ফাঁস হওয়া ফোনালাপ সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হবে : প্রসিকিউটর

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

জুলাই অভ্যুত্থানের আন্দোলনকারীদের ওপর ‘প্রাণঘাতী’ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে আছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন’ করলে বিচারের সময় এই ফোনালাপ সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম কয়েকটি গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন। এদিন সকালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি আই ও বিবিস বাংলা জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘অনুসন্ধান প্রতিবেদন’ প্রকাশ করে।

এই প্রতিবেদনে ‘হাসিনার কথোপকথনের রেকর্ড ফাঁস’ শিরোনামে একটি অংশ আছে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘বিবিসির যাচাই করা ওই রেকর্ডিং অনুসারে শেখ হাসিনা তার নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার’ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং ‘তারা (এসব বাহিনীর সদস্যরা) যেখানেই তাদের (আন্দোলনকারী) পাবে, তারা গুলি করবে’।

বিবিসি বলছে, ‘অজ্ঞাতপরিচয় একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের ফাঁস হওয়া অডিওটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ যে তিনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গুলি করার জন্য সরাসরি অনুমতি দিয়েছিলেন। ফাঁস হওয়া অডিওটি সম্পর্কে জানেন, এমন একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, গত ১৮ই জুলাই নিজের সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে শেখ হাসিনা ওই ফোনালাপটি করেন। চলতি বছরের মার্চের শুরুতে ফোনালাপের অডিওটি কে ফাঁস করেছে, তা স্পষ্ট নয়।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের খবর সংগ্রহকারী কয়েকজন সংবাদকর্মী বিবিসির প্রতিবেদনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লেথাল ওয়েপন (প্রাণঘাতী অস্ত্র) ব্যবহার করে নিরস্ত্র মানুষকে নির্মমভাবে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ড্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নিরূপণের চেষ্টা করেছেন। হেলিকপ্টার থেকে গুলি করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। শুধু তা-ই নয়, কেপিআই (রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) স্থাপনাগুলো ধ্বংসের নির্দেশ তিনিই দিয়েছিলেন তার দলকে, যেন এর দায় ছাত্রদের ওপরে চাপানো যায়।

টেলিফোন কনভারসেশনের (শেখ হাসিনার) এই অডিও রেকর্ড তদন্ত সংস্থার হাতে এসেছে। তদন্ত সংস্থা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট ভেরিফিকেশন করে দেখেছে যে এটি জেনুইন, এটি আসামি শেখ হাসিনার ভয়েস। আমরা সেটিকে বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছি। ট্রাইব্যুনাল যদি চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন তাহলে এট দি টাইম অব ট্রায়াল (বিচারের সময়) এটিকে আমরা সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রার্থনা জানাব।’

তামিম বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি বিবিসি থেকে এই নিউজটা (শেখ হাসিনার ফাঁস হওয়া ফোনালাপ) ব্রডকাস্ট (সম্প্রচার) হয়েছে। তারাও তাদের ইনভেস্টিগেশনে এই ভয়েসের সত্যতা পেয়েছে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ১৯(৩) ধারার বিধান ব্যাখ্যা করে এই প্রসিকিউটর বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সংস্থা অথবা যেকোনো এনজিও অথবা সরকারি কোনো সংস্থা থেকে যদি কোনো রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, তাহলে ট্রাইব্যুনাল জুডিশিয়াল নোটিশ এবং কমন নলেজ থেকে এই ধরনের প্রতিবেদনকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। তার পরেও সব প্রমাণ আমরা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছি। যদি চার্জ ফ্রেম (অভিযোগ গঠন) হয়, আমরা সাক্ষ্যের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে সেসব উপস্থাপন করব।’

আগামীকাল বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলাটির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য আছে। এ মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে আসামি করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। তিন আসামির মধ্যে মামুনকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনা ও কামালকে পলাতক ঘোষণা করা হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থান চলার সময় ড্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নিরূপণ, পরিকল্পিতভাবে হেলিকপ্টার, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের পদ্ধতিগতভাবে নির্মূলসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে এই তিনজনের বিরুদ্ধে। মামলাটি ঊর্ধ্বতনের নির্দেশনার দায় বা ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র মামলা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দায়বদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পবিত্র জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আমরা নির্বাচনের আগে প্রায় সব রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে সই করেছিলাম। আগেও বলেছি, আজও বলছি— আমরা যে জুলাই সনদে সই করেছিলাম, সেই জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, অঙ্গীকারবদ্ধ।

১৪ ঘণ্টা আগে

বাজেট অধিবেশন শেষ, ২৬ কার্যদিবসে ১০ বিল পাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শেষ হয়েছে। ২৬ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা হয়েছে ১৪ কার্যদিবসে। সরকারি দলের ২০০ জনসহ মোট ৩১৬ জন সংসদ সদস্য এ আলোচনায় অংশ নেন। এ অধিবেশনে সরকারি বিল পাস হয়েছে ১০টি।

১৪ ঘণ্টা আগে

এক ‘ইউনিভার্সাল কার্ডে’ সব সেবা একীভূত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সরকারপ্রধান বলেন, সবগুলোকে একসময় আমরা একটি কার্ডের মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। সে জন্যই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি— পর্যায়ক্রমিকভাবে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানির কার্ড— সবকিছু আমরা ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ নামে একটি কার্ডের ভেতরে নিয়ে আসব।

১৪ ঘণ্টা আগে

শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে বৃহস্পতিবার ফের লংমার্চ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়ে রাহাত বলে, ‘আজ রাত ১০টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে লংমার্চ টু সচিবালয় কর্মসূচি পালন করব।’

১৫ ঘণ্টা আগে