মাত্রাতিরিক্ত জেলি ফিশ, সমুদ্রে কমেছে মাছ: গবেষণা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
সমুদ্রসম্পদ নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন মঙ্গলবার তুলে দেওয়া হয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে মাত্রাতিরিক্ত জেলি ফিশের উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে এক গবেষণায়। দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানীদের নিয়ে পরিচালিত এ গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের আরেক গবেষণার তুলনায় সমুদ্রসীমায় মাছের উপস্থিতি অনেক কম পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুই হাজার মিটার গভীরেও পাওয়া গেছে প্লাস্টিকের উপস্থিতি, যাকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণা জাহাজ আর ভি ফ্রিডজফ ন্যানসেনের মাধ্যমে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেমের ওপর গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জরিপ ও গবেষণা পরিচালনা করেন বাংলাদেশের ১৩ জনসহ আট দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে এ সংক্রান্ত কমিটি। এ নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে সভায় ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বৈঠকে গবেষণা-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণির অস্তিত্ব এ গবেষণায় পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রে জেলি ফিশের আধিক্য মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে। এটি ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ। অতিরিক্ত মাছ ধরার কারণে এটি হয়েছে।

সমুদ্রে দুই হাজার মিটার গভীরতাতেও প্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যাকে গভীর উদ্বেগের কারণ হিসেবে তুলে ধরেন অধ্যাপক সায়েদুর। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের এক গবেষণার সঙ্গে তুলনায় দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বড় বড় মাছ কমে যাচ্ছে। স্বল্প গভীরে সমুদ্রেও আশঙ্কাজনকভাবে মাছ কমছে।

গবেষণার বরাত দিয়ে জানানো হয়, ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ফিশিং ট্রলার গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ করে থাকে। এর মধ্যে ৭০টি সোনারের মাধ্যমে টার্গেটেড ফিশিং করছে। এটি অত্যন্ত আগ্রাসী একটি পদ্ধতি। এর ফলে গভীর সমুদ্রে বড় মাছ যারা ধরেন, তাদের লাভ হলেও যারা স্বল্প গভীর পানিতে মাছ ধরেন তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বৈঠকে মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, এভাবে টার্গেটেড ফিশিং হলে বঙ্গোপসাগর মাছ শূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোনার ফিশিং নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

বাংলাদেশে ‘ডিপ সি ফিশিং’য়ে টুনা মাছের আধিক্য পাওয়া গেছে এবং এর সম্ভাবনাও আছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় সুন্দরবনের নিচে একটি ফিশিং নার্সারি পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দেশের স্থলভাগ যতটুকু, তার সমপরিমাণ অঞ্চল জলভাগেও আছে। কিন্তু এই সম্পদগুলো আমরা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি; এমনকি সম্পদের পরিমাণ কী, সম্ভাবনা কেমন তাও জানতে পারিনি। আমাদের এ সম্পদকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। সেজন্য পর্যাপ্ত গবেষণা, পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন হবে।

বৈঠকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির একটি বহুমুখী হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল এইচ এম এস এন্টারপ্রাইজ বর্তমানে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভেসেলটি সমুদ্রের তলদেশ, গভীরতা ও অন্যান্য সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ করবে, যা বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণা সমন্বয় করতে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এ বিষয়ে যাদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান আছে তাদের সঙ্গে গবেষণা সমন্বয় করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।’

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

ঢাবিতে পরীক্ষায় এআই ব্যবহারসহ অসদুপায়, শাস্তি ৬৪ শিক্ষার্থীর

শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরবি বিভাগের সাতজন; ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ, অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ প্রোগ্রাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং আইন বিভাগের তিনজন করে শিক্ষার্থী রয়েছেন। ভূগোল ও পরিবেশ, ইংরেজি এবং দর্শন বিভাগ থেকে শাস্তি

২ দিন আগে

মালিবাগ-মহাখালী-যাত্রাবাড়ী ও আগারগাঁওয়ে ককটেল বিস্ফোরণ

নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

২ দিন আগে

শ্রেণিকক্ষের জনমিতিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা?

বিশ্বব্যাংকের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার জনমিতিক পরিবর্তন নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে। সরকারগুলো যদি এখনই স্কুলব্যবস্থার পরিকল্পনা করে এবং এই পরিবর্তন থেকে পাওয়া সুবিধা আবার শিক্ষায় বিনিয়োগ করে, তাহলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়াকে প্রতিটি শিশুর জন্য আরও উন্নতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার স

২ দিন আগে

সব জেলা পরিষদের স্থাপনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বাধ্যতামূলক

নির্দেশনায় বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব দাপ্তরিক মূল ভবন এবং জেলা পরিষদের আওতাধীন স্থাপনাগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।

২ দিন আগে
Advertisement