
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ৫৫ বছরের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে মোট ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। স্বাধীনতার পর থেকে এই দীর্ঘ সময়ে ক্ষমতার পালাবদল, সামরিক শাসন, গণআন্দোলন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক নির্বাচন বর্জন— সব মিলিয়ে দেশের নির্বাচনি রাজনীতি এক জটিল ও বহুমাত্রিক অধ্যায় রচনা করেছে।
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। সদ্য স্বাধীন দেশে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ওই নির্বাচনে ১৪টি দল অংশ নিলেও জাসদ পায় ৩টি এবং নির্দলীয় প্রার্থীরা পান ৫টি আসন। তবে মাওলানা ভাসানীর শক্তিশালী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) কোনো আসন লাভ করতে পারেনি। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রথম সংসদের সমাপ্তি ঘটে।
দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন
পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৯টি দল অংশ নেয় এবং জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। ৩৯টি আসন নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসে। তবে ১৯৮২ সালে সেনাশাসন জারির মাধ্যমে দ্বিতীয় সংসদ বিলুপ্ত হয়।

তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন
সামরিক শাসনের অধীনে ১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ৭৬টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়। জামায়াতে ইসলামী পায় ১০টি আসন।
চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ নির্বাচন ছিল একতরফা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করে। জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং আ স ম রবের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত বিরোধী দল (সিওপি) ১৯টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সংসদের পতন ঘটে।
পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে প্রথম এবং দেশের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ৭৫টি দল অংশ নেয়। বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর ১৮টি আসনের সমর্থনে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ ৮৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে থাকে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়।
ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ২৭৮টি আসন পেলেও তীব্র গণআন্দোলনের মুখে মাত্র ১২ দিনের মাথায় সংসদ বিলুপ্ত হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। একই বছরের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম নির্বাচনে ৮১টি দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসন পেয়ে জাতীয় পার্টির সমর্থনে সরকার গঠন করে। বিএনপি ১১৬টি আসন নিয়ে বিরোধী দলে বসে।
অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ২১৫টি আসন (এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ১৯৩) পেয়ে ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগ ৬২টি আসন নিয়ে বিরোধী দলে যায়।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৬৩টি আসন (এর মধ্যে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩০) পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পায় ৩২টি আসন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
এরপর ২০১৪-২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে বলা হয় পাতানো নির্বাচন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আওয়ামী লীগ ২৩৪টি আসন লাভ করে, যার মধ্যে ১৫৩টি আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। জাতীয় পার্টি ৩৪টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসন পায়। বিপরীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট মাত্র ৭টি আসনে বিজয়ী হয়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এটিও বর্জন করে বিএনপি। আওয়ামী লীগ ২২৩টি আসন লাভ করে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পান ৬২টি আসন, যাদের অধিকাংশই ছিল দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একই বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সংসদের পতন ঘটে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকে গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
২০২৪ সালের ৭ আগস্ট থেকে ক্ষমতায় বসে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছর দেশ পরিচালনার পরে আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে দেশ সংস্কারের চারটি মৌলিক প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ২৯৯টি আসনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৮৩ জন।
দেশের গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান— পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম থেকে দ্বাদশ সংসদে দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ছয়বার (১৯৭৩, ১৯৯৬-জুন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) সরকার গঠন করেছে। বিএনপি চারবার (১৯৯১, ১৯৯৬-ফেব্রুয়ারি, ২০০১ ও পরোক্ষভাবে ১৯৭৯-পরবর্তী সময়ে দলীয় নেতৃত্বে) ক্ষমতায় আসে। জাতীয় পার্টি দুইবার (১৯৮৬ ও ১৯৮৮) সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদ ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী।
প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি চারবার করে এবং বিএনপি দুইবার দায়িত্ব পালন করেছে। সংসদ বিলুপ্তির ক্ষেত্রে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন, ১৯৮২ সালের সেনাশাসন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৯৬ সালের জনদাবি এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাস কেবল ভোটের পরিসংখ্যান নয়; এটি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, সংগ্রাম ও বিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল।

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ৫৫ বছরের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে মোট ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। স্বাধীনতার পর থেকে এই দীর্ঘ সময়ে ক্ষমতার পালাবদল, সামরিক শাসন, গণআন্দোলন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক নির্বাচন বর্জন— সব মিলিয়ে দেশের নির্বাচনি রাজনীতি এক জটিল ও বহুমাত্রিক অধ্যায় রচনা করেছে।
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। সদ্য স্বাধীন দেশে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ওই নির্বাচনে ১৪টি দল অংশ নিলেও জাসদ পায় ৩টি এবং নির্দলীয় প্রার্থীরা পান ৫টি আসন। তবে মাওলানা ভাসানীর শক্তিশালী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) কোনো আসন লাভ করতে পারেনি। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রথম সংসদের সমাপ্তি ঘটে।
দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন
পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৯টি দল অংশ নেয় এবং জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। ৩৯টি আসন নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসে। তবে ১৯৮২ সালে সেনাশাসন জারির মাধ্যমে দ্বিতীয় সংসদ বিলুপ্ত হয়।

তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন
সামরিক শাসনের অধীনে ১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ৭৬টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়। জামায়াতে ইসলামী পায় ১০টি আসন।
চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ নির্বাচন ছিল একতরফা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করে। জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং আ স ম রবের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত বিরোধী দল (সিওপি) ১৯টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সংসদের পতন ঘটে।
পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে প্রথম এবং দেশের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ৭৫টি দল অংশ নেয়। বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর ১৮টি আসনের সমর্থনে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ ৮৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে থাকে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়।
ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ২৭৮টি আসন পেলেও তীব্র গণআন্দোলনের মুখে মাত্র ১২ দিনের মাথায় সংসদ বিলুপ্ত হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। একই বছরের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম নির্বাচনে ৮১টি দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসন পেয়ে জাতীয় পার্টির সমর্থনে সরকার গঠন করে। বিএনপি ১১৬টি আসন নিয়ে বিরোধী দলে বসে।
অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ২১৫টি আসন (এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ১৯৩) পেয়ে ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগ ৬২টি আসন নিয়ে বিরোধী দলে যায়।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৬৩টি আসন (এর মধ্যে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩০) পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পায় ৩২টি আসন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
এরপর ২০১৪-২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে বলা হয় পাতানো নির্বাচন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আওয়ামী লীগ ২৩৪টি আসন লাভ করে, যার মধ্যে ১৫৩টি আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। জাতীয় পার্টি ৩৪টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসন পায়। বিপরীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট মাত্র ৭টি আসনে বিজয়ী হয়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এটিও বর্জন করে বিএনপি। আওয়ামী লীগ ২২৩টি আসন লাভ করে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পান ৬২টি আসন, যাদের অধিকাংশই ছিল দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একই বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সংসদের পতন ঘটে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকে গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
২০২৪ সালের ৭ আগস্ট থেকে ক্ষমতায় বসে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছর দেশ পরিচালনার পরে আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে দেশ সংস্কারের চারটি মৌলিক প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ২৯৯টি আসনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৮৩ জন।
দেশের গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান— পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম থেকে দ্বাদশ সংসদে দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ছয়বার (১৯৭৩, ১৯৯৬-জুন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) সরকার গঠন করেছে। বিএনপি চারবার (১৯৯১, ১৯৯৬-ফেব্রুয়ারি, ২০০১ ও পরোক্ষভাবে ১৯৭৯-পরবর্তী সময়ে দলীয় নেতৃত্বে) ক্ষমতায় আসে। জাতীয় পার্টি দুইবার (১৯৮৬ ও ১৯৮৮) সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদ ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী।
প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি চারবার করে এবং বিএনপি দুইবার দায়িত্ব পালন করেছে। সংসদ বিলুপ্তির ক্ষেত্রে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন, ১৯৮২ সালের সেনাশাসন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৯৬ সালের জনদাবি এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাস কেবল ভোটের পরিসংখ্যান নয়; এটি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, সংগ্রাম ও বিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল।

সিইসি বলেন, আমরা চাই— বাংলাদেশ এই যে গণতন্ত্রের ট্রেনে উঠে গেল, এই ট্রেন ইনশাল্লাহ গন্তব্যস্থলে পৌঁছাবে আপনাদের সবার সহযোগিতায়। আপনারা জানেন, ২০২৬ সালে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বড় একটা নির্বাচন দিচ্ছে বাংলাদেশ। এত বড় নির্বাচন আর এ বছরে কোথাও হয় নাই।
৫ ঘণ্টা আগে
প্রধান উপদেষ্টা একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন চেয়েছিলেন এবং এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ সে দিকেই এগোচ্ছে। মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর পর তাদের নাগরিক অধিকার ভোগ করছে। আমিও আনন্দিত। এই ভোটে আমিও শরিক হলাম।
৫ ঘণ্টা আগে
পর্যবেক্ষক মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাষ্ট্রদূত ও জাপানের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান মাসাতো ওয়াতানাবে। তিনি পূর্বে বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেছেন। ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তবে দীর্ঘদিন পর দেশে এসে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারছেন বলে জা
৬ ঘণ্টা আগে
ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তাসনিম জারা বলেন, বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের পোলিং এজেন্টদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। বের করে দেওয়া হচ্ছে। বানোয়াট কিছু নিয়ম বানিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এজেন্টরা এখানকার ভোটার নয়। পোলিং এজেন্ট হতে হলে এখানকার ভোটার হতে হবে। হেনস্তা করা হচ্ছে।
৬ ঘণ্টা আগে