হাদির হামলাকারীদের ধরিয়ে দিলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭: ৩৮
ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “এই হামলা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। জাতীয় নির্বাচন বানচালের যেকোনো চেষ্টাই কঠোর হাতে দমন করা হবে।”

তিনি জানান, আজকের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় রুটিন আলোচনার পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ওসমান হাদিসহ অন্যান্য জুলাইযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চলমান অভিযান আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে গঠিত অপারেশন ডেভিলহান্টের ফেজ-২ অবিলম্বে চালু করা হবে।

নির্বাচনী প্রার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এতদিন শুধু সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হতো। এখন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরাও চাইলে ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স পাবেন। পাশাপাশি, যেসব প্রার্থীর ব্যক্তিগত অস্ত্র বর্তমানে সরকারের কাছে জমা রয়েছে, সেগুলোও ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তিনি বর্তমানে ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে রয়েছেন। তিনি সব ধর্মের মানুষের কাছে ওসমান হাদির সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন।

এদিকে, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন রাজধানীতে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর ওপর গুলির ঘটনায় নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্বাচনের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

‘প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার থেকে যেন আগুনের তপ্ত হিট আসছে’

স্পিকারের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘এই যে চেয়ারটি আপনি দেখছেন, যে চেয়ারে আমি এখানে বসছি আপনার আপনার সামনে, এই চেয়ারটি খুব কঠিন একটি চেয়ার। এই চেয়ারটি দেখলে মনে হয় বসতে খুব আরাম। কিন্তু আসলে মোটেও আরামের না। এই চেয়ারটিতে বসলে প্রতি মুহূর্তে মনে হয়, আগুনের তপ্ত হিট আসছে।’

১২ ঘণ্টা আগে

এই সংবিধান লাখ লাখ শহিদের রক্তে পাওয়া: মির্জা ফখরুল

তিনি বলেছেন, “আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে আমাদের সম্মানিত এক সদস্য বলেছেন যে আমি সংবিধানকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি। হ্যাঁ, আমি করেছি, কারণ এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের আবেগ এবং ১৯৭১ সালে লাখ লাখ শহিদের রক্তের সঙ্গে জড়িত।”

১৪ ঘণ্টা আগে

দেশকে এগিয়ে নিতে উভয়পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেখানে ৩০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে এই সংসদ দেশ পরিচালনা শুরু করেছে, আমরা একটি স্থিতিশীল সরকার না রাখলে দেশকে এগিয়ে নিতে পারব না। যদি একটি স্থিতিশীল সংসদ নিশ্চিত করতে না পারি, কোনোভাবেই এই দেশকে সামনে নিয়ে যেতে পারব না। সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।”

১৫ ঘণ্টা আগে

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী— নির্বাচনের স্বার্থে আপস করেছি, জুলাই সনদেও সই করেছি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘নির্বাচনের স্বার্থে আমরা অনেক কথা বলিনি। আমাদের একটা তাগাদা ছিল যে এরা সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচনটা না হতে দেয়, সে জন্য আমরা সবকিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদেও স্বাক্ষর করেছি। আমরা একত্র হয়েছি, সমঝোতা হয়েছে।’

১৬ ঘণ্টা আগে