স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা: গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তে ডিবি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ৫৬
সোমবার দুপুরে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে হাজতখানায় নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
সোমবার দুপুরে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে হাজতখানায় নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলাটি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, সোমবার রাতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

ওই রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। মামলাটি শেরেবাংলা নগর থানায় করা হয়।

মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার গাজী নজরুলের চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এখন তাদের ডিবি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। এরপর সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় গাজী নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে তিনি তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের সময় তার বিছানার ওপর হাতে লেখা কয়েকটি চিরকুট দেখতে পান বাবা মাসুম বিল্লাহ। রোববার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো এক সময় মরিয়মের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ভিডিওটি প্রকাশের পর ‘নৈতিক স্খলনের’ প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। তবে তিনি এখনো সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনেও তিনি যোগ দেননি।

গাজী নজরুল ইসলামের ওই ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ২১ জুলাই গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।

ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি ওই জামিননামা জমা দেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা: গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তে ডিবি