উখিয়ায় ইনানী রেঞ্জে বনরক্ষকরাই বনভক্ষক

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০০: ১৩
রাতের আঁধারে গাছ কাটা ও মাটি পাচার করা হয়, বাধা দিলে দেওয়া হয় হুমকি। ছবি: রাজনীতি ডটকম

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের উখিয়ার ইনানী রেঞ্জে বনাঞ্চল ধ্বংসের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনরক্ষক ও ভূমিখেকোদের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের যোগসাজশে অবাধে পাহাড় কাটা, গাছ নিধন এবং বনভূমি দখল চলছে।

সূত্র জানায়, গত তিন বছরে ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা ফিরোজ আল-আমিনের নেতৃত্বে একটি চক্র মনখালী, রাজাপালং, জালিয়াপালং ও ছোয়ানখালী বিট এলাকায় বন উজাড়, পাহাড় কাটা, বনভূমি বিক্রি এবং ঘুস বাণিজ্যে জড়িত। এসব অনিয়মের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জালিয়াপালং ও রাজাপালং বিট এলাকায় পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে বহুতল ভবন, পানের বরজ ও ব্যক্তিগত বাগান। বনভূমিতে ঘর নির্মাণ, বালু ও মাটি উত্তোলন এবং করাতকল পরিচালনা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন, পানের বরজ ও ব্যক্তিগত বাগান। ছবি: রাজনীতি ডটকম
পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন, পানের বরজ ও ব্যক্তিগত বাগান। ছবি: রাজনীতি ডটকম

তথ্য অনুযায়ী, পাহাড় কাটার কাজে গত তিন বছরে অন্তত চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বন ধ্বংসের ফলে দুটি হাতির মৃত্যু ছাড়াও অসংখ্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর আয়তনের ইনানী রেঞ্জে অবস্থিত ২ হাজার ৯৩৩ দশমিক ৬১ হেক্টরের শেখ জামাল জাতীয় উদ্যান কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে এর অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের আঁধারে গাছ কাটা ও মাটি পাচার করা হয়। এতে বাধা দিলে হুমকি দেওয়া হয়। রাজাপালং এলাকায় গত তিন বছরে প্রায় হাজারখানেক ঘর নির্মাণ হয়েছে। এসব ঘর নির্মাণের সময় রেঞ্জারের নাম ব্যবহার করে প্রতিটি ঘর থেকে ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা ফিরোজ আল-আমিন বলেন, তিনি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন। কিছু অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে, এ সংক্রান্ত মামলাও করা হয়েছে। তবে উন্নয়নমূলক কাজও হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

জাতিসংঘ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক, বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন তিনি।

৮ ঘণ্টা আগে

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে ১৪ পদের ১৩টিতেই জাতীয়তাবাদীদের জয়

নির্বাচনে শীর্ষ এ দুটি পদসহ সমিতির ১৪টি পদের মধ্যে ১৩ পদেই জয় পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেলের প্রার্থীরা। একটিমাত্র পদে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (সবুজ প্যানেল) একজন প্রার্থী।

১০ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, দেশে আসতে পারে সাশ্রয়ী মার্কিন এলএনজি-এলপিজি

ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং জানিয়েছে, এ সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্য ও টেকসই সরবরাহব্যবস্থার ভিত্তিতে জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

১৯ ঘণ্টা আগে

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৩৬%

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে আইনজীবীদের উপস্থিতি ছিল বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম। ১১ হাজার ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে দুই দিনে ভোট দিয়েছেন ৪ হাজার ৪৮ জন৷ এ হিসেবে ভোট পড়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

১৯ ঘণ্টা আগে