
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

ঈদুল ফিতরের পর স্বাধীনতা দিবস মিলিয়ে টানা ১২ দিনের দীর্ঘ ছুটি শেষ হয়েছে। সেই ছুটির আমেজ কাটিয়ে এবার কর্মস্থলে ফেরার পালা কাজের তাড়ায়। গ্রাম থেকে তাই মানুষের ফিরতি ঢল এবার ঢাকামুখী। যান্ত্রিক নগরী রাজধানী ঢাকাও তাই চিরচেনা রূপ ফিরে পেতে শুরু করেছে।
এ বছর ঈদুল ফিতরের ছুটি ছিল সাত দিনের, যা গত সোমবার (২৩ মার্চ) শেষ হয়েছে। এরপর দুদিন কর্মদিবসের পর ছিল স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। তার সঙ্গে শুক্র-শনি মিলিয়ে ১২ দিনের ছুটি নিয়েছেন অনেকে। ফলে গত সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে ঢাকায় ফেরার পালা শুরু হয়েছে, যা আজ শনিবার (২৮ মার্চ) জনস্রোতে রূপ নিয়েছে।
এ দিন সকাল থেকেই ঢাকার প্রতিটি প্রবেশপথে দেখা গেছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। জীবিকার তাগিদে তিলোত্তমা নগরীতে ফিরে আসা মানুষগুলোর চোখে-মুখে জড়িয়ে রয়েছে স্বজনদের সঙ্গে ছুটি কাটানোর সুখস্মৃতি। তবে ফিরতি ঈদযাত্রাতেও ঘটে যাওয়া অসংখ্য দুর্ঘটনা বিষাদ ছড়িয়েছে সবার মধ্যেই।
রাজধানীর প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে শনিবার ভোর থেকেই ছিল কর্মব্যস্ত মানুষের ভিড়। যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা জানালেন, মহাসড়কে চাপ থাকলেও তেমন যানজটে পড়তে হয়নি তাদের। ফলে প্রায় নির্ধারিত সময়েই ঢাকা পৌঁছেছে বেশির ভাগ বাস। গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার বাসগুলো থামতেই শুরু হয় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া।
সড়কপথের যাতায়াত নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪৬ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করেছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে রেকর্ড তিন কোটি ৪১ লাখ টাকারও বেশি। মহাসড়কে বড় ধরনের কোনো দীর্ঘস্থায়ী যানজট না থাকলেও সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল অংশে যানবাহনের ধীরগতি ছিল লক্ষণীয়।
ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও যানবাহনের চাপ দেখা গেছে। কুমিল্লা ও মেঘনা সেতু এলাকায় যানবাহনগুলোর গতিও ছিল বেশ ধীর। তবে যানজট খুব একটা দেখা যায়নি। যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও হাইওয়ে পুলিশ বলছে, অনেকে ঈদ পর্যন্ত এবং অনেকে স্বাধীনতা দিবস পেরিয়ে শনিবার পর্যন্ত দীর্ঘ ছুটি নেওয়ায় ফিরতি ঈদযাত্রায় যাত্রীর চাপ একসঙ্গে পড়েনি বলেই ছুটির শেষ দিনেও খুব একটা যানজট তৈরি হয়নি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ বলেন, আমাদের মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, যেন মহাসড়ক যানজটমুক্ত থাকে। তবে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর বারবার গাড়ি বিকল হওয়া আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফিটনেস না থাকা যানবাহনকে এর প্রধান কারণ উল্লেখ করে হাইওয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা দেখেছি, ফিটনেসবিহীন অনেক গাড়ি এই লম্বা রুটে এসে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা পুরো প্রবাহকে ব্যাহত করছে। ভবিষ্যতে আমাদের এই গাড়িগুলোর যান্ত্রিক সুস্থতা নিশ্চিত না করে মহাসড়কে নামতে দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
রেলপথের দিকে তাকালে দেখা যায়, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা প্রতিটি ট্রেনই ছিল যাত্রীতে কানায় কানায় পূর্ণ। পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলো কিছুটা সময় মেনে চললেও উত্তরবঙ্গ থেকে আসা ট্রেনগুলোতে দুই থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত শিডিউল বিপর্যয় লক্ষ করা গেছে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের যাত্রীর চাপ সামলাতে আমাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রতিটি স্টেশনে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে যাত্রী ওঠানামা করায় এবং পথে যান্ত্রিক কিছু ত্রুটির কারণে সময় ব্যবস্থাপনা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি যেন মানুষ নিরাপদে ফিরতে পারে। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে অনেক সময় আমাদের নিরাপত্তা প্রোটোকলগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।’
