খালেদা জিয়া কখনো গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি: মির্জা ফখরুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও–১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনো গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার ৪৩ বছরের রাজনীতিতে কখনো গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি। বাংলাদেশের ৫৪ বছরে তিনি ৪৩ বছর দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, দুইবার বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন।”
বক্তব্যের শুরুতেই মির্জা ফখরুল বলেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে যারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান।
তিনি আরও বলেন, “খালেদা জিয়ার সম্পর্কে অল্প সময়ে কথা বলা কঠিন। তিনি একজন দূরদর্শিতাসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।”
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, নারীর উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাঁর সময়েই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং কৃষকদের ঋণ মওকুফের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত করতে ভ্যাট চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিস্টরা তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু পারেনি। ২৪–এর গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি মুক্ত হয়েছেন। মুক্ত হয়ে তিনি বলেছেন—প্রতিহিংসা নয়, মানুষকে ভালোবাসার মাধ্যমে কল্যাণকর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”
এ সময় প্রখ্যাত কবি আল মাহমুদ রচিত বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি কবিতার কিছু অংশও আবৃত্তি করেন মির্জা ফখরুল।

















