এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪: ২৮
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ছবি: সংগৃহীত
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ রাজনীতি ডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফেরদৌসী আহমেদকে লিখিত নির্দেশনার মাধ্যমে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলেও দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে রাখেন। পরে তারা ওষুধ, ভ্যাকসিন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র নিয়ে যান। এরপর ভারী যন্ত্র দিয়ে কেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ওই ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। তার দাবি, এতে ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি শাহ আলী থানায় মামলা করেন।

এদিকে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডে’র কার্যক্রমের সঙ্গেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। যদিও ফেরদৌসী আহমেদ এ হামলার ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০০ থেকে ২৫০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি দা, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রাচীর টপকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তারা নিরাপত্তাকর্মী আন্দ্রিয় সরকার ও আবদুল হাইকে মারধর করে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে মূল ফটক ভেঙে ভারী যন্ত্র দিয়ে ভবনের বিভিন্ন কক্ষ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মামলায় হানিফ মিয়া (৫০) নামে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য।

এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা প্রদানের রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সরঞ্জাম, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, তিনটি স্টিলের আলমারি, সিসিটিভি ক্যামেরা, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন মালপত্র নিয়ে যায়। পরে দেয়ালে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ লেখা ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় হওয়া মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া হামলা-ভাঙচুরে ওই এলাকার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ উঠেছে, তারও তদন্ত চলছে। তিনি বিএনপির প্রয়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তদন্তের কথা জানালেও ফেরদৌসী আহমেদের নাম উল্লেখ করেননি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় নির্মোহ তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে যারা অপরাধী হিসেবে উপস্থিত ছিল, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও তা আমলে নেওয়া হবে না।

এদিকে রাড্ডা সেন্টারে ভাঙচুর ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় রাজধানীর উত্তর অংশে বিএনপির দলীয় পর্যায়েও সাংগঠনিক পরিবর্তন এসেছে। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সময়ে যুবদলসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকটি পর্যায়েও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। ভাঙচুরের পরও সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালুর চেষ্টা চলছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement