দুর্যোগে ধ্বংসস্তূপে খুঁজবে মানুষ, চিকিৎসাও দেবে ‘সাইবর্গ তেলাপোকা’

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৪৭
কুইন্সল্যান্ডের জায়ান্ট বারোয়িং প্রজাতির তেলাপোকার শরীরে যুক্ত করা হয়েছে ক্যামেরা ও হালকা ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম। ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্প কিংবা এ ধরনের বড় কোনো দুর্যোগে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের কাছে পৌঁছাতে কাজে লাগতে পারে তেলাপোকা আকৃতির রোবট ‘প্যারাবর্গ’। সংকীর্ণ ও বিপজ্জনক জায়গায় ঢুকে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা সহায়তাও দিতে পারবে এসব সাইবর্গ কীটপতঙ্গ।

ছয় পা-বিশিষ্ট সাইবর্গ কীটপতঙ্গ তৈরির কাজ করছেন বায়োরোবোটিকস প্রকৌশলীরা। এসব কীটপতঙ্গের শরীরে থাকবে ক্যামেরা ও ক্ষুদ্র চিকিৎসা-ইনজেক্টর। বড় ধরনের দুর্যোগে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে এগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ধসে পড়া ভবন, গুহা কিংবা উদ্ধারকারীদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ অন্য কোনো স্থানে আটকে পড়া মানুষের কাছে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এসব তেলাপোকা তৈরি করা হচ্ছে।

দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের (UQ) বায়োরোবোটিকস গবেষকেরা ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের (UNSW) বায়োমেডিক্যাল প্রকৌশলীদের সঙ্গে কাজ করে এসব ‘প্যারাবর্গ’ তৈরি করেছেন।

ইউকিউর বায়োরোবোটিকস প্রকৌশলী থাং ভো-দোয়ান বলেন, তাদের গবেষণার মাধ্যমে সাইবর্গ কীটপতঙ্গকে শুধু চলমান সেন্সর হিসেবে ব্যবহারের ধারণা থেকে এগিয়ে নিয়ে ছোট আকারের জরুরি সেবাদাতায় পরিণত করা হচ্ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।

ইলেকট্রোড-মাইক্রোচিপ বসানোর সময় অচেতন করা হলেও পরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করে সাইবর্গ তেলাপোকা। ছবি: সংগৃহীত
ইলেকট্রোড-মাইক্রোচিপ বসানোর সময় অচেতন করা হলেও পরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করে সাইবর্গ তেলাপোকা। ছবি: সংগৃহীত

ভো-দোয়ান বলেন, ‘গত দুই দশক ধরে অনুসন্ধান ও বিভিন্ন জায়গা খুঁজে দেখার কাজে সাইবর্গ কীটপতঙ্গ তৈরির চেষ্টা চলছে। আমরা এর পরের ধাপে যেতে চেয়েছিলাম। তারা কাউকে খুঁজে পাওয়ার পর আসলে তাকে সহায়তা করতে পারবে কি না, সেটিই আমরা দেখতে চেয়েছি।’

গবেষণায় উত্তর কুইন্সল্যান্ডের একটি প্রজাতি— জায়ান্ট বারোয়িং ককরোচ বা বিশাল গর্তবাসী তেলাপোকা (Macropanesthia rhinoceros) ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোর শরীরে হালকা ওজনের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও ক্যামেরা যুক্ত করা হয়।

প্রজাতিটির জন্য বিশেষভাবে তৈরি দূরনিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় ইনজেকশন ব্যবস্থাও তেলাপোকাগুলোর শরীরে বসানো হয়।

ভো-দোয়ান বলেন, ‘তাদের স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় করা গেলে, সংকীর্ণ ও ধ্বংসাবশেষে ভরা জায়গায় আটকে পড়া মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব না হলে এসব সাইবর্গ কীটপতঙ্গ সময়মতো জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে পারে।’

প্রাথমিক ধারণার কার্যকারিতা যাচাইয়ের পরীক্ষায় প্যারাবর্গগুলো কাছ থেকে ইনজেকশন দেওয়ার ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছে। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তুর ১৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে তাদের অবস্থান করানো হয়েছিল।

তবে তেলাপোকাগুলোর সম্পূর্ণভাবে পথ খুঁজে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানো এবং ইনজেকশন দেওয়ার কাজ সফল হয়েছে ৭২ শতাংশ পরীক্ষায়।

পিএইচডি গবেষক হাই নান লে বলেন, প্যারাবর্গগুলোকে সঠিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই ছিল প্রকৌশলগত বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।

তার ভাষায়, ‘সাইবর্গ কীটপতঙ্গটিকে লক্ষ্যবস্তুর দিকে যেতে হবে, সঠিক অবস্থানে থাকতে হবে এবং ইনজেকশন দেওয়ার মতো স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে হবে।’

‘অনেকের কাছেই হয়তো একটি বিশাল তেলাপোকাকে তাদের দিকে ছুটে আসতে দেখা খুব একটা সুখকর হবে না। কিন্তু আপনি যদি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকেন কিংবা কোনো গুহায় আটকে গিয়ে সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তাহলে এটি সত্যিই জীবন-মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে,’ বলেন হাই নান।

দলের আগের তৈরি সাইবর্গ কীটপতঙ্গগুলোর মতোই এসব তেলাপোকার শরীরে ইলেকট্রোড ও মাইক্রোচিপ বসানোর সময় তাদের অচেতন করে রাখা হয়। তবে হারনেস বা সরঞ্জামগুলো খুলে ফেলার পর অন্যান্য তেলাপোকার মতোই স্বাভাবিক জীবনকাল ধরে বেঁচে থাকে এগুলো।

ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ এনএসডব্লিউর সুপারিনটেনডেন্ট টিম হাসিওটিস বলেন, এই প্রযুক্তি উদ্ধারকারী দলগুলোর পৌঁছানোর সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে।

তিনি বলেন, ‘সাইবর্গ কীটপতঙ্গ যদি নিরাপদে এমন জায়গায় ঢুকতে পারে, যেখানে আমরা যেতে পারি না, সেখানে আটকে পড়া মানুষকে শনাক্ত করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে এগুলো আরেকটি মূল্যবান হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।’

ভো-দোয়ান বলেন, দীর্ঘমেয়াদে তাদের লক্ষ্য হলো বিশেষায়িত সাইবর্গ কীটপতঙ্গের দল তৈরি করা, যেখানে প্রতিটি কীটপতঙ্গ পরস্পরের পরিপূরক আলাদা দায়িত্ব পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আশা করছি, আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আমরা বাস্তব জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে সহায়তা করার জন্য সাইবর্গ কীটপতঙ্গের উদ্ধারকারী দল মোতায়েন হতে দেখতে পারব।’

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

মালিবাগ-মহাখালী-যাত্রাবাড়ী ও আগারগাঁওয়ে ককটেল বিস্ফোরণ

নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

১৭ ঘণ্টা আগে

শ্রেণিকক্ষের জনমিতিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা?

বিশ্বব্যাংকের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার জনমিতিক পরিবর্তন নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে। সরকারগুলো যদি এখনই স্কুলব্যবস্থার পরিকল্পনা করে এবং এই পরিবর্তন থেকে পাওয়া সুবিধা আবার শিক্ষায় বিনিয়োগ করে, তাহলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়াকে প্রতিটি শিশুর জন্য আরও উন্নতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার স

১৭ ঘণ্টা আগে

সব জেলা পরিষদের স্থাপনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বাধ্যতামূলক

নির্দেশনায় বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব দাপ্তরিক মূল ভবন এবং জেলা পরিষদের আওতাধীন স্থাপনাগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।

১৮ ঘণ্টা আগে

উন্নয়ন থেকে বাদ যাবে না কোনো অঞ্চল: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

জোনায়েদ সাকি উল্লেখ করেন, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে ব্যয়ও বাড়ে এবং এতে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হয়। তাই নির্ধারিত সময়ে, সাশ্রয়ী ব্যয়ে ও যথাযথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

১৯ ঘণ্টা আগে
Advertisement