পদত্যাগের নির্দেশ পেয়ে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করলেন এমপি মিষ্টি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ২৯
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ছবি: সংগৃহীত
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ছবি: সংগৃহীত

পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তবে সাক্ষাতের সময় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্পিকারের কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাদের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। স্পিকারের দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে আগামীকাল সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

দুপুর দেড়টার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে দেখা করতে যান মিষ্টি। কয়েক মিনিট পর তিনি স্পিকারের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, তার সঙ্গে দেখা করেছি।’

পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি মিষ্টি। তিনি বলেন, ‘তদন্ত হোক। বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, তা হবে।’

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে দ্রুত পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, লিখিতভাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তাকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দলীয়ভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছালেহ শিবলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মুখোশধারী ২০০ থেকে ২৫০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। এরপর তারা কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করেন এবং ভারী যন্ত্র দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআইয়ের টিকা, টিকা দেওয়ার রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সরঞ্জাম, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, তিনটি স্টিলের আলমারি, সিসিটিভি ক্যামেরা, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন মালপত্র নিয়ে যায়। পরে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ লেখা ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়। মামলায় হানিফ মিয়া (৫০) নামে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার অভিযোগ করেন, ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ওই ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তার দাবি, ঘটনায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি শাহ আলী থানায় মামলা করেন।

ওই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা এলাকায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তবে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টি। ঘটনার পর থেকে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগেরও তদন্ত চলছে। মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে তিনি ফেরদৌসী আহমেদের নাম উল্লেখ করেননি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় নির্মোহ তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে যারা অপরাধী হিসেবে উপস্থিত ছিল, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও তা আমলে নেওয়া হবে না।

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিও গতকাল বুধবার বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সময়ে যুবদলসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকটি পর্যায়েও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। হামলা ও ভাঙচুরের পরও সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালুর চেষ্টা চলছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement