হাদির ওপর হামলা

সন্ত্রাস ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯: ৪১
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান বিন হাদি। ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপরে হামলাকে ‘ফ্যাসিস্ট টেরোরিস্ট’দের ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই— পরাজিত শক্তি ফ্যাসিস্ট টেরোরিস্টদের অপচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। ভয় দেখিয়ে, সন্ত্রাস ঘটিয়ে বা রক্ত ঝরিয়ে এই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।’

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মহান বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।

ওসমান হাদির ওপর হামলায় গভীর শোক জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের সামনে আজ উপস্থিত হয়েছি অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে। এই আনন্দের দিনে গভীর বেদনারসঙ্গে জানাচ্ছি— জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর সম্প্রতি যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর আঘাত, আমাদের গণতান্ত্রিক পথচলার ওপর আঘাত।’

‘শরিফ ওসমান হাদি বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে। এরই মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে। আপনারা তার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দোয়া করুন।’

হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যয় জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘সরকার এ ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা গেছে। আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই— যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

ফ্যাসিস্টদের ফাঁদ প্রসঙ্গে সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই, সংযম বজায় রাখুন। অপপ্রচার বা গুজবে কান দেবেন না। ফ্যাসিস্ট টেরোরিস্টরা, যারা অস্থিরতা তৈরি করতে চায়, আমরা অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের মোকাবিলা করব। তাদের ফাঁদে পা দেবো না। পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি এ দেশের পবিত্র মাটিতে আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।’

ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ তরুণ প্রজন্মকে ভয় পায় উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে তারা বুঝে গেছে— তরুণ যোদ্ধারা তাদের পুনরুত্থানের পক্ষে ভীষণ রকম বাধা। অস্ত্রহীন, ভীতিহীন, ব্যক্তিগত স্বার্থ সম্বন্ধে সম্পূর্ণ উদাসীন— দৈনন্দিন এই চেহারার ছেলেমেয়েদের নিয়ে তাদের সাংঘাতিক ভীতি। তাদের লক্ষ্য নির্বাচন আসার আগেই পথের এই বাধাগুলো সরিয়ে ফেলা, নিজেদের রাজত্ব আবার কায়েম করা।’

‘তাদের বন্ধুরা যতদিন তাদের সঙ্গে আছে ততদিন তারা এই স্বপ্ন দেখবে। নির্বাচন হয়ে গেলে তাদের বন্ধুরা সমর্থন জোগাতে বেকায়দায় পড়বে। সে কারণেই এত তাড়াহুড়া। তারা চায় নির্বাচনের আগেই তাদের ফিরে আসা নিশ্চিত করতে। নানা ভঙ্গিতে এটা তারা করবে। এই চোরাগোপ্তা খুন করার উদ্যোগ তারই একটি রূপ। আরও কঠিনতর পরিকল্পনা নিয়ে তাদের প্রস্তুতি আছে,’— বলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক

বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী হতাহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ অবিলম্বে খুঁজে বের করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ দেন তিনি।

১৪ ঘণ্টা আগে

গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবতায়ন না হলে জনগণ এই সংসদকেও প্রত্যাখ্যান করবে

শনিবার (৪ এপ্রিল) যুব বাঙালির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটির পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এ সব কথা বলা হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন কেন্দ্রীয় সংগঠক অপু, তানসেন, অয়ন আমান, রায়হান তানভীর, ইউসুফ সরকার রুজেল, বাঁধন ফাহাদ, ওয়ালিদ হাসান ভুবন, সৈয়দ স্বাধীন, মোহাম্মদ আলী পারভেজ, কাজী কাওছার, সিয়াম, হৃদয়, রেদওয়ান,

১৪ ঘণ্টা আগে

১৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার অনুমোদন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক (ইউএই) ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিওর কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১০ লাখ মেট্রিক টন

১৫ ঘণ্টা আগে

যারা প্রশ্নবিদ্ধ, তারা নিজেদের শোধরান: ডেপুটি স্পিকার

তিনি বলেন, ‘দুর্গাপুরে এই মহিলা কলেজ একমাত্র কলেজ, যা পার্শ্ববর্তী উপজেলা কলমাকান্দাতেও নেই। এই কলেজটি যদি আমরা সমৃদ্ধ করতে পারতাম, তাহলে আমাদের অনেক ছাত্রীকে নেত্রকোনায় যেতে হতো না, অনেক ছাত্রীকে ময়মনসিংহে যেতে হতো না। কেন যাচ্ছে? আমার-আপনার কারণেই যাচ্ছে। এখানে এসে পড়ানোর যে পরিবেশটা পাওয়ার কথা বা

১৬ ঘণ্টা আগে