সংবাদ সম্মেলনে জিএমপি কমিশনার

প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে ‘পিচ্চি রাজা’কে প্রাইভেট কারে তুলে দেন এসআই প্রবীর

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ৪৪
সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে জিএমপি কমিশনারের সংবাদ সম্মেলন। (ইনসেটে) প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া পিচ্চি রাজা। ছবি: সংগৃহীত
সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে জিএমপি কমিশনারের সংবাদ সম্মেলন। (ইনসেটে) প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া পিচ্চি রাজা। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’র পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, গাজীপুরের বাইমাইল এলাকা থেকে নয়, ঢাকার তাঁতীবাজারে প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরাই তাকে ছেড়ে দেন। এসআই প্রবীর কুমার নিজেই ভ্যানের তালা খুলে পিচ্চি রাজাকে নামিয়ে একটি প্রাইভেট কারে তুলে দিতে সহায়তা করেন। পরে গাজীপুরে তাকে ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়ার ‘নাটক’ সাজানো হয়।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) গঠন করা তিন সদস্যের পর্যবেক্ষণ কমিটির তদন্তে প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন— প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, চালক নায়েক কামাল হোসেন, কনস্টেবল জাকির হোসেন, মো. সাকিব ও শাকিল হোসেন।

সোমবার দুপুর ১২টায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত জানান জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার। তিনি বলেন, প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা টাকার বিনিময়ে পিচ্চি রাজাকে ছেড়ে দিয়েছেন। তবে কত টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ২৯ জন আসামিকে নিয়ে ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে ফিরছিল প্রিজন ভ্যানটি। পুলিশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে শৌচকর্মের কথা বলে ভ্যান থেকে পালিয়ে যান পিচ্চি রাজা। তবে তদন্তে ওই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি।

পুলিশ কমিশনার জানান, প্রকৃতপক্ষে প্রিজন ভ্যানটি ঢাকার তাঁতীবাজারে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে থামানো হয়েছিল। সেখানে ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে চাবি নেন দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার। এরপর তিনি ভ্যানের তালা খুলে পিচ্চি রাজা ও খাইরুল বাশার নামের আরেক হাজতিকে নামিয়ে আনেন।

পরে খাইরুল বাশারকে চালকের পাশের আসনে বসানো হয়। কিন্তু পিচ্চি রাজাকে নিয়ে এসআই প্রবীর কুমার আর প্রিজন ভ্যানে ওঠেননি। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভ্যান থেকে নামানোর পর আগে থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেট কারে পিচ্চি রাজাকে তুলে দেন প্রবীর কুমার। ওই গাড়িতে করেই তিনি সেখান থেকে চলে যান।

এরপর দীর্ঘ সময় প্রবীর কুমার প্রিজন ভ্যানে ওঠেননি। একপর্যায়ে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় গিয়ে তিনি আবার ভ্যানে ওঠেন। পরে অন্য পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পিচ্চি রাজা বাইমাইল এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন— এমন একটি ঘটনা সাজানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

গত ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য, তিনি ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিদের একজন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

পিচ্চি রাজার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় মামলা করা হয়। পরে মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগকে দেওয়া হয়। ওই মামলাতেই প্রবীর কুমার, কামাল হোসেন ও তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement