মেট্রোরেলে হাফপ্যান্ট পরার পালটা কর্মসূচি, আপত্তি জানাল খতমে নবুয়ত
-6d5bc4-480x270.webp)
মেট্রোরেলে হাফপ্যান্ট পরে চলাচলের পথে সাজ্জাদ হোসেন নামে এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে হয়রানির প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট ও টি-শার্ট পরে মেট্রোরেলে যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ‘শর্টস পরেই মেট্রোতে উঠি!’ শিরোনামে ফেসবুকে এ কর্মসূচির ইভেন্ট খুলেছেন শাওন আহমেদ নামে এক ব্যবহারকারী। কর্মসূচির স্থান হিসেবে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশন উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে যাওয়ার এ কর্মসূচিতে আপত্তি ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশে। সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেছেন, একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যের ‘শালীন পোশাকে’র পক্ষে অবস্থানকে কেন্দ্র করে পালটা প্রচারণা ও একই ধরনের পোশাক পরে দলবদ্ধভাবে মেট্রোরেলে ভ্রমণের পালটা কর্মসূচি ‘সুস্থ প্রতিবাদ নয়’।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মাওলানা মুহিউদ্দীন মেট্রোরেলে হাফপ্যান্ট ও টি-শার্ট পরার কর্মসূচি ঘিরে আপত্তি ও উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো নৈতিকতা ও মূল্যবোধহীন রাষ্ট্র নয়। এটি একটি ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর দেশ; এ দেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও সামাজিক আচরণের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ গভীরভাবে সম্পৃক্ত। শালীনতা, পর্দাশীলতা, ভদ্রতা ও নৈতিকতা এ দেশের মানুষের কাছে নিছক ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়; এগুলো আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অংশ।
তিনি আরও বলেন, গণপরিবহন একটি উন্মুক্ত জনপরিসর। সেখানে নিজের স্বাধীনতা ও পছন্দের পাশাপাশি অন্য যাত্রীদের ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতিও সম্মান দেখাতে হয়। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি জনপরিসরে শালীন পোশাকের বিষয়ে কাউকে সতর্ক করলে সেটিকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ পাল্টা প্রদর্শনমূলক কর্মসূচি গ্রহণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী আরও বলেন, ব্যক্তিস্বাধীনতা অবশ্যই সম্মানযোগ্য। কিন্তু ব্যক্তিস্বাধীনতা কখনোই সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। একটি ধর্মপ্রাণ সমাজে শালীনতার দাবিকে অস্বীকার করার প্রতীক হিসেবে জনসমক্ষে অশালীন পোশাককে দলবদ্ধভাবে প্রদর্শন করা কোনো সুস্থ প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। এতে মতপার্থক্য নিরসনের পরিবর্তে সমাজে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি এবং মূল্যবোধের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করা হবে। আমরা চাই অধিকার ও দায়িত্ব, স্বাধীনতা ও শালীনতা এবং আইন ও সামাজিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ।
মেট্রোরেলসহ সব গণপরিবহনে যাত্রীদের জন্য শালীনতা, সৌজন্য, পারস্পরিক সম্মান ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মসূচি পরিহার করে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও শালীনতার পরিচয় দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অন্যদিকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ‘শর্টস পরেই মেট্রোতে উঠি!’ ইভেন্টটিতে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ সাড়া দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ ফেসবুক ব্যবহারকারী ইভেন্টে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এর আগে রোববার সকালে রানিং কোচ সাজ্জাদ হোসেন তার ট্রেনিং শেষ করে স্বাভাবিক রানিং পোশাক— টি-শার্ট ও শর্টস পরে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে যান। তার পোশাককে ‘অশালীন’ বিবেচনা করে তাকে পুলিশ থামায়, জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষায় রাখে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর বলা হয়েছে।
তবে মেট্রোরেলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেট্রোরেলে চলাচলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ড্রেস কোড নেই। এ ঘটনার প্রতিবাদে রানার, অ্যাথলেট, সাইক্লিস্ট, জিমগোয়ারসহ সাধারণ নাগরিকদের স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইভেন্টের বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘এটি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির আয়োজন নয়। এটি একটি শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদ— স্বেচ্ছাচারী হয়রানির বিরুদ্ধে, স্পষ্ট নিয়মের দাবিতে, এবং যাত্রীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের পক্ষে।’
বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো পোশাক নিষিদ্ধ হলে তার স্পষ্ট ও লিখিত নিয়ম থাকা উচিত। কর্মসূচির আয়োজকদের মতে, ‘স্পোর্টসওয়্যার স্বাভাবিক, দৌড়ানো স্বাভাবিক, শর্টসও স্বাভাবিক।’ এ কর্মসূচির স্লোগান হিসেবে লেখা হয়েছে, ‘সমস্যা শর্টসে নয়, সমস্যা হয়রানিতে!’
রোববারের ওই ঘটনার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সাজ্জাদ হোসেন। ভিডিওর শুরুতে জাকির নামের নেমপ্লেটধারী এক পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘দাঁড়ান একটু চুলটা ঠিক করি।’
পরে সাজ্জাদ হোসেন হাফপ্যান্ট পরে স্টেশনে ঢুকতে না পারার কারণ জানতে চাইলে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আপনাকে বলা হয়েছে আপনি একটু শালীনতার সঙ্গে যান। এইটা একেবারে পুরোপুরি শালীনতার মধ্যে পড়ে না।’
এরপর সাজ্জাদ হোসেন প্রশ্ন করেন, ‘কোনটা শালীনতা, কোনটা শালীনতা না, সেটি আপনার নিয়মে লেখা আছে?’ জবাবে জাকির নামে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, ‘এটা দেখা আমার দায়িত্ব।’
উল্লেখ্য, অ্যাথলেট সাজ্জাদ হোসেন প্রায় ১০ বছর ধরে ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষণ করান। পাশাপাশি তিনি নিজেও নিয়মিত দৌড়ান এবং ঢাকার বিভিন্ন পার্কে ভোরবেলা দৌড়ের প্রশিক্ষণ দেন।

















-eeb4fe-256x144.webp)
