ইউপি নির্বাচন আয়োজন নিয়ে বৈঠক, চূড়ান্ত হয়নি ভোটের তারিখ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
বৃহস্পতিবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে বৈঠকের পরও ভোট শুরুর তারিখ নির্ধারণ করতে পারেনি কমিশন। এইচএসসি পরীক্ষা, রমজান এবং নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির জন্য পাওয়া সময় বিবেচনায় নিয়ে আরও আলোচনা ও সমন্বয়ের পর তারিখ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আগামী বছরের ৬ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই ইউপি নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়া সবাই একমত হয়েছেন। তবে ভোট শুরুর দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ব্যাপারে আজকের সভায় আমি যদি এক লাইনে কনক্লুশন বলি, সবাই সম্মত হয়েছেন যে আমাদেরকে এই নির্বাচনটা পারতপক্ষে ৬ জুনের আগেই সম্পন্ন করতে হবে, এইচএসসি পরীক্ষার আগে।’

নির্বাচন কমিশন এর আগে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা জানিয়েছিল। তবে সেটি চূড়ান্ত সময়সূচি ছিল না। আজ ১৭ সেপ্টেম্বরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের পর সময়সূচি চূড়ান্ত করার কথা ছিল কমিশনের।

নির্বাচন কবে শুরু হতে পারে, জানতে চাইলে সানাউল্লাহ বলেন, ‘আগে তো আমাকে স্লটটা পেতে হবে নির্বাচন করার জন্য।’ তিনি জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় এই দুই মাসে নির্বাচনের জন্য খুব বেশি সময় পাওয়া যাচ্ছে না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের জন্য কিছুটা সুযোগ রয়েছে। এরপর ফেব্রুয়ারির শুরুতে রোজা শুরু হবে। রোজা শেষ হওয়ার পরপরই রয়েছে এসএসসি পরীক্ষা। আবার এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকে আগামী ৬ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগ পর্যন্তও কিছুটা সময় পাওয়া যাবে।

এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের উপায় বের করতে হবে বলে জানান সানাউল্লাহ। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আরও সমন্বয় প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্বেগের কথাও জানানো হয়েছে। সানাউল্লাহ বলেন, বন্যার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে যে ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায়নি। এর সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও বিভিন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ও রয়েছে।

পরীক্ষার কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। এসব উদ্বেগকে যৌক্তিক উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।

নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণের পাশাপাশি বাজেট পরিকল্পনাসহ আরও কিছু কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে বলেও জানান সানাউল্লাহ। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব ইউপি নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।

১২ নভেম্বর থেকে ভোটের পরিকল্পনা কি বদলাচ্ছে?

১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের যে সম্ভাব্য পরিকল্পনা আগে জানানো হয়েছিল, সেখান থেকে কমিশন সরে এসেছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, ‘মোটেও না।’

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, আগের পরিকল্পনাটি ছিল সম্ভাব্য সময়সূচি। প্রাক্‌প্রস্তুতিমূলক সভায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেটি তৈরি করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তখন জানানো হয়েছিল, ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।

সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা সামান্যতম কোনোখান থেকে সরে আসি নাই।’ বৃহস্পতিবারের বৈঠক থেকে পাওয়া তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই এবার সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

ইউপি নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই মতামত দিয়েছেন বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার। এসব মতামত এখন কমিশনের বৈঠকে পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তা ও সচিব পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ ইসি সচিব সম্পন্ন করবেন।

ইউপি নির্বাচনের বাইরে স্থানীয় সরকারের অন্য নির্বাচনগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে সানাউল্লাহ বলেন, ‘অন্যান্য নির্বাচনের ব্যাপারেও আমরা আইন অনুযায়ী যখন যেটা করার প্রয়োজন, তখন সেটা করব।’

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
ইউপি নির্বাচন আয়োজন নিয়ে বৈঠক, চূড়ান্ত হয়নি ভোটের তারিখ