
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বলছে, আগামীকাল শুক্রবারই (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করতে পারেন তিনি। সে ক্ষেত্রে তার অবর্তমানে কে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন বা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে ও কীভাবে হবে— এসব প্রশ্ন এখন উঠে এসেছে আলোচনায়।
সংবিধান বলছে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে তার জায়গায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আবার চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক অবস্থান করছিলেন। তবে সে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন আগামীকাল শুক্রবারই।
বুধবার (২২ জুলাই) আল-জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামির এক ফেসবুক স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। সায়ের লিখেছিলেন, ‘আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।’
এ বিষয়ে সরকার মুখ খোলেনি। তবে বঙ্গভবনসহ একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন শিগগিরই। রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতিও তিনি মানসিকভাবে নিতে শুরু করেছেন।
বুধবার পেরিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, সরকার এ বিষয়ে কিছু বলেনি। আর অন্য সবার মতো তিনিও বিষয়টি বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম থেকে জেনেছেন।
বিএনপির একাধিক সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন নিয়ে বিএনপি খুব একটা চিন্তিত ছিল না। তবে এখন সরকারের দিক থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হয়েছে এবং সেটিও এ মাসের শুরুর দিকেই।
এসব তথ্য-সূত্রের মধ্যেই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরছেন আগামীকাল শুক্রবার, যার ব্যাংক থেকে ফেরার কথা ছিল রোববার। এ ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকেই তাকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
সংসদ সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা স্পিকারের শুক্রবার দুপুর নাগাদ দেশে ফেরার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এর কারণ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে তিনি কিছু বলতে পারেননি। তিনিও বলেন, আগামীকাল শুক্রবারই সবকিছু ‘স্পষ্ট হয়ে যাবে ’ বলে মনে করছেন তিনি।
সংবিধান অনুযায়ী যেহেতু রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হলে স্পিকার বরাবরই পদত্যাগপত্র দিতে হয় এবং রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করতে হয় সেই স্পিকারকেই, এ অবস্থায় চিকিৎসা-সফর সংক্ষিপ্ত করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের তড়িঘড়ি করে দেশে ফেরার খবরে দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাচ্ছেন অনেকেই।
একটি ইংরেজি গণমাধ্যম এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করেছিল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে। রাষ্ট্রপতি মিনিট দুয়েক ওই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। পদত্যাগ করছেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেখতে পাবেন...প্রশ্নটা বিব্রতকর।’
রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সরাসরি কোনো উত্তর না মিললেও বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে একাধিক গণমাধ্যমই খবর প্রকাশ করেছে, শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ পাঁচ বছর। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল। সে হিসাবে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাষ্ট্রপতি তার মেয়াদের ঠিক তিন বছর তিন মাস পূরণ করেছেন। ফলে তার মেয়াদ রয়েছে আরও এক বছর ৯ মাস, যা শেষ হবে ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
শপথের দিন থেকে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তবে সংবিধান বলছে, তার উত্তরসূরি নতুন রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ বা শপথ পর্যন্ত তিনি নিজ পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন। এ ছাড়া এর আগে যেকোনো সময় তিনি পদত্যাগও করতে পারবেন।
‘রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ’ শীর্ষক সংবিধানের সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিধান রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।’ অর্থাৎ রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হলে স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র দিতে হবে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির এ পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়া বা বর্জন করার কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছালেই সেটি গৃহীত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। ফলে ওই সময় থেকেই রাষ্ট্রপতি তার পদে আর থাকবেন না।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে রয়েছে রাষ্ট্রপতির অবর্তমানে তার দায়িত্ব পালনের বিধান। এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।’
অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করেন, তাহলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বভার গ্রহণের আগ পর্যন্ত স্পিকার পালন করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব। সে হিসাবে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ফলে স্পিকারের দায়িত্ব পালনের নজিরও খুব পুরনো নয়।
বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি পদে থাকা এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বর্তমানে প্রয়াত) পদত্যাগ করেন। ওই সময় অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার (বর্তমানে প্রয়াত) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন ৭৮ দিন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে। এ অনুচ্ছেদের ১ উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হলে ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
অন্যদিকে এ অনুচ্ছেদের ২ উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মৃত্যু, অপসারণ বা পদত্যাগের ঘটনা ঘটলে তখন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে।
হিসাব বলছে, রাষ্ট্রপতি আগামীকাল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করলে সে ক্ষেত্রে আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
এদিকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে কে হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি, তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। পরোক্ষ নির্বাচন তথা সংসদ সদস্যদের ভোটে যেহেতু রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, সেক্ষেত্রে ওই নির্বাচনে বিএনপি যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন ধরে নেওয়া যায়।
ফলে এই মুহূর্তের বড় একটি প্রশ্ন— রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেবে বিএনপি?
এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. মঈন খানের নাম এসেছে আলোচনায়। শীর্ষ নারী নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানেরও কথাও ঘুরে ফিরে অনেকেই বলেছেন। এ ছাড়া বিশিষ্টজন কারও কারও নামও ছিল আলোচনায়।
তবে যার ফেসবুক স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা, সেই জুলকারনাইন সায়ের সামি এনেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নাম, যা সবাইকে চমকে দিয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য পছন্দের প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নাম।
এ নিয়ে অবশ্য বিএনপি নেতারা কেউ মুখ খুলছেন না। তারা একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করছেন সবাইকে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বলছে, আগামীকাল শুক্রবারই (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করতে পারেন তিনি। সে ক্ষেত্রে তার অবর্তমানে কে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন বা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে ও কীভাবে হবে— এসব প্রশ্ন এখন উঠে এসেছে আলোচনায়।
সংবিধান বলছে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে তার জায়গায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আবার চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক অবস্থান করছিলেন। তবে সে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন আগামীকাল শুক্রবারই।
বুধবার (২২ জুলাই) আল-জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামির এক ফেসবুক স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। সায়ের লিখেছিলেন, ‘আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।’
এ বিষয়ে সরকার মুখ খোলেনি। তবে বঙ্গভবনসহ একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন শিগগিরই। রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতিও তিনি মানসিকভাবে নিতে শুরু করেছেন।
বুধবার পেরিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, সরকার এ বিষয়ে কিছু বলেনি। আর অন্য সবার মতো তিনিও বিষয়টি বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম থেকে জেনেছেন।
বিএনপির একাধিক সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন নিয়ে বিএনপি খুব একটা চিন্তিত ছিল না। তবে এখন সরকারের দিক থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হয়েছে এবং সেটিও এ মাসের শুরুর দিকেই।
এসব তথ্য-সূত্রের মধ্যেই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরছেন আগামীকাল শুক্রবার, যার ব্যাংক থেকে ফেরার কথা ছিল রোববার। এ ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকেই তাকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
সংসদ সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা স্পিকারের শুক্রবার দুপুর নাগাদ দেশে ফেরার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এর কারণ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে তিনি কিছু বলতে পারেননি। তিনিও বলেন, আগামীকাল শুক্রবারই সবকিছু ‘স্পষ্ট হয়ে যাবে ’ বলে মনে করছেন তিনি।
সংবিধান অনুযায়ী যেহেতু রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হলে স্পিকার বরাবরই পদত্যাগপত্র দিতে হয় এবং রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করতে হয় সেই স্পিকারকেই, এ অবস্থায় চিকিৎসা-সফর সংক্ষিপ্ত করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের তড়িঘড়ি করে দেশে ফেরার খবরে দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাচ্ছেন অনেকেই।
একটি ইংরেজি গণমাধ্যম এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করেছিল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে। রাষ্ট্রপতি মিনিট দুয়েক ওই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। পদত্যাগ করছেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেখতে পাবেন...প্রশ্নটা বিব্রতকর।’
রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সরাসরি কোনো উত্তর না মিললেও বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে একাধিক গণমাধ্যমই খবর প্রকাশ করেছে, শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ পাঁচ বছর। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল। সে হিসাবে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাষ্ট্রপতি তার মেয়াদের ঠিক তিন বছর তিন মাস পূরণ করেছেন। ফলে তার মেয়াদ রয়েছে আরও এক বছর ৯ মাস, যা শেষ হবে ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
শপথের দিন থেকে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তবে সংবিধান বলছে, তার উত্তরসূরি নতুন রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ বা শপথ পর্যন্ত তিনি নিজ পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন। এ ছাড়া এর আগে যেকোনো সময় তিনি পদত্যাগও করতে পারবেন।
‘রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ’ শীর্ষক সংবিধানের সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিধান রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।’ অর্থাৎ রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হলে স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র দিতে হবে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির এ পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়া বা বর্জন করার কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছালেই সেটি গৃহীত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। ফলে ওই সময় থেকেই রাষ্ট্রপতি তার পদে আর থাকবেন না।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে রয়েছে রাষ্ট্রপতির অবর্তমানে তার দায়িত্ব পালনের বিধান। এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।’
অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করেন, তাহলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বভার গ্রহণের আগ পর্যন্ত স্পিকার পালন করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব। সে হিসাবে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ফলে স্পিকারের দায়িত্ব পালনের নজিরও খুব পুরনো নয়।
বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি পদে থাকা এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বর্তমানে প্রয়াত) পদত্যাগ করেন। ওই সময় অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার (বর্তমানে প্রয়াত) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন ৭৮ দিন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে। এ অনুচ্ছেদের ১ উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হলে ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
অন্যদিকে এ অনুচ্ছেদের ২ উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মৃত্যু, অপসারণ বা পদত্যাগের ঘটনা ঘটলে তখন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে।
হিসাব বলছে, রাষ্ট্রপতি আগামীকাল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করলে সে ক্ষেত্রে আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
এদিকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে কে হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি, তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। পরোক্ষ নির্বাচন তথা সংসদ সদস্যদের ভোটে যেহেতু রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, সেক্ষেত্রে ওই নির্বাচনে বিএনপি যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন ধরে নেওয়া যায়।
ফলে এই মুহূর্তের বড় একটি প্রশ্ন— রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেবে বিএনপি?
এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. মঈন খানের নাম এসেছে আলোচনায়। শীর্ষ নারী নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানেরও কথাও ঘুরে ফিরে অনেকেই বলেছেন। এ ছাড়া বিশিষ্টজন কারও কারও নামও ছিল আলোচনায়।
তবে যার ফেসবুক স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা, সেই জুলকারনাইন সায়ের সামি এনেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নাম, যা সবাইকে চমকে দিয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য পছন্দের প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নাম।
এ নিয়ে অবশ্য বিএনপি নেতারা কেউ মুখ খুলছেন না। তারা একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করছেন সবাইকে।

বাংলাদেশ পুলিশের ১৭ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং ১১ জন অতিরিক্ত ডিআইজি সমমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।
৯ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া আলোচনাকে ‘গুঞ্জন’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সে সুযোগ রয়েছে।
৯ ঘণ্টা আগে
মন্ত্রী বলেন, প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কমিটির প্রতিটি সিদ্ধান্তে সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের প্রতিফলন থাকতে হবে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।
১০ ঘণ্টা আগে
মন্ত্রী জানান, পরীক্ষার্থীরা এখন থেকে পূর্বঘোষিত নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেবেন। তবে যেসব পরীক্ষা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলো পরে নতুন সময়সূচি প্রকাশ করে আবার নেওয়া হবে।
১০ ঘণ্টা আগে