদ তার ‘শান্তির স্বপ্নে’ বইয়ে এক-এগারোর প্রেক্ষাপট নিয়ে অনেক তথ্যই দিয়েছেন, যেখানে উঠে এসেছে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে নানা তথ্য।
মইন ইউ আহমেদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠিত ‘গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র নেতৃত্ব অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এই কমিটির মাধ্যমে যৌথবাহিনীর অভিযানে শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার এবং দুর্নীতির মামলায় জড়ানোর প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।
এক-এগারোর পর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল তথাকথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’, যার মাধ্যমে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল— বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশেষ করে গোয়েন্দা হেফাজতে নিয়ে তারেক রহমানের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত। এ ঘটনাগুলোতেও সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সুলাখালী গ্রামে। ১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান রক্ষীবাহিনী থেকে অন্যান্যদের সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও সেনাবাহিনীতে যুক্ত করেন। পরে ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একমাত্র কর্মকর্তা হিসেবে রক্ষীবাহিনী থেকে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে যেতে পেরেছিলেন।
এক-এগারোর সময় নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন মাসুদ উদ্দিন, যা তাকে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। একই বছর মেজর জেনারেল থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কথিত আছে, সে সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তার অধীন সেনা ব্যাটালিয়নের সহযোগিতায় বঙ্গভবনের নিয়ন্ত্রণও গ্রহণ করেন।

একপর্যায়ে সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ২০০৮ সালের ২ জুন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার থেকে ডিফেন্স সার্ভিসেস কম্যান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট পদে ও ৮ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। একই বছর ২ সেপ্টেম্বর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান, ৪ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ২৯ জুন তার এ চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও একাধিকবার তা বাড়ানো হয়। ২০১৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
সেনাজীবন শেষে ২০১৮ সালে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলটির মনোনয়নে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী পারিবারিকভাবে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মীয়। তার ছোট ভাই খালেদা জিয়ার ছোট ভাই সাঈদ ইস্কান্দারের ভায়রা ভাই। এই সম্পর্কের জেরে চাকরিতে তার পদোন্নতি ও প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
অবসরের পর মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জনশক্তি রপ্তানি ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় জড়ান। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কারসাজি ও প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ২৫ আগস্ট মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার বিরুদ্ধে আরও বড় অঙ্কের অর্থপাচারের অভিযোগও রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় ফেনীর মহিপালে গুলিতে ১১ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর অন্যতম আসামি মাসুদ উদ্দিন। প্রায় দেড় বছর ধরে গ্রেপ্তার তিনি এড়িয়ে ছিলেন। এক-এগারোর ‘নেপথ্যের কারিগর’ হিসেবে পরিচিত এই সাবেক সেনা কর্মকর্তার গ্রেপ্তার হওয়া নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি শুধু একটি আইনি ঘটনা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সামনে নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে আলোচিত একটি দিন ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি। ‘ওয়ান ইলেভেন’ বা ‘এক-এগারো’ নামে পরিচিত সে দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনাস্থা আর অনৈক্যের ফল হিসেবে ক্ষমতায় আসে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
শ্বাসরুদ্ধকর সেই দিনগুলোতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ ছাড়াও যেসব সামরিক কর্মকর্তার নাম মানুষের স্মৃতিপটে রয়েছে তাদের অন্যতম লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ফজলুল বারী ও মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন।
দেশব্যাপী রাজনৈতিক গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে সেদিন সেনাবাহিনীর সমর্থনে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়, পরদিন গঠিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। শুরু হয় সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনকাল।
ক্ষমতার সেই অস্বাভাবিক পটপরিবর্তনে যারা কুশীলবের ভূমিকা পালন করেন তাদের অন্যতম লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ‘এক-এগারো’ অধ্যায়ের আলোচিত থ্রি স্টার এই সেনা কর্মকর্তা পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের বিরাগভাজন হলে তাকে নানা প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত করা হয়।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে অবশ্য মাসুদ উদ্দিনের মেয়াদ দফায় দফায় বাড়ানো হয়। পরে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ফরম কিনে জমা দিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য দল পালটে যোগ দেন জাতীয় পার্টিতে, হন প্রেসিডিয়াম সদস্য। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর অনেকটা আড়ালে চলে যান সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। একাধিক মামলায় আসামি ছিলেন তিনি। সোমবার (২৩ মার্চ) মধ্যরাতে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই বিতর্কিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে।
রাজধানীর পল্টন থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে মাসুদ উদ্দিনকে। মামলাটি মানব পাচারের অভিযোগের। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ছয়টি মামলা আছে। আর ঢাকা মহানগর এলাকায় মামলা আছে পাঁচটি। সব মিলিয়ে তার নামে মোট ১১টি মামলা রয়েছে।

২০০৭ সালে বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি ও সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার পেছনে যেসব সামরিক কর্মকর্তা ভূমিকা রাখেন, তাদের মধ্যে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন অন্যতম। তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। মইন ইউ আহমেদ তার ‘শান্তির স্বপ্নে’ বইয়ে এক-এগারোর প্রেক্ষাপট নিয়ে অনেক তথ্যই দিয়েছেন, যেখানে উঠে এসেছে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে নানা তথ্য।
মইন ইউ আহমেদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠিত ‘গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র নেতৃত্ব অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এই কমিটির মাধ্যমে যৌথবাহিনীর অভিযানে শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার এবং দুর্নীতির মামলায় জড়ানোর প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।
এক-এগারোর পর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল তথাকথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’, যার মাধ্যমে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল— বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশেষ করে গোয়েন্দা হেফাজতে নিয়ে তারেক রহমানের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত। এ ঘটনাগুলোতেও সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সুলাখালী গ্রামে। ১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান রক্ষীবাহিনী থেকে অন্যান্যদের সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও সেনাবাহিনীতে যুক্ত করেন। পরে ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একমাত্র কর্মকর্তা হিসেবে রক্ষীবাহিনী থেকে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে যেতে পেরেছিলেন।
এক-এগারোর সময় নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন মাসুদ উদ্দিন, যা তাকে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। একই বছর মেজর জেনারেল থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কথিত আছে, সে সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তার অধীন সেনা ব্যাটালিয়নের সহযোগিতায় বঙ্গভবনের নিয়ন্ত্রণও গ্রহণ করেন।

একপর্যায়ে সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ২০০৮ সালের ২ জুন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার থেকে ডিফেন্স সার্ভিসেস কম্যান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট পদে ও ৮ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। একই বছর ২ সেপ্টেম্বর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান, ৪ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ২৯ জুন তার এ চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও একাধিকবার তা বাড়ানো হয়। ২০১৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
সেনাজীবন শেষে ২০১৮ সালে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলটির মনোনয়নে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী পারিবারিকভাবে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মীয়। তার ছোট ভাই খালেদা জিয়ার ছোট ভাই সাঈদ ইস্কান্দারের ভায়রা ভাই। এই সম্পর্কের জেরে চাকরিতে তার পদোন্নতি ও প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
অবসরের পর মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জনশক্তি রপ্তানি ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় জড়ান। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কারসাজি ও প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ২৫ আগস্ট মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার বিরুদ্ধে আরও বড় অঙ্কের অর্থপাচারের অভিযোগও রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় ফেনীর মহিপালে গুলিতে ১১ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর অন্যতম আসামি মাসুদ উদ্দিন। প্রায় দেড় বছর ধরে গ্রেপ্তার তিনি এড়িয়ে ছিলেন। এক-এগারোর ‘নেপথ্যের কারিগর’ হিসেবে পরিচিত এই সাবেক সেনা কর্মকর্তার গ্রেপ্তার হওয়া নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি শুধু একটি আইনি ঘটনা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সামনে নিয়ে এসেছে।

আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সিং প্ল্যাটফর্ম জুমে জরুরি সভা করে বিইআরসি। এতে পদ্মা অয়েল, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনসহ (বিপিসি) বিইআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮ ঘণ্টা আগে
যদিও সামগ্রিকভাবে আকাশ আংশিক মেঘলা ও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার কথা বলা হয়েছে, তবে লঘুচাপের প্রভাবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে অধিদপ্তর।
১০ ঘণ্টা আগে
পুলিশ প্রধান পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত সকল পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য এবং সিভিল স্টাফদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন এবং তাদেরকে ঈদোত্তর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
১০ ঘণ্টা আগে
বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যবিরোধী সকল প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে বাংলাদেশের স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করে বর্ণবাদ নির্মূলে নিজেদের অটুট অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
১১ ঘণ্টা আগে