৮ কোটি টাকার অক্সিজেন প্ল্যান্ট অকেজো, নড়াইলে রোগীদের ভোগান্তি

নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইল সদর হাসপাতালের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা শুরু থেকেই অকার্যকর। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ব্যবস্থা চালু করা হলেও তা রোগীদের কাজে আসেনি। এখনও সিলিন্ডারনির্ভর হয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ১৭৩টি অক্সিজেন পয়েন্টের কোনোটিই সঠিকভাবে কাজ করছে না। ফলে জরুরি অবস্থায় সিলিন্ডারের উপর নির্ভর করতে হয়, যা প্রায়ই ফুরিয়ে যায়। আবার সিলিন্ডার পরিবহন ও সংকটের কারণে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় নার্সদের।

হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার একমাত্র আধুনিকায়িত সদর হাসপাতালটিতে করোনাকালীন রোগীর ভিড় বাড়তে থাকে। সে সময় অধিকাংশ রোগীই শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর ফলে কৃত্রিম অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের জুন মাসে হাসপাতালটিতে হাইফ্লো অক্সিজেন সরবরাহ চালু করা হয়। বিশ্বব্যাঙ্কের সহায়তায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০০ লিটারের অক্সিজেন ট্যাঙ্ক নির্মাণ করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এরপর হাসপাতালের বিছানা, কেবিন ও জরুরি বিভাগসহ ১৭৩টি স্থানে অক্সিজেন সরবরাহ পয়েন্ট স্থাপন করা হয়। কিন্তু কোনো পয়েন্ট দিয়েই সে সময় অক্সিজেন নির্গত হয়নি।

বর্তমানে হাসপাতালের পেছনের অংশে লতাপাতার ভিড়ে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে অক্সিজেন ট্যাঙ্কটি। হাসপাতালের ভিতরের সঞ্চালন লাইনে কোথাও মরিচা ধরেছে। আবার সকেটগুলোও ভেঙ্গে পড়ে আছে বিছানার ওপর।

চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে হাসপাতালটিতে কৃত্রিম অক্সিজেনের চাহিদা মেটানো হয় সিলিন্ডার অক্সিজেন দিয়ে। তবে এ ব্যবস্থায় জরুরি অক্সিজেন সেবা দিতে নিত্যদিন হিমশিম খেতে হয় তাদের। কারণ সেখানে সিলিন্ডারের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত সিলিন্ডারভর্তি করতে গিয়ে প্রায়শই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় নার্সদের। আবার হঠাৎ করে সিলিন্ডার শেষ হওয়ার আশঙ্কা তো রয়েছেই।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, জরুরি প্রয়োজনে যদি অক্সিজেন পাওয়া না যায়, তাহলে হাসপাতালে এসেও চিকিৎসার অভাবে রোগী মারা যাবে। দেশে আবারও করোনার প্রকোপ বাড়ছে। তাই হাসপাতালের অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে রোগীর স্বজনরা বলেন, অক্সিজেন ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগছে না। এতে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, 'হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা থাকতেও জরুরি প্রয়োজনে তা কাজে আসছে না। অনেক সময় হাসপাতালের বিছানায়-ই রোগী মারা যাবার শঙ্কায় থাকতে হয় আমাদের। মাঝেমধ্যে তো এ নিয়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে নার্স ও চিকিৎসকদের কথা কাটাকাটি থেকে মারামারির ঘটনা পর্যন্ত ঘটে।'

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নার্স বলেন, হাসপাতালের অক্সিজেন সিলিন্ডার কখন ফুরিয়ে যায়, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রতিদিন সিলিন্ডার টানাটানি করতেও নানা ঝামেলা পোহাতে হয় তাদের। কখনো কখনো সিলিন্ডারের মিটার নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু থাকা আবশ্যক। নতুবা করোনার প্রকোপ বাড়লে অতিরিক্ত রোগীদের সামাল দিতে হিমিশিম খেতে হবে তাদের।

চিকিৎসক ও রোগীদের আশঙ্কা, করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞা ডা. আলিমুজ্জামান সেতু বলেন,কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতালে শিশু রোগীদের অনেক কষ্ট ভোগ করতে হয়। কৃত্রিম অক্সিজেনের অভাবে অনেক শিশু মারাও যায়। এখানে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ থাকলে এই ভোগান্তি থাকতো না।

আগামীতে করোনার প্রকোপ বাড়লে এই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে জটিলতা আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল গাফফার বলেন, 'এই কর্মস্থলে যোগদানের পর কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ট্যাঙ্কটিতে দুই দফায় অক্সিজেন ঢালা হয়েছে। কিন্তু ব্যবহারের আগেই সেই অক্সিজেন ফুরিয়ে যায়। কোথাও লিকেজ আছে হয়তো।'

তিনি আরও বলেন, 'বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ কোম্পানিকেও জানিয়েছি। তবে এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কোনো পক্ষ-ই। উপায় না পেয়ে আমরা বোতল অক্সিজেন দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছি।'

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে বৃহস্পতিবার ফের লংমার্চ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়ে রাহাত বলে, ‘আজ রাত ১০টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে লংমার্চ টু সচিবালয় কর্মসূচি পালন করব।’

১১ ঘণ্টা আগে

দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে সরলেন শিক্ষার্থীরা

সচিবালয় অভিমুখে ‘লংমার্চ’ নিয়ে আসা আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবনের সামনে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছিলেন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করে তারা থেকে সরে গেছেন। পরে সচিবালয় থেকে শিক্ষা ভবন পর্যন্ত উভয়মুখী সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে।

১৩ ঘণ্টা আগে

১৫ বছরে রেলে ১৩৩৪ দুর্ঘটনা, বেশির ভাগই পূর্বাঞ্চলে: রেলপথমন্ত্রী

মন্ত্রী জানান, মোট ১ হাজার ৩৩৪টি দুর্ঘটনার মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ঘটেছে ১ হাজার ৫১টি, আর পশ্চিমাঞ্চলে ২৮৩টি। তাঁর ভাষ্য, রেললাইনের ত্রুটির পাশাপাশি চাকার শার্প ফ্লেঞ্জ, গেজের অসামঞ্জস্য এবং প্রাকৃতিক কারণে লাইন বেঁকে যাওয়া বা দেবে যাওয়ার মতো কারণেও ট্রেন লাইনচ্যুত হতে পারে।

১৩ ঘণ্টা আগে

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ আদালতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোর মতো রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে গণহত্যার অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগও দায়মুক্তি পেতে পারে না।

১৪ ঘণ্টা আগে