মাঝপথের ত্রুটি কাটিয়ে কক্ষপথে প্রথমবার স্টারশিপ, ২৬ স্যাটেলাইট স্থাপন

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পৌঁছেছে স্পেসএক্সের পরবর্তী প্রজন্মের রকেট স্টারশিপ। ছবি: সংগৃহীত
প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পৌঁছেছে স্পেসএক্সের পরবর্তী প্রজন্মের রকেট স্টারশিপ। ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পৌঁছেছে স্পেসএক্সের পরবর্তী প্রজন্মের রকেট স্টারশিপ। মাঝপথে একটি ইঞ্জিন অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত কক্ষপথে পৌঁছে ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক স্যাটেলাইট স্থাপন করেছে মহাকাশযানটি। তবে ইঞ্জিন সমস্যার কারণে নির্ধারিত ১০ ঘণ্টার মিশন প্রায় তিন ঘণ্টায় সংক্ষিপ্ত করা হয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিত অবতরণের মধ্য দিয়ে মিশন শেষ হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের কাছে মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলে স্পেসএক্সের স্টারবেস কমপ্লেক্স থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় ৪০ তলা ভবনের সমান উচ্চতার স্টারশিপ। এটি ছিল ২০২৩ সালের পর স্টারশিপের ১৪তম উড্ডয়ন।

স্টারশিপের নিচের অংশে ছিল সুপার হেভি বুস্টার এবং ওপরে ছিল মূল স্টারশিপ মহাকাশযান। সুপার হেভি রকেটটি স্টারশিপকে মহাকাশে পৌঁছে দেওয়ার পর নিজে ফিরে এসে উপসাগরের পানিতে নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণ করে। তবে অবতরণের সময় বুস্টারের কয়েকটি ইঞ্জিন কাজ করা বন্ধ করে দেয় বলে স্পেসএক্স জানায়।

এদিকে মহাকাশে পৌঁছানোর পর স্টারশিপের তিনটি প্রধান ইঞ্জিনের একটি নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে স্পেসএক্সের মিশন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে জানানো হয়, এ অবস্থায় মহাকাশযানটি কক্ষপথে যাওয়ার চেষ্টা করবে না।

কিন্তু কয়েক মিনিট পর প্রকৌশলীদের নতুন হিসাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত বদলায়। একটি অতিরিক্ত ইঞ্জিন ফায়ার করে স্টারশিপকে কক্ষপথে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং সফলভাবেই সেটি কক্ষপথে পৌঁছে যায়।

কক্ষপথে প্রায় ২৬৯ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছে একে একে ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক ভিথ্রি স্যাটেলাইট মহাকাশে স্থাপন করে স্টারশিপ। স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক পরে জানান, সব কটি স্যাটেলাইটই স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।

এরপর স্টারশিপের নিয়ন্ত্রিত অবতরণ শুরু হয়। প্রশান্ত মহাসাগরে নামার সময় থ্রাস্টার ব্যবহার করে মহাকাশযানটি নিজেকে উল্লম্ব অবস্থানে নিয়ে আসে। পানিতে পড়ার মুহূর্তে রকেটের নিচের অংশে আগুন জ্বলে ওঠে এবং পরে সেটি এক পাশে কাত হয়ে বড় আগুনের গোলা তৈরি হয়। মহাকাশযানটি উদ্ধারের কোনো পরিকল্পনা স্পেসএক্সের ছিল না।

স্টারশিপের জন্য বড় মাইলফলক

কক্ষপথে পৌঁছানো স্টারশিপের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি মাইলফলক। ২০২৩ সাল থেকে এর আগের ১৩টি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নই কক্ষপথে না গিয়ে সাব-অরবিটাল পর্যায়ে শেষ হয়েছিল। প্রায় এক দশকের উন্নয়নকাজে স্পেসএক্সের ব্যয় হয়েছে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

স্টারশিপকে ভবিষ্যতে স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট দ্রুত ও বড় সংখ্যায় উৎক্ষেপণের প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ফ্যালকন-৯ রকেট দিয়ে একবারে তুলনামূলক কম সংখ্যক স্টারলিংক স্যাটেলাইট পাঠানো হয়। স্পেসএক্সের দাবি, নতুন ভিথ্রি স্যাটেলাইটগুলো আগের ভিটু মিনি স্যাটেলাইটের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি ডেটা বহন করতে সক্ষম।

রুটিন কার্যক্রম শুরু হলে একবারে প্রায় ৬০টি ভিথ্রি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে স্পেসএক্সের। একই সঙ্গে নাসার আর্টেমিস কর্মসূচিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা স্টারশিপের। চাঁদের পৃষ্ঠে আবার মানুষ পাঠানো এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতিতে এই মহাকাশযানকে ব্যবহার করতে চায় নাসা ও স্পেসএক্স।

ফলে মাঝপথে ইঞ্জিনের সমস্যায় মিশনটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হলেও কক্ষপথে পৌঁছানো এবং প্রথমবার বাস্তব পেলোড স্থাপনের সাফল্য স্টারশিপের ভবিষ্যৎ ব্যবহারের পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement