দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে ৬৭৮ কোটি টাকা পাচারের মামলা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
দিলীপ কুমার আগারওয়াল। ছবি: ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড
দিলীপ কুমার আগারওয়াল। ছবি: ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে এবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অবৈধভাবে ৬৭৮ কোটি টাকারও বেশি অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে। একাধিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দিলীপ গত ১ অক্টোবর জামিন নিয়ে কারামুক্ত হন, যে ঘটনা দুই সপ্তাহ পর জানাজানি হয়।

সিআইডি বলছে, চোরাচালানের মাধ্যমে সোনা ও হিরা সংগ্রহ করে অবৈধ পথে অর্জিত বিশাল অঙ্কের অর্থ মানিলন্ডারিংয়ের তথা পাচারের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এ মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান থানায় মামলাটি করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। মঙ্গলবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

দিলীপ কুমার আগরওয়ালা কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য। তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র ও ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে উঠে আসে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এলসির মাধ্যমে বৈধভাবে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সোনার বার, অলংকার ও অন্যান্য দ্রব্য আমদানি করেছিল।

অনুষ্ঠানে আরও পাওয়া যায়, একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে কেনা, বিনিময় বা পরিবর্তন পদ্ধতিতে তারা ৬৭৮ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সোনা ও হিরা সংগ্রহ করে, যার উৎস বা সরবরাহকারী সংক্রান্ত কোনো বৈধ নথি সিআইডিকে দেখাতে ব্যর্থ হন দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।

সিআইডি বলছে, বৈধ নথিপত্রের অভাবে বিপুল অঙ্কের এই সোনা ও হিরা অবৈধ চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে এবং এই অপরাধলব্ধ অর্থ রূপান্তর ও হস্তান্তর করে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে এর আগে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরদিন তাকে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর তাকে আরও কয়েকটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, উচ্চ আদালত ও ঢাকার আদালতে আবেদন করে দিলীপ একে একে সব মামলায় জামিন নেন। সব মামলায় জামিন হলে গত ১ অক্টোবর তিনি কারামুক্ত হন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement