সংসদে বিতর্ক-হট্টগোল, জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা মঙ্গলবার

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২: ৫৮
ঈদের ছুটির পর রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী দলীয় নেতার নোটিশ নিয়ে হট্টগোল হয়। ছবি: ভিডিও থেকে

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী দলীয় নেতার নোটিশ নিয়ে বিতর্ক ও হট্টগোল হয়েছে জাতীয় সংসদে। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতাদের বক্তব্যে সংসদে দফায় দফায় হইচই হয়। পরে বিরোধী দলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল দুই ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করেন।

ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস মিলিয়ে ১৩ দিন বিরতির পর রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় বসে সংসদ অধিবেশন। এ দিন শুরুতেই ছিল এক ঘণ্টার প্রশ্নোত্তর পর্ব। এর পরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে তার নোটিশ (মুলতবি প্রস্তাব) সংসদে উত্থাপন করে এটি নিয়ে আলোচনা করার দাবি জানান।

জাতীয় সংসদের নির্ধারিত কার্যক্রম স্থগিত রেখে কোনো বিষয়ে আলোচনা করার জন্য সংসদ সদস্যরা মুলতবি প্রস্তাব আনতে পারেন। স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার এ নোটিশ বা মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করলে সেটি নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়।

বিরোধী দলীয় নেতার নোটিশের পর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ডেপুটি স্পিকারের কাছে ফ্লোর নিয়ে বলেন, রীতি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধির পর বিরোধী দলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাব আলোচনা হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় স্পিকারকে বিধি অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদের কার্যক্রম দেখলে মনে হয়, জুলাই সনদের গণভোট বলে কিছু হয়নি। এটি সবচেয়ে বেশি জনগুরুত্বপূর্ণ, আগে এর সুরাহা হওয়া উচিত। বিরোধী দলীয় নেতার নোটিশ নিয়ে আগে আলোচনা করার অনুরোধ করেন তিনি।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এ সময় নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতার নোটিশ নিয়ে আলোচনার অনুমতি দিতে পারেন। কিন্তু প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধি সংসদ সদস্যদের অধিকার। এ দুটি কার্যসূচির জন্য বরাদ্দ দুই ঘণ্টার পর অন্য সব বিষয়ে আলোচনা আসতে পারে।

পালটাপালটি বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিরোধী দলীয় নেতার নোটিশ পেয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, রীতি অনুযায়ী ৭১ বিধির আলোচনা শেষে তিনি বিরোধী দলের নোটিশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

পরে ৭১ বিধির আলোচনা শেষে বিরোধী দলীয় নেতা তার মুলতবি প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করেন। তিনি প্রস্তাবের সঙ্গে থাকা বিবৃতি পাঠ করেন।

এ পর্যায়ে প্রস্তাবটি যৌক্তিক ও সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তবে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য সংসদ সদস্যের সামনে সংবিধান, জুলাই জাতীয় সনদ ও এর বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের কপি অবশ্যই থাকতে হবে বলে জানান তিনি। এমনকি মদিনা সনদসহ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নানা তত্ত্ব ও ১৯৭২ সালের গণপরিষদ আদেশও সংসদ সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করার অনুরোধ জানান তিনি।

বিরোধী দলীয় নেতার নোটিশকে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ উল্লেখ করলে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানান। ছবি: ভিডিও থেকে
বিরোধী দলীয় নেতার নোটিশকে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ উল্লেখ করলে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানান। ছবি: ভিডিও থেকে

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলীয় নেতার প্রস্তাবটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা কার্যপ্রণালির ৬২ বিধিতে নোটিশ দিলেও তিনি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য যে প্রস্তাব রেখেছেন, সেটি ৬৮ বিধিতে হওয়া উচিত। স্পিকার চাইলে বিরোধী দলীয় নেতাকে এটা সংশোধন করতে বলতে পারেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে বৈধভাবে নোটিশ দেওয়া হলে তারপর এ নিয়ে আলোচনা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পয়েন্ট অব অর্ডারের এ বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে হইচই করে প্রতিবাদ করেন। সরকারি দলের সদস্যরাও হইচই করলে সংসদে হট্টগোল তৈরি হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় স্পিকারের ‘প্রটেকশন’ চান। বলেন, ‘আপনি বিরোধী দলীয় সদস্যদের ফ্লোর দেবেন, অসুবিধা নাই। কিন্তু লেট মি স্পিক, আমরা যেন আগের কালচারে ফিরে না যাই। আপনি যদি আমাকে সময় না দেন, তাহলে আমি বসে যাব। এটাই বিধি।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। সে কমিটি সংসদের বাইরেও সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বিশিষ্টজন, অংশীজন, পত্রিকার সম্পাদকসহ সবার কাছ থেকে মতামত নিতে পারবে বলে জানান তিনি। বলেন, সরকার সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে চায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের পর ফের ফ্লোর নিয়ে কথা বলেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা চাইছি, আগে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় যান। তারপর এসব বিষয়ে আমরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করব।

এ পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিরোধী দলীয় নেতার নোটিশটি গ্রহণ করে এ নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত দেন। তিনি বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যে প্রস্তাবটি নিষ্পত্তি করতে হবে। সে হিসাবে ৩১ মার্চ মঙ্গলবার দিনের শেষ বিষয় হিসেবে দুই ঘণ্টা বিরোধী দলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য সময় নির্ধারণ করা হচ্ছে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাঁড়িয়ে নোটিশটি সংশোধন করে নেওয়ার জন্য আবার অনুরোধ করেন। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। এর মধ্যে মাইক ছাড়াই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলতে থাকলে সংসদে ব্যাপক হইচই হয়। এর মধ্যেই স্পিকার আবার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, ‘মাই ডিসিশন হ্যাজ বিন প্রোনাউন্সড। ৩১ মার্চ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই ঘণ্টা সময় থাকবে আলোচনার জন্য।’

ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্যের পরও সংসদে হট্টগোল চলতে থাকে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক ছাড়াই সংসদে কথা বলছিলেন। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও হইচই অব্যাহত রাখেন। এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক ফ্লোর চাইলেও তাকে কথা বলার সুযোগ দেননি ডেপুটি স্পিকার। এনসিপির নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহও ফ্লোর চান। তাদেরও ফ্লোর দেওয়া হয়নি।

এরপর দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা শুরু হলে ডেপুটি স্পিকার বিএনপির সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাককে আলোচনায় অংশ নিতে আহ্বান জানান। এ সময়ও চিফ হুইপ বক্তব্য রাখতে চাইলে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে আরও এক দফা সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

এসসিআইএ'র আন্তর্জাতিক কমিটির নেতৃত্বে ডা. চৌধুরী এইচ আহসান

চিঠি অনুযায়ী, ডা. আহসানের দুই বছরের মেয়াদ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং ২০২৮ সালের এসসিএআই'র সায়েন্টিফিক সেশন পর্যন্ত তিনি এ পদে আসীন থাকবেন। এই সময়ে ডা. আহসানকে কো-চেয়ার হিসেবে সহায়তা করবেন ডা. কওন লি।

১ ঘণ্টা আগে

জ্বালানি ঘাটতি নেই, চাহিদার চেয়ে মজুত বেশি : জ্বালানিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ চাপের মুখে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে আমরা সঠিক এবং সময়োপযোগী প্রস্তুতি নিয়েছি। দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। গত বছরের তুলনায় সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

৩ ঘণ্টা আগে

আমাদের জুলাই শেখাতে আইসেন না: নুর

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জুলাই আমরা জন্ম দিয়েছি। আমাদের সুদৃঢ় সংগ্রাম ও ত্যাগের ফলে জুলাই এসেছে। জুলাই আমাদের অস্তিত্ব। কাজেই জুলাই আমাদের শেখাতে আইসেন না।’

৩ ঘণ্টা আগে

সংসদ এলাকায় পানির সমস্যা খুব বেশি : চিফ হুইপ

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম এখনো কাজ করছে না জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, আমরা সাউন্ড সিস্টেমকে উন্নত করার চেষ্টা করছি। সেটা না পারলে নতুন সাউন্ড সিস্টেম বসানো হবে। কিন্তু এ সাউন্ড সিস্টেম যাতে কাজ করে সে চেষ্টা করা হচ্ছে।

৩ ঘণ্টা আগে