রেলওয়ের এই শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে হাজারও যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা দীর্ঘ যাত্রা শেষে তাদের ক্লান্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও শনিবার সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গ থেকে আসা মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ভোরের আলো ফোটার আগে থেকেই প্রতিটি লঞ্চ ছিল যাত্রীতে ঠাসা। সেখানে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বাড়তি আদায়ের অভিযোগ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা সদরঘাটে নিরাপত্তা ও যাত্রী নামার বিষয়টি সুশৃঙ্খল রাখতে কাজ করছি। বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ এলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভাড়া বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেন যাত্রী ও মালিক কারও ক্ষতি না হয়।
ভাড়ার নৈরাজ্য এবারের ঈদযাত্রাতেও ছিল অপরিবর্তিত। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন রুটেই যাত্রীদের কাছ থেকে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এসি বাসে কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে ঢাকার ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ১৩০০ টাকা, স্লিপার কোচে ১৮০০। যাত্রী আশরাফুল আলম জানালেন, এবার এসি বাসে ২২০০ টাকা ও স্লিপার কোচে ৩২০০ টাকা গুনতে হয়েছে।
নাটোর থেকে ঢাকা পর্যন্ত এসি বাসের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ১১০০ টাকা হলেও এবারের ঈদে ২০০০ টাকায় যাতায়াত করতে হয়েছে। ঢাকা-রংপুরের ৮৫০ টাকার ভাড়াও ১৫০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। বাড়ত ভাড়ার প্রতিবাদে রংপুরের মডার্ন মোড় এলাকায় যাত্রীদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করতে দেখা গেছে। তবে পরিবহন কোম্পালিগুলোর তাতে কোনো নড়চড় হয়নি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একজন নেতা বলেন, আমাদের ওপর দায় চাপানো হলেও আসলে অনেক সময় একমুখী যাত্রার কারণে মালিকদের খরচ বেড়ে যায়। তবে আমরা কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সমর্থন করি না। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি যেন তারা ভাড়ার তালিকাটি নিয়মিত তদারকি করেন। আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, যা সাধারণ যাত্রীদের বোঝা দরকার।
যাত্রীরা পরিবহন মালিক সমিতির এমন বক্তব্য মানতে নারাজ। তারা বলছেন, উৎসবের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে কোম্পানিগুলো। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকারের কঠোর মনিটরিং ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।
ঈদ ও স্বাধীনতা দিবস মিলিয়ে দীর্ঘ ছুটিতে রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছিল। রাজপথে ছিল না গণপরিবহনের দীর্ঘ সারি। ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দাসহ যারা ছুটিতে গ্রামে যেতে পারেননি, তারা এ কয়েকটি দিন বেশ উপভোগ করেছেন ফাঁকা রাস্তায় অবাধ চলাচল।
শনিবার ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরা মানুষের চাপে রাজপথের শূন্যতা কাটতে শুরু করেছে। বিশেষ করে এ দিন ঢাকার তিন বাস টার্মিনালসহ কমলাপুর রেল স্টেশন ও সদরঘাট থেকে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তের দিকে ছিল মানুষের ঢল। কেউ সিএনজি অটোরিকশায়, কেউ ব্যাটারিচালিক অটোরিকশায় ছুটে চলেন গন্তব্যে।
সেই সঙ্গে এ দিন গণপরিবহনের সংখ্যাও আগের দিনগুলোর তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। সবাই বলছেন, রাত পেরোলেই রোববার (২৯ মার্চ) সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই যানজটসহ মানুষের ভিড়ে চেনা রূপ ফিরে পাবে রাজধানী।

ঈদুল ফিতরের পর স্বাধীনতা দিবস মিলিয়ে টানা ১২ দিনের দীর্ঘ ছুটি শেষ হয়েছে। সেই ছুটির আমেজ কাটিয়ে এবার কর্মস্থলে ফেরার পালা কাজের তাড়ায়। গ্রাম থেকে তাই মানুষের ফিরতি ঢল এবার ঢাকামুখী। যান্ত্রিক নগরী রাজধানী ঢাকাও তাই চিরচেনা রূপ ফিরে পেতে শুরু করেছে।
এ বছর ঈদুল ফিতরের ছুটি ছিল সাত দিনের, যা গত সোমবার (২৩ মার্চ) শেষ হয়েছে। এরপর দুদিন কর্মদিবসের পর ছিল স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। তার সঙ্গে শুক্র-শনি মিলিয়ে ১২ দিনের ছুটি নিয়েছেন অনেকে। ফলে গত সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে ঢাকায় ফেরার পালা শুরু হয়েছে, যা আজ শনিবার (২৮ মার্চ) জনস্রোতে রূপ নিয়েছে।
এ দিন সকাল থেকেই ঢাকার প্রতিটি প্রবেশপথে দেখা গেছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। জীবিকার তাগিদে তিলোত্তমা নগরীতে ফিরে আসা মানুষগুলোর চোখে-মুখে জড়িয়ে রয়েছে স্বজনদের সঙ্গে ছুটি কাটানোর সুখস্মৃতি। তবে ফিরতি ঈদযাত্রাতেও ঘটে যাওয়া অসংখ্য দুর্ঘটনা বিষাদ ছড়িয়েছে সবার মধ্যেই।
রাজধানীর প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে শনিবার ভোর থেকেই ছিল কর্মব্যস্ত মানুষের ভিড়। যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা জানালেন, মহাসড়কে চাপ থাকলেও তেমন যানজটে পড়তে হয়নি তাদের। ফলে প্রায় নির্ধারিত সময়েই ঢাকা পৌঁছেছে বেশির ভাগ বাস। গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার বাসগুলো থামতেই শুরু হয় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া।
সড়কপথের যাতায়াত নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪৬ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করেছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে রেকর্ড তিন কোটি ৪১ লাখ টাকারও বেশি। মহাসড়কে বড় ধরনের কোনো দীর্ঘস্থায়ী যানজট না থাকলেও সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল অংশে যানবাহনের ধীরগতি ছিল লক্ষণীয়।
ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও যানবাহনের চাপ দেখা গেছে। কুমিল্লা ও মেঘনা সেতু এলাকায় যানবাহনগুলোর গতিও ছিল বেশ ধীর। তবে যানজট খুব একটা দেখা যায়নি। যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও হাইওয়ে পুলিশ বলছে, অনেকে ঈদ পর্যন্ত এবং অনেকে স্বাধীনতা দিবস পেরিয়ে শনিবার পর্যন্ত দীর্ঘ ছুটি নেওয়ায় ফিরতি ঈদযাত্রায় যাত্রীর চাপ একসঙ্গে পড়েনি বলেই ছুটির শেষ দিনেও খুব একটা যানজট তৈরি হয়নি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ বলেন, আমাদের মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, যেন মহাসড়ক যানজটমুক্ত থাকে। তবে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর বারবার গাড়ি বিকল হওয়া আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফিটনেস না থাকা যানবাহনকে এর প্রধান কারণ উল্লেখ করে হাইওয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা দেখেছি, ফিটনেসবিহীন অনেক গাড়ি এই লম্বা রুটে এসে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা পুরো প্রবাহকে ব্যাহত করছে। ভবিষ্যতে আমাদের এই গাড়িগুলোর যান্ত্রিক সুস্থতা নিশ্চিত না করে মহাসড়কে নামতে দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
রেলপথের দিকে তাকালে দেখা যায়, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা প্রতিটি ট্রেনই ছিল যাত্রীতে কানায় কানায় পূর্ণ। পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলো কিছুটা সময় মেনে চললেও উত্তরবঙ্গ থেকে আসা ট্রেনগুলোতে দুই থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত শিডিউল বিপর্যয় লক্ষ করা গেছে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের যাত্রীর চাপ সামলাতে আমাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রতিটি স্টেশনে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে যাত্রী ওঠানামা করায় এবং পথে যান্ত্রিক কিছু ত্রুটির কারণে সময় ব্যবস্থাপনা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি যেন মানুষ নিরাপদে ফিরতে পারে। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে অনেক সময় আমাদের নিরাপত্তা প্রোটোকলগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।’
রেলওয়ের এই শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে হাজারও যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা দীর্ঘ যাত্রা শেষে তাদের ক্লান্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও শনিবার সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গ থেকে আসা মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ভোরের আলো ফোটার আগে থেকেই প্রতিটি লঞ্চ ছিল যাত্রীতে ঠাসা। সেখানে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বাড়তি আদায়ের অভিযোগ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা সদরঘাটে নিরাপত্তা ও যাত্রী নামার বিষয়টি সুশৃঙ্খল রাখতে কাজ করছি। বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ এলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভাড়া বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেন যাত্রী ও মালিক কারও ক্ষতি না হয়।
ভাড়ার নৈরাজ্য এবারের ঈদযাত্রাতেও ছিল অপরিবর্তিত। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন রুটেই যাত্রীদের কাছ থেকে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এসি বাসে কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে ঢাকার ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ১৩০০ টাকা, স্লিপার কোচে ১৮০০। যাত্রী আশরাফুল আলম জানালেন, এবার এসি বাসে ২২০০ টাকা ও স্লিপার কোচে ৩২০০ টাকা গুনতে হয়েছে।
নাটোর থেকে ঢাকা পর্যন্ত এসি বাসের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ১১০০ টাকা হলেও এবারের ঈদে ২০০০ টাকায় যাতায়াত করতে হয়েছে। ঢাকা-রংপুরের ৮৫০ টাকার ভাড়াও ১৫০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। বাড়ত ভাড়ার প্রতিবাদে রংপুরের মডার্ন মোড় এলাকায় যাত্রীদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করতে দেখা গেছে। তবে পরিবহন কোম্পালিগুলোর তাতে কোনো নড়চড় হয়নি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একজন নেতা বলেন, আমাদের ওপর দায় চাপানো হলেও আসলে অনেক সময় একমুখী যাত্রার কারণে মালিকদের খরচ বেড়ে যায়। তবে আমরা কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সমর্থন করি না। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি যেন তারা ভাড়ার তালিকাটি নিয়মিত তদারকি করেন। আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, যা সাধারণ যাত্রীদের বোঝা দরকার।
যাত্রীরা পরিবহন মালিক সমিতির এমন বক্তব্য মানতে নারাজ। তারা বলছেন, উৎসবের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে কোম্পানিগুলো। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকারের কঠোর মনিটরিং ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।
ঈদ ও স্বাধীনতা দিবস মিলিয়ে দীর্ঘ ছুটিতে রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছিল। রাজপথে ছিল না গণপরিবহনের দীর্ঘ সারি। ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দাসহ যারা ছুটিতে গ্রামে যেতে পারেননি, তারা এ কয়েকটি দিন বেশ উপভোগ করেছেন ফাঁকা রাস্তায় অবাধ চলাচল।
শনিবার ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরা মানুষের চাপে রাজপথের শূন্যতা কাটতে শুরু করেছে। বিশেষ করে এ দিন ঢাকার তিন বাস টার্মিনালসহ কমলাপুর রেল স্টেশন ও সদরঘাট থেকে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তের দিকে ছিল মানুষের ঢল। কেউ সিএনজি অটোরিকশায়, কেউ ব্যাটারিচালিক অটোরিকশায় ছুটে চলেন গন্তব্যে।
সেই সঙ্গে এ দিন গণপরিবহনের সংখ্যাও আগের দিনগুলোর তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। সবাই বলছেন, রাত পেরোলেই রোববার (২৯ মার্চ) সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই যানজটসহ মানুষের ভিড়ে চেনা রূপ ফিরে পাবে রাজধানী।

তিনি বলেন, জিপিএস সিস্টেম চালু হলে বাসগুলো অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করলে অথবা নির্দিষ্ট দূরত্বে না গেলে বা মাঝপথ থেকে ফিরে আসলে, যানবাহনগুলো অটোমেটিক্যালি জরিমানার আওতায় পড়বে।
২ ঘণ্টা আগে
জাতীয় সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশন ১৩ দিন মুলতবির পর রোরবার (২৯ মার্চ) থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে। বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।
২ ঘণ্টা আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আগামী ৭ এপ্রিল হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
৩ ঘণ্টা আগে
পবিত্র ঈদুল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা দিবসের ১২ দিনের দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে আজ রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানী ঢাকা চিরচেনা রূপ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। তবে রাজপথে এখনও সেই চেনা উন্মাদনা-স্থবিরতা দেখা যায়নি। নাড়ির টানে শিকড়ের কাছে ফেরা মানুষগুলো ব্যস্ত ঢাকায় ফিরতে শুরু করলেও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা
৩ ঘণ্টা আগে