জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামের ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

চট্টগ্রাম ব্যুরো
আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ০৮

জ্বালানি সংকট ও গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১০টিই বর্তমানে উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর ফলে বন্দরনগরীসহ পুরো জেলায় বিদ্যুৎ ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট।

জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় শহর ও গ্রামে দফায় দফায় লোডশেডিং করতে হয়েছে। বিশেষ করে রাউজান, জুলধা ও মাতারবাড়ীর মতো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন না মেলায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নগরের কোনো কোনো এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা এবং উপজেলা পর্যায়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। পিডিবি কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের এই ভোগান্তি কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য।

পিডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি ও সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ছিল শূন্যের কোঠায়। এরমধ্যে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সকাল-সন্ধ্যা উৎপাদনের বাইরে ছিল। এর মধ্যে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সকালে কিছু উৎপাদন মিললেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত নির্ভর করছে কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর। সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট, শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে বাড়ছে ভোগান্তি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বৈশাখ মাসের গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

ফটিকছড়ির স্থানীয়রা বলেন, দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। দোকানে অনলাইনভিত্তিক কাজ করতে হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া কাজ করা যায় না। আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।

পিডিবির চট্টগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিং কমবেশি হচ্ছে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

৪ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের শঙ্কা

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের চার বিভাগে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে অতিভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

৩ ঘণ্টা আগে

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, বিমানের সব পদোন্নতি স্থগিত

গত ৩ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শারমিন আক্তারের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে পদোন্নতি-সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ তদন্তে মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

৩ ঘণ্টা আগে

কায়রোতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

এছাড়া বিশেষ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মিশরের বিখ্যাত আল আজাহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ইত্তিহাদ’-এর সভাপতি নোমানুল করিম, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আল আমিন আকন্দ, ইয়াসমিনা টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপক ইব্রাহীম হাসান। এতে সমাপনী বক্তব্য রাখেন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গৌতম কুম

৪ ঘণ্টা আগে

জাতিসংঘে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান। একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ গণঅভ্যুত্থান জাতির দৃঢ় অঙ্গীকার ও ঐক্যবদ্ধ সংকল্পের প্রতীক।

৪ ঘণ্টা আগে